kalerkantho

বুধবার । ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩ জুন ২০২০। ১০ শাওয়াল ১৪৪১

সদর ও শিবগঞ্জের অনেক স্থানে মানা হচ্ছে না করোনা সতর্কতা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ   

৯ এপ্রিল, ২০২০ ০৮:২২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সদর ও শিবগঞ্জের অনেক স্থানে মানা হচ্ছে না করোনা সতর্কতা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মানা হচ্ছে না করোনা সতর্কতা। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নানা উদ্যোগ ও দিন-রাত প্রচারণা চালাচ্ছেন। এমনকি শাস্তি ও জরিমানা করা হলেও সচেতন হচ্ছে না সাধারণ মানুষ। দোকানের সামনে, ব্যাংকে টাকা উত্তোলনসহ বাজারে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার সতর্কতা মানছে না সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতা ও গ্রাহকরা। স্বাস্থ্য ঝুঁকি বা করোনা ভাইরাস নিয়ে যেন মাথাব্যথা নেই। তাদের একটু অসতর্কতা পুরো জেলার ক্ষতির কারণ হতে পারে, সেটারও কোনো উপলদ্ধি নেই বেশীর ভাগ মানুষেরই। সাধারণ মানুষের ভাবনাটা এমন, যেন প্রয়োজন না থাকলেও অযথাই সরকারিভাবে এসব মানতে বাধ্য করা হচ্ছে। নিজের জন্য, নিজের পরিবারের নিরাপত্তার জন্য এতসব প্রতিরোধের ব্যবস্থা, বিষয়টি যেন কোনোভাবেই মাথায় ঢুকছে না এসব মানুষদের।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার রানীহাটি ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর হাট ও শিবগঞ্জ পৌরসভার সকালের বাজার ও ব্যাংকে হাজারো মানুষের ঢল নামে। প্রতিদিনই সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলছে মানুষের ভীড়। রামচন্দ্রপুর হাটের চিত্র দেখলে মনেই হবে না দেশে বা জেলায় করোনাভাইরাস নিয়ে কোনো সতর্কতা আছে। স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা, কেনাকাটা করছেন সকলেই। এছাড়া গতকাল বুধবার সকালে সদর উপজেলার বারঘরিয়া ইউনিয়নের চামাগ্রাম হেনা উচ্চ বিদ্যালয়ে টিসিবির পণ্য বিক্রির জন্য ট্রাক পৌঁছালে সেখানে প্রায় ৩ শতাধিক নারী-পুরুষ ভীড় জমায়। ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারায় সদর মডেল থানা পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়। কিন্তু অপ্রতিরোধ্য এসব নারী-পুরুষ একইভাবে ভীড় জমায়। পুলিশ ও গ্রাম পুলিশ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে টিসিবির মালামাল কেনার বিষয়টি যথাসাধ্য চেষ্টা করলেও স্বাভাবিক করতে ব্যর্থ হয়।

সদর উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের বিপুল সংখ্যাক মানুষ ঢাকা থেকে আসলেও তাদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার কোনো বালাই নেই বলে জানান এলাকাবাসী। তবে নারায়নপুর ইউনিয়নের মহারাজনগরে কিছু সতর্কতা নেওয়া হলেও কোনো সতর্কতা বা হোম কোয়ারেন্টিন করা হয়নি ইউনিয়নের জহরপুর, নয়রশিয়া, বেলপাড়া, খলিফারচর ও নারায়নপুর বাজার এলাকায়। এলাকার নারায়নপুর বাজারে দেদারসে চায়ের স্টলে ও বিভিন্ন দোকানে স্বাভাবিকভাবেই বেচা-কেনা হচ্ছে, ভীড় জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছে মানুষ। সতকর্তা মানার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন স্থানে তথ্য দিলেও কোনো কাজ হচ্ছে না।

শহরের বাতেন খাঁর মোড়স্থ ইসলামী ব্যাংকের সামনে, শহরের কাঁঠাল বাগিচাস্থ সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখায় গ্রাহকদের প্রচণ্ড ভীড় নিত্য দিনের মতোই। কোনো সতর্ক প্রচারণাই তেমন কাজে আসছে না।

সচেতন এলাকাবাসীদের অনেকেই জানান, নারায়নপুর ইউনিয়নের প্রায় ৪০ ভাগ মানুষ ঢাকা থেকে এসেছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ করেন অনেকেই।

এ ব্যাপারে নারায়নপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো কামাল উদ্দিন জানান, এলাকার মানুষেরা অনেক আগেই ঢাকা থেকে এসেছে। তবে তাদের কাউকে হোম কোয়ারেন্টিন করা হয়নি। 

এলাকায় সতর্কতা বিষয়ে তিনি জানান, গ্রাম পুলিশ দিয়ে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। 

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন জানান, সরকারিভাবে সদর উপজেলার সকল স্থানেই করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

তিনি আরো জানান, রামচন্দ্রপুরহাট এলাকায় নিজে গিয়েই তদারকি করেছি। নারায়নপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা