kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

করোনাভাইরাসের চরম দুর্দিনে

আবারো বাড়তি মাশুল পরিশোধের চিঠি কন্টেইনার ডিপো মালিকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম    

৮ এপ্রিল, ২০২০ ০৩:০৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আবারো বাড়তি মাশুল পরিশোধের চিঠি কন্টেইনার ডিপো মালিকদের

করোনাভাইরাসের কারণে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের চরম দুর্দিন চলছে; পণ্য রপ্তানিতে নামছে ধ্বস। শিল্প-কারখানা বন্ধ রেখেছে উৎপাদন। দেশের কঠিন এই সময়ে কন্টেইনার উঠানামা ও পরিবহনে আবারো বাড়তি মাশুল আদায়ে চিঠি দিয়েছে বেসরকারি কন্টেইনার ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডা। গত সোমবার জাহাজের মেইন লাইন অপারেটরদের কাছে পাঠানো চিঠিতে বকেয়া টাকাসহ ১৫ শতাংশ বাড়তি মাশুল পরিশোধের চিঠি দিয়েছে।

এর আগেও অনেকবার বিভিন্ন কৌশলে বাড়তি মাশুল আদায়ে চিঠি দিয়েছিল বিকডা কিন্তু কন্টেইনার ডিপো ব্যবহারকারী সংগঠন বিজিএমইএ, চেম্বারগুলোর তীব্র বিরোধিতার কারণে পিছু হটে। এরপর উচ্চ আদালতে রীট মামলা করে কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেখানেও রায় বিকডার পক্ষে আসেনি। এরপর মার্চের শুরুতে শুধুমাত্র বড় তিনটি শিপিং কম্পানিকে লক্ষ করে রপ্তানি পণ্য নেয়া বন্ধ রাখে; উদ্দেশ্য সবাইকে না ক্ষেপিয়ে বড় তিনটি কম্পানিকে আয়ত্তে আনতে পারলে ১৫ শতাংশ বাড়তি মাশুল আদায় সহজ হবে। শেষ পর্যন্ত প্রচণ্ড বিরোধীতার মুখে সেই পদক্ষেপ থেকে সরে আসে বিকডা। এখন তারা এমন সময়ে বাড়তি মাশুল আদায়ের চিঠি দিয়েছে; যখন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় অচলাবস্থা চলছে।

বিকডা এমন কেন করছে জানতে চাইলে শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, চিঠি দেখে আমি বিস্মিত! দেশের অর্থনীতি এখন চরম কঠিন সময় পার করছে; করোনার পর দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা নিয়ে সবার দুশ্চিন্তায় ঘুম হারাম। ঠিক এই সময়ে বিকডা কর্তৃপক্ষে চিঠি দিয়ে বলল ১৫ শতাংশ বাড়তি মাশুলসহ বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে।

তিনি বলেন, প্রক্রিয়াগত কারণেই সবসময় এক মাসের বকেয়া বাকি থাকে কিন্তু সেটা পরিশোধের কথা না বলে তারা বাড়তি মাশুলের কথা বলায় জটিলতা তৈরি হলো। কারণ বাড়তি মাশুল তো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তারা যদি বলতো বকেয়া টাকা পরিশোধ করেন; বাড়তি মাশুল চূড়ান্তের পর পরিশোধযোগ্য হবে; তাহলে কোনো প্রশ্ন ছিল না।

জানা গেছে, রপ্তানি পণ্য কারখানায় তৈরি করে প্রথমে নিয়ে আসা হয় চট্টগ্রাম বন্দর ও আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠা ১৮টি বেসরকারি কন্টেইনার ডিপো। সেখানে কার্টনগুলো কন্টেইনারে ভর্তি করা হয় কাস্টমসের উপস্থিতিতে। এরপর সেখান থেকে রপ্তানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার জাহাজীকরণের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের ভেতর নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে জাহাজে করে বিশ্বের বিভিন্ন ক্রেতার কাছে পণ্যটি পৌঁছে যায়। মূলত বন্দরের সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে এই ডিপোগুলো।

গতকাল বিকডার পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে সরকারি ছুটিতে ডিপোগুলো বিশেষভাবে সচল রেখেছে। এই সচল রাখতে গিয়ে ডিপো পরিচালনায় বাড়তি খরচ হচ্ছে। জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় আমরা নগদ টাকার সংকটে ভুগছি। এই পরিস্থিতি উত্তরণে তিন মাসের বকেয়া টাকাসহ ১৫ শতাংশ বাড়তি মাশুল পরিশোধের অনুরোধ জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে জানতে বিকডা সভাপতি নুরুল কাইয়ুম খানকে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি। পরে সংগঠনের সচিব রুহুল আমিন সিকদারকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে তাদের মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

জাহাজ কম্পানি কর্মকর্তারা জানান, এর আগে গত ১১ মার্চ  বাড়তি মাশুল আদায়ের জন্য যে তিনটি কম্পানির কন্টেইনারে রপ্তানি পণ্য পরিবহন বন্ধ করে দিয়েছে, সেগুলো হলো ডেনমার্কভিত্তিক বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিপিং লাইন মায়ের্সক, হংকংভিত্তিক গোল্ড স্টার লাইন এবং ওরিয়েন্ট ওভারসিজ কনটেইনার লাইন। বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের আনুমানিক ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ এই তিন প্রতিষ্ঠানের কন্টেইনারে করে বিদেশি ক্রেতাদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

ডিপোতে রপ্তানি পণ্য পাঠিয়ে তা বিদেশি ক্রেতাদের পণ্য পরিবহনের প্রতিনিধি ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারদের হাতে তুলে দেন রপ্তানিকারকেরা। ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) পরিচালক খায়রুল আলম সুজন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেখানে চট্টগ্রাম বন্দর করনোভাইরাসের ক্ষতি কাটাতে স্টোর রেন্ট মাফ করছে; সরকার ৭২ হাজার কোটি টাকার প্রনোদনা দিচ্ছে; এই দুঃসময়ে এটি খুবই অমানবিক কাজ করল বিকডা। তাদের বকেয়া আমরা পরিশোধ করব কিন্তু ১৫ শতাংশ বাড়তি মাশুল পরিশোধের শর্ত জুড়ে দেওয়াটা মেনে নেওয়া যায় না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা