kalerkantho

শনিবার । ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩০  মে ২০২০। ৬ শাওয়াল ১৪৪১

কাস্টমস সচল, ব্যাংকিং কর্মঘণ্টা বাড়ানোর সুফল

বন্দর থেকে ভোগ্যপণ্য সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

৮ এপ্রিল, ২০২০ ০০:১৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বন্দর থেকে ভোগ্যপণ্য সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে

করোনাভাইরাসের সময় টানা সরকারি ছুটিতে চট্টগ্রাম বন্দরের ভেতর পণ্য উঠানামা পুরোপুরি সচল থাকলেও বন্দর থেকে পণ্য সরবরাহে ধ্বস নেমেছে। সাধারণ সময়ে দিনে গড়ে চার থেকে সাড়ে চার হাজার একক কন্টেইনার বন্দর থেকে বের হয়ে দেশের বিভিন্নপ্রান্তে গেলেও ২৬ মার্চের পর তা এক তৃতীয়াংশে নেমেছিল। তবে সুখবর হচ্ছে গত দুদিনে বন্দর থেকে পণ্যভর্তি কন্টেইনার সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে; যদিও তা সন্তোষজনক নয়।

এর কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, মূলত পণ্য শুল্কায়নে জড়িত চট্টগ্রাম কাস্টমসে কাজের পরিধি আগের চেয়ে বৃদ্ধি, বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যাংকিং লেনদেনের কর্মঘণ্টা বাড়ানো, ভোগ্যপণ্য খালাসে উদ্ভিদ সংগনিরোধ অফিস সচল হওয়া এবং সরকারি আনবিক শক্তি কমিশনের অফিস আংশিক সচল হওয়ার কারণেই পণ্য উঠানামা কিছুটা বেড়েছে। 

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলছেন, ২৬ মার্চ ছুটি শুরুর সময় থেকেই বন্দরের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো সচল রাখার নির্দেশনা থাকলে পণ্য সরবরাহে জটিলতা এড়ানো যেত। তবে এখন সরকারি ছুটি লকডাউনের মধ্যেও যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভোগ্যপণ্য আমদানি করে বাজারে সরবরাহ করছেন; তাদেরকে আমাদের স্যালুট। কারণ তাদের কারণেই আজ পর্যন্ত বাজারে এখনো পণ্যের সরবরাহ সংকটে পড়েনি। আমরা চাইবো করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে জয়ী না হওয়া পর্যন্ত তারা দেশের স্বার্থে এই কাজটি করে যাবেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের হিসাবে, গত ২৬ মার্চের পর থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ১২ দিনে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক ২ হাজার ১৮৫ একক আমদানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার বন্দর থেকে সরবরাহ নিয়ে গেছেন ব্যবসায়ীরা। এদের মধ্যে একটি অংশই হচ্ছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কন্টেইনারে আনা কাঁচাপণ্য ও রমজানের ভোগ্যপণ্য। আর সবচেয়ে কম কন্টেইনার বন্দর থেকে সরবরাহ হয়েছে ২৮ মার্চ মাত্র ৯০৬ একক। 

জানতে চাইলে বিদেশি শিপিং কম্পানি জিবিএক্স লাইনের হেড অব অপারেশন মুনতাসির রুবাইয়াত কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ছুটির সময় পণ্য ডেলিভারিতে বন্দরের স্টোর রেন্ট মাফ করার মতো ভালো উদ্যোগ নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এই সুবিধা নিতেই গিয়ে বন্দর থেকে পণ্য সরবরাহ বেড়েছে; আগামী দিনে হয়তো আরো বাড়বে। এর সঙ্গে কাস্টমস ও ব্যাংকের কর্মঘণ্টা বাড়ানোর বিষয়টি যুক্ত আছে।’

তিনি বলেন, এখন আমদানিকারকরা রমজানের পণ্যই সরবরাহ নিচ্ছেন বেশি; এতে তাদের বন্দরে পণ্যভর্তি কন্টেইনার রাখার খরচ কমল। আর রমজানের আগে বাজার সরবরাহ ভালো থাকার সুযোগ তৈরি হলো; দামটাও স্থিতিশীল থাকবে আশা করছি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ২৬ মার্চ থেকে সরকার যখন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে তখন চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে সম্পূর্ণ প্রস্ততি নেওয়া হয়। শিপিং এজেন্ট, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার অফিসগুলো জরুরিভিত্তিতে দুই ঘণ্টা খোলা রেখে কাজ সম্পাদনের প্রস্ততি নেওয়া হয়। বন্দরের বার্থ অপারেটর, টার্মিনাল অপারেটর এবং কন্টেইনার ডিপোগুলো সচল রাখার প্রস্তুতি নেয়। সেইসঙ্গে পণ্য শুল্কায়নে জড়িত চট্টগ্রাম কাস্টমস শুধুমাত্র জরুরি নিত্যপণ্য, জরুরি চিকিৎসা ও অন্য সেবাসামগ্রী শুল্কায়নের জন্য খোলা রাখা হয়। 

এর সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের আদেশে ব্যাংকিং লেনদেন দুই ঘণ্টা নির্ধারণ করা হয়। এর সঙ্গে সরকারি কৃষি বিভাগের উদ্ভিদ সংগনিরোধ দপ্তর, আনবিক শক্তি কমিশনের অফিস খোলা না থাকায় আমদানি ফল ও খাদ্যপণ্য খালাসে জটিলতা তৈররি হয়। এরপর বন্দরে পণ্যভর্তি কন্টেইনার জমতে থাকে আর কন্টেইনার বন্দর থেকে বের হতে অচলাবস্থা তৈরি হয়। এই কারণে ছুটির দুদিন পরই ২৮ মার্চ কন্টেইনার সরবরাহ ৯০৬ এককে নেমে আসে। 

এরপর চট্টগ্রাম চেম্বারের পক্ষ থেকে উক্ত জটিলতা নিরসনে বেশ কিছু দাবি দেওয়া হয়। এতে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাংকিং লেনদেন বাড়িয়ে তিন ঘণ্টা নির্ধারণ করা হয়; একইসঙ্গে বৈদেশিক বাণিজ্যিক লেনদেনের সময়ও বাড়ানো হয়। চট্টগ্রাম কাস্টমসকে সীমিত পরিসরে কাজ চালুর নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়। আর উদ্ভিদ সংগনিরোধ দপ্তর, আনবিক শক্তি কমিশনের অফিস সচল রাখার ফলে উক্ত নিত্যপণ্য বন্দর থেকে সরবরাহে গতি আসে।

চট্টগ্রামের কাঁচাপণ্যের আমদানিকারক ফরহাদ ট্রেডিংয়ের মালিক নুর হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ব্যাংকিং কর্মঘণ্টা বাড়ানো এবং কাস্টমসের কাজের পরিধি বাড়ানোর কারণে ছুটির সময়ে এখন আগের চেয়ে দ্রুত পণ্য ছাড় করা যাচ্ছে। বাজারে এখন বেচাকেনা নেই; এরপরও আমরা দেশের মানুষের জন্য চেষ্টা করছি বাজারে যাতে ওই পণ্যে কোনো সরবরাহ সংকটের সৃষ্টি না হয়। সরকার প্রথম থেকেই এই সিদ্ধান্ত দিলে বন্দরে কন্টেইনার জটে পড়তে হতো না।  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা