kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

কর্মহীন অসহায় গরিবদের সাহায্যার্থে

এক বছরের সম্মানী ভাতা দান করলেন চেয়ারম্যান

মোবারক হোসেন, সিঙ্গাইর (মানিকগঞ্জ)   

৮ এপ্রিল, ২০২০ ০২:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এক বছরের সম্মানী ভাতা দান করলেন চেয়ারম্যান

আব্দুল মাজেদ খাঁন

জনপ্রতিনিধিদের সম্পর্কে সমাজে অনেক নেতিবাচক ধারণা চালু রয়েছে। দুস্থদের ভাতার টাকা ও ত্রাণসামগ্রী আত্মসাৎ করার অভিযোগে প্রায়ই জনপ্রতিনিধিরা সংবাদপত্রের শিরোনাম হন। কিন্তু দেশে বহু জনপ্রতিনিধি রয়েছেন যারা সব সময় দেশ ও জাতীর ক্রান্তিকালে এগিয়ে আসেন। অভাবগ্রস্ত মানুষের কল্যাণে বিলিয়ে দেন নিজের অর্থ সম্পদ। এমন একজন জনপ্রতিনিধির খোঁজ মিলেছে। তিনি হলেন, মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মাজেদ খাঁন। চলমান করোনাভাইরাসের প্রভাবে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা যখন বিপন্ন, ঠিক সেই সময় কর্মহীন অসহায় গরিবদের সাহায্যার্থে এক বছরের সম্মানী ভাতার টাকা জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিলে দান করে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। গতকাল ভাতার ১ লাখ ২০ হাজার টাকার চেক জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌসের হাতে তুলে দেন এই সমাজ হিতৈষী ইউপি চেয়ারম্যান।

মানিকগঞ্জ জেলা প্রসাশকের ফেসবুক পেজ (DC Office Manikganj) থেকে গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে এই তথ্যটি প্রকাশ করা হয়। জেলা প্রসাশকের ফেসবুক পেজের স্ট্যাটাসটি নিম্নে তুলে ধরা হলো- বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আব্দুল মাজেদ খান, চেয়ারম্যান, বলধারা ইউনিয়ন পরিষদ, সিঙ্গাইর, মানিকগঞ্জ। একজন দানবীর এবং উদার চিত্তের মানুষ বটে। মানুষের সুখে যেমন পাশে থাকেন, মানুষের বিপদেও পাশে থাকতে ভুলে যান না। ১৯৭১ সালে তিনি যেমন মৃত্যু ভয় না করে দেশের মানুষের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছিলেন, তেমনি বর্তমানে এই বিপর্যয়ের সময়েও যুদ্ধে নেমেছেন করোনা প্রতিরোধে। তার বাৎসরিক সম্মানী ভাতা ১ লাখ ২০ হাজার টাকার পুরোটাই জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিলে দিয়ে দিলেন। 

জনহিতৈষী, বিত্তবান যারা আছেন তাদের জন্য সুযোগ রয়েছে ‘জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিল’ (চলতি হিসাব নং-4506202001508, সোনালি ব্যাংক, মানিকগঞ্জ শাখা) এ অনুদান প্রদান করতে। আপনার অনুদানে দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষগুলোর ঘরে পৌঁছে যাবে ত্রাণ সহায়তা।

হাজী আব্দুল মাজেদ খান উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের ৬ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। তিনি মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে অধ্যয়নকালে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় কারাবন্দি স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে পা রাখেন। ১৮ বছর বয়সে স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৩ সালে ইউনিয়ন পরিষদের প্রথমবারের মতো ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি।

ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মাজেদ খান বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সারা দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। আজ প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ডাকে সারা দিয়ে করোনাযুদ্ধে নেমেছি। চেষ্টা করছি অসহায় মানুষের পাশে থাকার। অভাবগ্রস্তদের সাহায্যার্থে আমার এক বছরের সম্মানী ভাতা জেলার ত্রাণ তহবিলে দান করেছি। এছাড়া এলাকার কর্মহীন ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। আশা করছি করোনাযুদ্ধেও বিজয়ী হবো।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা