kalerkantho

বুধবার । ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩ জুন ২০২০। ১০ শাওয়াল ১৪৪১

কবির সেই মৌমাছিরা এবার দিনাজপুরে

দিনাজপুর প্রতিনিধি    

৯ এপ্রিল, ২০২০ ০৮:১৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কবির সেই মৌমাছিরা এবার দিনাজপুরে

মৌমাছি মৌমাছি/কোথা যাও নাচি নাচি/দাঁড়াও না একবার ভাই/ ঐ ফুল ফোটে বনে/ যাই মধু আহরণে/ দাঁড়াবার সময় তো নাই।

কবি নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্যের সেই মৌমাছিরা এবার বাসা বেঁধেছে দিনাজপুর সদর ও বিরল উপজেলার লিচু এলাকা ও পলি বলে পরিচিত দিনাজপুর সদর উপজেলার ৬ নং আউলিয়াপুর এবং বিরল উপজেলার ১১ নং পলাশবাড়ী এই দুটি উপজেলার দুটি ইউনিয়নে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও গাছে গাছে। মৌচাকগুলো দেখার জন্য মানুষ ভিড় জমাচ্ছে।

অনুকুল পরিবেশ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মৌ পল্লী হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এই দুই উপজেলার দুই ইউনিয়নের অনেকেই এমনটাই জানিয়েছেন।

সদর উপজেলার ৬ নং আউলিয়াপুর এবং বিরল উপজেলার ১১ নং পলাশবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গ্রাম ঘুরে এই দৃশ্য দেখা গেছে।

সদর উপজেলার ৬ নং আউলিয়াপুর এবং বিরল উপজেলার ১১ নং পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে পূর্ণভবা নদী । নদীর দুই ধার পলি এলাকা হিসেবে পরিচিত। সারা বছর জুড়ে এই দুই উপজেলায় রবি শস্য চাষ হয়ে থাকে। তাই সব সময় কোন না কোন ফুল ফুটে থাকে মাঠজুড়ে। এ ছাড়াও সারা বাংলাদেশের মধ্যে লিচুর জন্য বিখ্যাত ৬ নং আউলিয়াপুর ইউনিয়ন। এখান থেকেই বাংলাদেশে লিচুর চাষ ছড়িয়ে পড়ে। অপরদিকে দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশী লিচু উৎপাদনকারী উপজেলার নাম বিরল উপজেলা। সে কারণে হয়তো সুন্দরবনসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে মৌমাছি এই এলাকায় বাসা বাঁধছে।

সদর উপজেলার ৬ নং আউলিয়াপুর ইউনিয়নের মামুদপুর দিঘীপাড়ায় মসজিদের সামনে রাস্তার উপরে একটি বট গাছে ৯ টি, ঘুঘুডাঙ্গা স্কুল এন্ড কলেজে একপি পিটালী হাছে ১৩ টি, মাসিমপুর কেবিএম কলেজ বিভিন্ন ভবনে ও গাছে ২৭ টি, সিকদারহাট শাহজালাল শাহ্ কামাল মাজারের বটগাছে ৬ টি, এবং বিরল উপজেলার ১১ নং পলাশবাড়ী ইউনিয়নের সারাঙ্গাই দত্ত পাড়া গ্রামে আসাদুজ্জামানের পুকুর পাড়ে একটি বট নগাছে ১৯ টিসহ আশে পাশে বিভিন্ন গ্রামে কোথায় ৫ টি কোথায় ৩ টি করে অসংখ্য গাছে মৌমাছির চাক দেখা গেছে।

এম আর ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের সেল্স ম্যামেনজার মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, প্রতি বছর এই মৌসুমে প্রচুর মৌ মাছি আসে এবং সাবা বেঁধে মধু সংগ্রহ করে । আবার তারা চলে যায়।

মৌমাছি ও পরিবেশ বিষয়ক গবেষক মোসাদ্দেক হোসেন জানান, এই অঞ্চলে যে মৌমাছিগুলো আসে সেগুলো অ্যাপিস সেরোনা ইন্ডিকা প্রজাতির। এ প্রজাতির মৌমাছি সুন্দরবনে মৌচাক বেঁধে মধু উৎপাদন করে থাকে। বসন্তের শুরু থেকে মৌমাছি গুলো দিনাজপুরের পলি অঞ্চল গুলোতে আসতে শুরু করে। সাধারণত যে সব এলাকায় আম, লিচুসহ রবি শস্য চাষ হয়ে থাকে। পৃষ্ঠপষকতা পেলে এবং উদ্যাক্তা তৈরি করা গেলে এই অঞ্চল গুলোতে মধু পল্লী গড়ে তোলা সম্ভব। আর এ জন্য প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা বিনিযোগ করলে ৩ থেকে ৫ লক্ষ টাকা মধুচাষ করে আয় করা সম্ভব।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন( বিসিক) দিনাজপুরের কারিগরি সহকারী মোঃ হাফিজুর রহমান জানান, মৌমাছির ধম্যই হচ্ছে যখন যে এলাকায় ফুল পাবে সে এলাকাতে মৌমাছিরা দল বেঁধে গিয়ে মধু সংগ্রহ করে থাকে। তারা নিরাপদ গাছ ও ভবন দেখে বাসা বাঁধে। ফুল মেষ হয়ে গেলে আবার তারা সুন্দরবনে চলে যায়। এই এলাকায় যেহেতু সব সময় ফুল পাওয়া যায় সেহেতু বেকার প্রশিক্ষিত যুবকরা মৌমাছি রাগিয়ে সারা বছর মধু চাষ করে সাবলম্বি হতে পারে। এই অঞ্চলে গড়ে উঠতে পারে মধুপল্লী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা