kalerkantho

শুক্রবার । ৪ আষাঢ় ১৪২৮। ১৮ জুন ২০২১। ৬ জিলকদ ১৪৪২

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর

বিভিন্ন এলাকা ‘লকডাউন’

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

৯ এপ্রিল, ২০২০ ০৭:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিভিন্ন এলাকা ‘লকডাউন’

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাইকিং করে মানুষকে সচেতন করতে ইউপি চেয়ারম্যানরা মাইকিং করছেন। স্থানীয় উদ্যোগে লকডাউন করা হয়েছে বিভিন্ন এলাকা। উপজেলার আজগানা ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম সিকদার, মহেড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. বাদশা মিঞা ও ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ মিয়া করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে গ্রামের মানুষকে সচেতন করতে, সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে এবং তাদেরকে ঘরে থাকতে অনুরোধ জানিয়ে এই মাইকিং করছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে মির্জাপুরে এক ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি নারায়নগঞ্জে বেসরকারি একটি ক্লিনিকের সিনিয়র এক ওটি বয় জ্বর, সর্দি ও কাশি নিয়ে বাড়ি আসে। তার নমুনা পরীক্ষার পর মঙ্গলবার করোনা পজেটিভ আসে এবং রাতেই প্রশাসনের উদ্যোগে তাকে কুয়েত মৈত্রীতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে সংক্রমন বাড়তে থাকায় মির্জাপুর উপজেলার গ্রামে গ্রামে স্থানীয়দের উদ্যোগে লকডাউন ও বিনা কারণে ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে মাইকিং করা হচ্ছে। গ্রামবাসীকে হাত ধুয়ে প্রবেশের পাশাপাশি বহিরাগতদের প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমনরোধে সরকারের নেয়া সতর্কতামুলক পদক্ষেপ বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ নিরলশ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গ্রামের মানুষকে ঘরে রাখতে এবং সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে প্রশাসনের সাথে একাত্মতা ঘোষনা করে জনপতিনিধি, রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবি সংগঠনগুলো খাবার সামগ্রী নিয়ে কর্মহীন পরিবারের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

আজগানা ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সিকদার তার ইউনিয়নকে সুরক্ষা দিতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। যখন তার এলাকায় সামাজিক দুরত্ব রক্ষা করা এবং মানুষকে ঘরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে ঠিক তখনই তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরে মাইকিং করেন। তিনি বিভিন্ন বাজার এবং গুরুত্বপুর্ণ রাস্তায় নিজেই মাইকিং করে মানুষকে ঘরে থাকার আহবান জানাচ্ছেন এবং মোবাইলে ফোন পেয়ে বাড়ি বাড়ি খাবার পৌছে দিচ্ছেন।

অপরদিকে মহেড়া ইউপি চেয়ারম্যান বাদশা মিঞা ও ফতেপুর ইউপি চেয়রম্যান আব্দুর রউফ এলাকায় সাপ্তাহিক হাট না বসাতে এবং মানুষকে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে ঘরে অবস্থান করতে গ্রামে গ্রামে মাইকিং করছেন।

মির্জাপুরে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির বৈরাগী ভাওড়া গ্রামটিও স্থানীয়রা লকডাউন করে দিয়েছেন। অন্যদিকে পৌরসভাসহ ১৪টি ইউনিয়নের আঞ্চলিক সড়ক ছাড়া সকল সড়ক লকডাউন করেছেন স্থানীয়রা।

অন্যদিকে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় মির্জাপুর উপজেলার গ্রামে গ্রামে স্থানীয়দের উদ্যোগে লকডাউন ও বিনা কারণে ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে মাইকিংও করা হচ্ছে।

ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম শিকদার, আব্দুর রউফ ও বাশা মিয়া জানান, মানুষ আপন। কিন্তু রোগ আপন নয়। করোনা ভাইরাস এমন একটি সংক্রমন ভাইরাস আপনজনদেরও পৃথক করে ফেলছে। এ ভাইরাস থেকে নিজে, পরিবার ও সমাজকে বাঁচাতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। সেজন্য সচেতনতামুলক প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন বলে তারা জানান।



সাতদিনের সেরা