kalerkantho

শনিবার । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩১ জুলাই ২০২১। ২০ জিলহজ ১৪৪২

ইসফাকের মতো দেশে আরো মানবিক মানুষের প্রয়োজন

চাঁদপুর প্রতিনিধি   

২৮ এপ্রিল, ২০২০ ১৪:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইসফাকের মতো দেশে আরো মানবিক মানুষের প্রয়োজন

বৃদ্ধা আমিরুনেচ্ছার স্বামী নেই। তিন সন্তানের মধ্যে দুই মেয়ে শ্বশুর বাড়িতে। আর একমাত্র ছেলে নারায়ণগঞ্জে পোশাক শ্রমিক। ফলে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে গ্রামের বাড়িতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন এই বৃদ্ধা। তবে ‘মরার উপর খাড়ার গা’ হয়ে দাঁড়াল এই মূহূর্তে খাদ্য সঙ্কট। তাই মুখ ফুটে কোথাও প্রকাশ করতে পারেননি তিনি। এমন পরিস্থিতিতে অচেনা একজন মানুষের দেওয়া খাদ্য সহায়তা বৃদ্ধা আমিরুনেচ্ছার কাছে মহান আল্লাহর রহমতের মতোই মনে হলো। চাঁদপুরে মতলব উত্তরের পূর্ব ইসলামাবাদ গ্রামের এই বৃদ্ধার মতো কয়েক হাজার অসহায় মানুষের পাশে এই সময় দেবদূত হয়ে ফিরলেন তরুণ এক সমাজসেবক। শুধু মতলব উত্তরেই নয়, মতলব দক্ষিণ উপজেলার প্রতিটি গ্রামে হাজার হাজার মানুষের হাতে পৌঁছে গেছে দুর্যোগ মূহূর্তের সবচেয়ে বড় উপহার খাদ্য সহায়তা।

দেশের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। এম ইসফাক আহসান। আহসান গ্রুপের অন্যতম কর্ণধার তিনি। তার বাবা প্রকৌশলী কামরুল আহসান খসরু। মতলব উত্তরের লতারদি গ্রামে পৈত্রিক বাড়ি তাদের। তবে রাজধানী ঢাকায় বসবাস তাদের। এম ইসফাক আহসান জানালেন, গত দুই সপ্তাহ আগে তার মা বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েন। করোনার ঝুঁকিতে কোথায় চিকিৎসার জন্য মাকে নিয়ে যাবেন। সেই পরিবেশও ছিল না। তখন মা তাকে বললেন, বাবা তোমরা আমার জন্য চিন্তা করো না। গ্রামে যাও, ঘরে আটকা পড়া অসহায় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াও। 

এম ইসফাক জানালেন, মায়ের সেই আদেশ পেয়ে বাবাকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় ফিরলাম। তারপরই মায়ের কথা স্মরণ করে মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটে গেলাম।

এদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এম ইসফাক আহসানের পক্ষ থেকে এই পর্যন্ত মুঠোফোনে হেল্পলাইনের মাধ্যমে মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার ১৫ হাজার পরিবারকে উপহার হিসেবে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। যারাই হেল্পলাইনে সহযোগিতা চেয়ে কল করছেন তাদের বাড়িতে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে খাদ্য সামগ্রী। এতে করে উপকৃত হচ্ছেন প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের নানা বয়সী অসহায়-কর্মহীন মানুষজন।

এর মধ্যে মতলব উত্তর উপজেলায় ৮ হাজার পরিবার এবং মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ৭ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এমন মানবিক কার্যক্রম প্রতিদিনই চলছে। এসব খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৫ কেজি চাল, ৩ কেজি আলু, ২ কেজি ডাল, ১ লিটার তেল ও এক কেজি পেঁয়াজ।

এ বিষয়ে তরুণ সমাজসেবক এম. ইসফাক আহসান বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে চলমান লকডাউনে মানুষজন কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তাই আমি মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। যারা হেল্পলাইনে কল করছে তাদের বাড়িতে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছি।

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ১৫ হাজারেরও বেশি পরিবার এই খাদ্য উপহার গ্রহণ করেছেন। এছাড়া প্রথম ৫ হাজার পরিবারকে দেওয়া হয়েছে চাঁদপুর জেলা পুলিশের সহযোগতায়। ভবিষ্যতে আরো ১০ হাজার পরিবারকেও এই কার্যক্রমের আওতায় নেওয়া হবে। 

এম ইসফাক আহসান বলেন, যেকোন পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।



সাতদিনের সেরা