kalerkantho

রবিবার । ২১ আষাঢ় ১৪২৭। ৫ জুলাই ২০২০। ১৩ জিলকদ  ১৪৪১

ধুনটে করোনা প্রতিরোধ কার্যক্রম স্থবির

রফিকুল আলম, ধুনট (বগুড়া)   

২১ এপ্রিল, ২০২০ ০৮:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধুনটে করোনা প্রতিরোধ কার্যক্রম স্থবির

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ কার্যক্রমের সব কর্মসূচি স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাঝে সমন্বয়হীনতার অভাবে এমন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অঘোষিত লকডাউন, হোম কোয়ারেন্টিন ও সামাজিক দূরত্ব উপেক্ষিত। সবকিছু যেন চলছে আগের মতোই।

জানা গেছে, দেশে করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে এ উপজেলায় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, থানা পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, ফায়ার সার্ভিস, গ্রাম পুলিশ, আনছার ভিডিপি সদস্য ও শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক জনসচেতনতায় কঠোর ভূমিকা পালন করেছেন। ভ্রম্যমাণ আদালত পরিচালনা, অঘোষিত লকডাউন, হোম কোয়ারেন্টিন ও সামাজিক দুরত্ব, সতর্কতা মুলক প্রচার, জীবানুনাশক স্প্রে, হাট-বাজার বন্ধসহ নানামুখী কার্যক্রম সক্রিয় ছিল। কিন্ত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তাদের সব কার্যক্রমই মুখ থুবড়ে পড়েছে।  

এতে করে গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও হাট-বাজারে সামাজিক দূরত্ব কেউ মানছেন না। ক্রেতা-বিক্রেতারা একে অন্যের গা-ঘেঁষে দাঁড়াচ্ছেন। হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার রক্ষা করছেন না। ওষুধের দোকান, মুদি দোকান ও সবজির দোকান ব্যতিত সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশনা কেউ মানছেন না। প্রায় সব দোকান খোলা রেখেছে অনেকে। বিশেষ করে চায়ের দোকানে আগের মতই মানুষের আড্ডা চোখে পড়ছে। ফলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে।

এছাড়া অটোরিকসাগুলোতে গাদাগাদি করে ওঠানো হয় যাত্রী। পুলিশ টহল দেওয়ার সময় লোকজন সরে গেলেও আবার পরে ফিরে এসে চলে আড্ডা। সরকারের ঘোষণা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় সামাজিক দূরত্ব এখন কথার কথায় পরিণত হয়েছে। মানুষের মধ্যে কোনো সচেতনতা নেই। আগের মতই চলাফেরা করছেন। বিশেষ করে ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, চট্টগ্রাম শহর থেকে যারা গ্রামে আসছে তারা বাড়িতে না থেকে বাজারে আড্ডা জমাচ্ছেন। অথচ তাদের হোম কোরারেন্টিনে থাকা অনেকটাই বাধ্যতামূলক।

এ বিষয়ে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ সেলিম বলেন, সরকারি সব নির্দেশনা মানাতে লোকজনকে সচেতন করা হয়েছিল। সবাই সরকারি নির্দেশ মেনে নিয়েছিলেন। কিন্ত স্থানীয় কতিপয় অসচেতন ব্যক্তির উস্কানিতে সব কিছু আগের মতই চলছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগীতা চেয়ে পাওয়া যায়নি। উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়হীনতার কারনেই কেউ সরকারি নির্দেশ মানছেন না।

ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, পুলিশ প্রশাসন যথাযথ দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা টহল দেওয়ার সময় লোকজন সরে যায়। পরে হয়তো ফিরে আসে। সরকারি নির্দেশ অমান্যকারীদের জেল জরিমানা করার একতিয়ার পুলিশের নেই। তারপরও লোকজনকে বুঝিয়ে করোনা থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিয়া সুলতানা বলেন, করোনা সংক্রান্ত নির্দেশনা মানছে না এমন সংবাদ জানালে  জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর হতে বাধ্য হবো। করোনা থেকে সুরক্ষার বিষয়টি অনেককে বুঝিয়ে বলছি, আবার যেখানে চাপ প্রয়োগ করা দরকার সেখানে সেটাই করছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা