kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৯ জুলাই ২০২১। ১৮ জিলহজ ১৪৪২

খাদ্যের জন্য রাস্তায় বিক্ষোভ করলেন নিম্ন আয়ের মানুষ

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি   

১৬ এপ্রিল, ২০২০ ১৫:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খাদ্যের জন্য রাস্তায় বিক্ষোভ করলেন নিম্ন আয়ের মানুষ

করোনায় খাদ্যসামগ্রীর জন্য রাজশাহীর বাঘায় বিক্ষোভ করেছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। এ সময় শত শত শ্রমজীবী মানুষকে সামাজিক দূরত্ব উপেক্ষা করে সড়কে অবস্থান করতে দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টার দিকে উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়নের হরিরামপুর এলাকায় রুপপুর মোড়ে এ বিক্ষোভটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

জানা যায়, করোনাভাইরাসের কারনে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না দিনমজুররা। ঘরে অবস্থান করার মতো খাদ্যসামগ্রীও নেই তাদের। ফলে কোন উপায় না পেয়ে পেটের ক্ষুদা নিয়ে দুই শতাধিক দিনমজুর বিক্ষোভ করেন। পরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লায়েব উদ্দীন লাভলু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা, সহকারি কমিশনার (ভূমি) আলপনা ইয়াসমিন, মনিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, পাকুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেরাজুল ইসলাম মেরাজ এবং বাঘা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শান্ত করেন।

মনিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এই ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা প্রায় ২৪ হাজার, পরিবার সংখ্যা রয়েছে প্রায় ৯ হাজার। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে সরকারিভাবে প্রথম পর্যায়ে ৫০০টি পরিবার, দ্বিতীয় পর্যায়ে ২৫০টি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় পর্যায়ে ৭০০ পরিবারের মধ্যে বরাদ্দ হয়েছে। সেগুলো বিতরণের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া এই ইউনিয়নে ওএমএস এর কার্ড রয়েছে এক হাজার ২০০টি। এছাড়া শিশু মাতা কার্ড রয়েছে ৬৩টি। তবে এই ইউনিয়নে জনসংখ্যার তুলনায় খাদ্যসামগ্রী অপ্রতুল রয়েছে। কিছু দরিদ্র দিনুজুর এই মহামারারীর মধ্যে কতিপয় স্বার্থন্বেষী মানুষের প্ররোচনায় খাদ্যসামগ্রী না পেয়ে একত্রিত হয়েছিল। পরে তাদের খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার প্রতিশ্রতি দিয়ে শান্ত করা হয়েছে।’

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া লোকজন জানান, প্রায় সাড়ে তিন সপ্তাহ থেকে করোনাভাইরাসের কারণে সকল কাজ বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তারা। ফলে অনাহারে ও অর্ধাহারে দিন কাট তে হচ্ছে তাদের। এ কারণে দ্রুত খাদ্য সহায়তার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি অনুরোধ জানান তারা। 

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লায়েব উদ্দীন লাভলু বলেন, ‘ঘটনা জানার পর আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। তাদের পরবর্তীতে খাদ্য সামগ্রী দিতে চেয়ে শান্ত করা হয়েছে। তবে পরবর্তীতে বরাদ্দ আসলে খাদ্যসামগ্রী তারা পাবে। তার সাথে ওই এলাকার বিত্তবানদের সহযোগিতা করা জন্য আহবান জানাচ্ছি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, ‘ইতিমধ্যে রিকশা চালক, হোটেল শ্রমিক, ইমারত শ্রমিক, চা দোকানদার এবং ভিক্ষুকদের তালিকা করে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বাকিদের অতি দ্রুত খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। তবে একটি মহল বিশেষ উদ্দেশ্যে সামাজিক দূরত্ব না মেনে কিছু দিনমজুরদের রাস্তায় দাঁড় করিয়েছিল। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে তাদের তালিকা তৈরী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই তালিকা অনুযায়ী তাদের খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে।’



সাতদিনের সেরা