kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

বেড়িবাঁধের ১০০ ফুট বিলীন, আতঙ্কে তিন গ্রামের মানুষ

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা (বাগেরহাট)   

১০ মে, ২০২০ ১৮:০৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেড়িবাঁধের ১০০ ফুট বিলীন, আতঙ্কে তিন গ্রামের মানুষ

বাগেরহাটের শরণখোলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারের বেড়িবাঁধের দক্ষিণ সাউথখালী এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। শনিবার রাত ৮টার দিকে আশার আলো মসজিদের সামনে থেকে প্রায় ১০০ ফুট বাঁধ বলেশ্বরে সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। জোয়ারের পানি ঠেকাতে তাৎক্ষণিকভাবে ওই দিন রাত থেকেই ভাঙন এলাকায় জরুরি রিংবাঁধের কাজ শুরু হয়েছে। 

এদিকে, ভাঙনের খবর পেয়ে রবিবার দুপুর ১২টার দিকে বাগেরহাট ৪ (শরণখোলা-মোরেলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন শেষে তিনি বাংলাদেশ পানি উন্নয়বোর্ডের উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের (সিইআইপি) কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরে সাথে মতবিনিময় করেন। তিনি প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের ভাঙনরোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। 

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্প ফেজ ১ (সিইআইপি ১) এর আওতায় ৬২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের টেকসই উন্নয়ন ও স্লুইসগেট নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারের শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জের কিছু অংশ নিয়ে এই বাঁধের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্প ফেজ ১ (সিইআইপি ১) এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে চায়নার 'সিএইচডাব্লিউই' নামের একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান করছে নির্মাণকাজ। এর মধ্যে সাউথখালী ইউনিয়নের বগী ও দক্ষিণ সাউথখালী এলাকায় নদী শাসন ও জমি অধিগ্রহণের জটিলতার কারণে ওই দুই কিলোমিটার বাঁধের কাজ প্রায় পাঁচ বছর ধরে থমকে আছে।

সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হোসেন জানান, প্রকল্প এলাকার মধ্যে বগী ও দক্ষিণ সাউথখালী এলাকাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নদী না করায় বার বার ভাঙনের কবলে পড়ে নিঃশ্ব হচ্ছে মানুষ। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় দাবি জানিয়ে আসলেও কর্তৃপক্ষ কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাই এখানে নদী শাসন না করে বাঁধ নির্মাণ করা হলে তা কোনো কাজে আসবে না। 

ইউপি চেয়ারম্যান আরো জানান, বাঁধে ভাঙন এবং বগী থেকে দক্ষিণ সাউথখালী আশার আলো মসজিদ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার রিংবাঁধের বিভিন্ন পয়েন্টে ফাটল দেখা দেওয়ায় বাঁধসংলগ্ন এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। বলেশ্বর নদের প্রবল পানির চাপে যেকোনো সময় ওই বাঁধ ভেঙে বগী, দক্ষিণ সাউথখালী, চালিবুনিয়াসহ তিনটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

বাংরাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের (সিইআইপি) খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফ হোসেন জানান, ৬২ কিলোমিটার টেকসই বাঁধের এর মধ্যে প্রায় ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাদবাকি কাজ জমি অধিগ্রহণের সমস্যা মিটে গেলে দ্রুত শুরু করা হবে। বিশ্ব ব্যাংকে প্রস্তাবনা পাঠানোর পর নদী শাসনের বিষয়টিও সমাধানের পথে। ভাঙন এলাকা থেকে যাতে জোয়ারের পানি ঢুকতে না পারে সে জন্য জরুরি রিংবাঁধ দেওয়া হচ্ছে। 

বাগেরহাট ৪ (শরণখোলা-মোরেলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন বলেন, আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছি। তাকে এলাকাটি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়ার পর নদী শাসনের বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি শিগগিরই ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে আসবেন বলে জানিয়েছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা