kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৬ জুলাই ২০২০। ২৪ জিলকদ ১৪৪১

বাড়ির দরজায় বোমাসদৃশ্য বস্তু, ঘিরে রেখেছে র‌্যাব-পুলিশ

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি   

৭ এপ্রিল, ২০২০ ১৭:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাড়ির দরজায় বোমাসদৃশ্য বস্তু, ঘিরে রেখেছে র‌্যাব-পুলিশ

ঈশ্বরদীর পাকশী ইউনিয়নের দিয়াড় বাঘইলের হাজি পাড়ার করিমের মিল সংলগ্ন ক্লাব মোড়ের দুই বাড়ির দরজায় দূর্বৃত্তরা দ্বারা বোমা সাদৃশ্য বস্তু রাখার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকাল ৮ টা থেকে রাস্তা বন্ধ করে বাড়ি দুটি ঘিরে রেখেছে র‌্যাব, পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা। পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পাবনা পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার, ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির ও পাকশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাস। খবর দেওয়া হচ্ছে র‌্যাবের ঢাকাস্থ বোমা নিষ্কৃয় দলকে। ঢাকা থেকে দলটি আসার পর এগুলো নিষ্কৃয় করার পর বোঝা যাবে এগুলো আসল বোমা না বোমা সদৃশ অন্যকোন বস্তু। এই জন্য করা হচ্ছে অপেক্ষা। 

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ঈশ্বরদীর পাকশী ইউনিয়নের দিয়াড় বাঘইল গ্রামের মৃত আমছের প্রামানিকের ছেলে শফিকুল ইসলাম প্রামানিক ও মৃত খলিল প্রামানিকের ছেলে আব্দুল গাফফার প্রাং ও বাবু প্রামানিকের বাড়ির দরজার সামনে পলিথিনে মোড়ানো ইলেকট্রিক মোটা তার ব্যাটারির সঙ্গে যুক্ত করে তারের অপর প্রান্তে বোমা সাদৃশ্য বস্ত রাখা রয়েছে। 

এলাকাবাসীদের সূত্রে জানা যায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত বিভিন্ন কোম্পানির বিদেশি নাগরিকসহ এদেশীয় শ্রমিক কর্মচারীরা বসবাস করছেন। বাড়ির দরজায় বোমা পেতে রাখার খবরটা অনেকটায় ভয় ও আতঙ্কের।

প্রতিবেশী ইসমাইল প্রামানিকের ছেলে নিজাম প্রামানিক জানান, কে বা কারা ব্যাটারির সঙ্গে বৈদুতিক তারের সংযোগ দিয়ে অপর প্রান্তে বোমা সাদৃশ্য বস্তু শফিকুল ও গাফফার প্রামানিকে বাড়ির দরজায় রাতের আধারে রেখে যায়। সকালে বিষয়টি নজরে আসার পর থানায় খবর দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, শফিকুল ও গাফফার খুবই সহজ সরলভাবে জীবন যাপন করেন। তাঁদের সঙ্গে কারও দ্বন্দ রয়েছে এমন খবর তাঁর জানা নেই। 

বাড়ির মালিক শফিকুল ইসলাম জানান, কে বা কারা গত বছরের ৮ জুন তাঁকে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে উড়ো চিঠি পাঠায়। এরপর গত চারদিন পূর্বে তাঁর বাড়ির সামনে পেট্রল ঢেলে রেখে যায়। তবে কারা কেনো এসব করছে তা তিনি সঠিকভাবে বলতে পারছেন না। এসব ঘটনায় তিনি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান। 

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহাউদ্দিন ফারুকী জানান, ওই গলির রাস্তাটি বন্ধ করে জনসাধারণের চলাচল বন্ধ করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবস্থান নেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনার আসল কারণ এখন জানা সম্ভব হয়নি। কাউকে গ্রেপ্তার করাও সম্ভব হয়নি।
 
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির জানান, ঢাকাস্থ র‌্যাবের বোমা নিস্ক্রিয় দলকে খবর দেওয়া হয়েছে, তারা এলে এটি নিস্ক্রিয় করতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তারপরই বোঝা যাবে এগুলো আসল বোমা না বোমা সদৃশ্য বস্তু।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা