kalerkantho

রবিবার। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৭ জুন ২০২০। ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

‘চাইল-ডাইল কি পামু না, খামু কি’

জামালপুর প্রতিনিধি   

১০ এপ্রিল, ২০২০ ১৮:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘চাইল-ডাইল কি পামু না, খামু কি’

‘চাইল-ডাইল কি আমরা পামু না। খামু কি। হুনতাছি কতো মাইনসে পাইতাছে। আমার ছেলেডা অটো চালায়। এহন টাউনো অটোও চলে না। ছেলে বউ গেছেগা বাপের বাড়ি। এহন আমারে খাবার দিবো কেরা। সরকার তনে যদি কিছু টাহাপয়সা দিতো তাইলে কিছু কিনা খাবার পাইতাম। চোখের চিকিৎসাও করাইতাম। আমগরে এই গেরামের একটা মানুষও সায্য পায় নাই।’

কথাগুলো বললেন জামালপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাহপুর পূর্বফুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধা বিধবা মালতী বেওয়া (৯০)। ইজিবাইকচালক ছেলে মাসুদের কাছে থাকেন তিনি। করোনাভাইরাসের প্রভাবে তার ছেলে কর্মহীন হয়ে পড়ায় তিনি খাবার নিয়ে খুবই দুঃশ্চিন্তায় আছেন।

পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাহপুর পূর্বফুলবাড়িয়া এলাকার শুধু ওই বৃদ্ধাই নন, চলমান করোনাভাইরাসের প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া অন্তত তিন শতাধিক শ্রমজীবী দরিদ্র পরিবারের সহস্রাধিক মানুষ সবারই একই অবস্থা। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় পাঁচ হাজার কর্মহীন শ্রমজীবী পরিবারের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে জেলা প্রশাসনের বরাদ্দ থেকে মাত্র ১২৪টি পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল ও একটি করে সাবান বিতরণ করা হয়েছে। ফলে সাহপুর পূর্বফুলবাড়িয়া গ্রামের কর্মহীন দরিদ্রদের মাঝেও খাদ্য সহায়তা পৌঁছেনি। এতে করে সবগুলো পরিবারেই খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

আজ শুক্রবার সকালে ওই গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়ির বাইরে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণের জন্য অপেক্ষা করছেন শ্রমজীবী পরিবারের নারী, পুরুষ ও শিশুরা। সরকারি বিধি-নিষেধের কারণে শহরে রিকশা ও ইজিবাইক চলাচল বন্ধ রয়েছে ১৬ দিন ধরে। অন্যান্য পেশার কাজও বন্ধ রয়েছে। তারা দৈনিক মজুরিতে কাজ করতে না পারায় প্রত্যেকের সংসারে খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে। তারা সরকারি কোনো খাদ্য সহায়তাও পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন।

করাতকলের শ্রমিক আলামিন মিয়া (৩০) সংসারে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে বিপাকে রয়েছেন। দৈনিক মজুরিতে কাজ করে তিনি সংসার চালাতেন। কিন্তু লকডাউনের কবলে পড়ে করাতকল বন্ধ রয়েছে। ফলে গত ১৬ দিন ধরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খুবই মানবেতন জীবনযাপন করছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা এহনো পর্যন্ত সরকারি সায্য’র কোনো কিচ্ছু পাই নাই। ঘরে কোনো খাবার নেই। আমরা বাঁচমু কেমনে। আমাদের জীবন বাঁচানোর জন্য সরকার আমগরে একটা ব্যবস্থা কইরা দিক।’ একই গ্রামের ইজিবাইকচালক আব্দুস সালামের স্ত্রী লাকী বেগম বলেন, ‘সরকার রাস্তায় অটোডাও চালাবার দেয় না। খাওয়া বেগরে আমরা উপেস পারতাছি। সরকার আমগরে এলাকায় কিছুই দেয় না কেন? কাউন্সিলররেও কইছি। এহন আমরা বাঁচমু কেমনে।’

তাদের মতো প্রতিটি পরিবারেই খাদ্যের জন্য হাহাকার চলছে। করোনাভাইরাসের প্রভাবে ঘরবন্দি কর্মহীন ওই পরিবারগুলো জরুরি ভিত্তিতে তাদের প্রতিটি পরিবারে ত্রাণের চাল-ডাল বিতরণের আকুতি জানিয়েছেন। 

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. হেলাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই ওয়ার্ডে নিম্নআয়ের শ্রমজীবী পরিবারের সংখ্যা অন্ততপক্ষে পাঁচ হাজার। কর্মহীন হয়ে পড়ায় তারা টানা ১৬ দিন ধরে খাদ্য সঙ্কটে পড়েছে। আমিও খুব চাপে আছি। পৌরসভা থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো খাদ্য সহায়তার চাল বরাদ্দ দেওয়া হয় নাই। প্রথম পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সরকারি বরাদ্দ পাওয়া জনপ্রতি ১০ কেজি করে চালের সাথে পৌরমেয়রের দেওয়া একটি করে হাত ধোয়ার সাবান বিতরণ করেছি মাত্র ১২৪টি পরিবারের মাঝে। পরবর্তীতে আর বরাদ্দ পাইনি। বরাদ্দ পেলে ওই বৃদ্ধা মালতী বেওয়া ও ওই গ্রামের তিন শতাধিক শ্রমজীবী দরিদ্র পরিবারসহ এ ওয়ার্ডের প্রতিটি পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হবে।’   

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা