kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

সীতাকুণ্ডে ব্যাংকের সিকিউরিটি গার্ড করোনায় আক্রান্ত

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)   

৮ এপ্রিল, ২০২০ ২৩:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সীতাকুণ্ডে ব্যাংকের সিকিউরিটি গার্ড করোনায় আক্রান্ত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক ব্যাংক সিকিউরিটি গার্ড করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বুধবার করোনা পরীক্ষায় তার শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নুর উদ্দিন রাশেদ নিশ্চিত করেছেন। এদিকে এ ঘটনার পর প্রশাসন ৬টি বাড়ি, ৩টি দোকান লকডাউন করেছে। এ ঘটনায় পুরো সীতাকুণ্ড জুড়ে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড পৌর সদর বাজারের গোডাউন রোডের কবির মঞ্জিলে পরিবার নিয়ে ভাড়ায় থাকতেন ঢাকার নারায়ণগঞ্জের কমার্স ব্যাংকের এক সিকিউরিটি গার্ড (৫০)। গত ৬ এপ্রিল তিনি নারায়ণগঞ্জ থেকে সীতাকুণ্ডে আসেন। এখানে এসে অসুস্থ বোধ করায় বুধবার সকালে তিনি নিজে একটি রিকশাযোগে সীতাকুণ্ড সরকারি হাসপাতালে গিয়ে তার করোনা পরীক্ষার নমুনা দিয়ে আসেন। রাতে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন সারা দিনে সংগ্রহকৃত নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট প্রদান করলে দেখা যায় এ ব্যাংক গার্ডের শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ফলে সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। 

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নুর উদ্দিন রাশেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা আজ মোট পাঁচজনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছিলাম। এর মধ্যে মধ্যবয়সী ওই ব্যাংক কর্মীর করোনা প্রজেটিভ এসেছে। তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি নিজে রিকশাযোগে এসে করোনা পরীক্ষার নমুনা দিয়ে গিয়েছিল। তার বাড়ি গোডাউন রোডে। এর বেশি কিছু জানি না। 

সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. ফিরোজ হোসেন মোল্লা বলেন, লোকটির আসল বাড়ি সন্দ্বীপ উপজেলায়। তার পরিবার নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন পৌর সদরের ৩নং ওয়ার্ড গোডাউন রোডের কবির মঞ্জিলে ভাড়া থাকতেন। তবে চাকরি করতেন নারায়ণগঞ্জের কমার্স ব্যাংকে। আমরা রাতে তার করোনা ধরা পড়ার খবর পেয়ে বাড়িতে এসে চারপাশ ঘিরে রেখেছি।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন রায় বলেন, লোকটির করোনায় আক্রান্ত হবার খবর শুনে আমি পুলিশ, স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নিয়ে তার বাড়ি ও আশপাশের ৬টি বাড়ি, ৩টি দোকান লকডাউন করে দিয়েছি। তাকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এখন সবাইকে আরো বেশি সতর্ক থেকে নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করতে অনুরোধ করছি। নইলে এ ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। 

এদিকে করোনায় আক্রান্ত ওই ব্যক্তি নারায়ণগঞ্জ থেকে গত কয়েক দিন আগে সীতাকুণ্ডে ভাড়া বাসায় আসার পর এলাকায় বিভিন্ন স্থানে ঘুরেছেন। এমনকি বুধবার তিনি হাসপাতালে নমুনা দিতে যাবার সময় রিকশাযোগেও বিভিন্ন স্থানে ঘুরেছেন। সীতাকুণ্ড ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পৌর সদরের ব্যবসায়ী মো. বেলাল হোসেন বলেন, শুনছি আক্রান্ত ব্যক্তি বুধবারও বাজারে ঘুরে বাজার করেছেন, রিকশাযোগে হাসপাতালে গেছেন। এভাবে এদিক ও ওদিন ঘোরাঘুরি করার কারণে আরো কতজনের মধ্যে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে তা নিয়েই উদ্বিগ্ন আমরা।

অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সীতাকুণ্ড থানার এক কর্মকর্তা বলেন, যে বাসায় ওই লোকটি থাকেন সেখানে এক পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকটি পরিবার রয়েছে। ওই পুলিশ সদস্য যেহেতু বাসায় আসা যাওয়া করতেন তাই এ ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে উঠেছে পুলিশের অন্যান্য সদস্যরা। ফলে ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া পুলিশ সদস্যকে থানায় আসতে নিষেধ করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা