kalerkantho

সোমবার । ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ১  জুন ২০২০। ৮ শাওয়াল ১৪৪১

মির্জাপুরে নিষেধাজ্ঞা মানছে না মানুষ

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

৬ এপ্রিল, ২০২০ ০৫:০৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মির্জাপুরে নিষেধাজ্ঞা মানছে না মানুষ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মানুষ ঘরের বাইরে এসে হাটবাজারগুলোতে ভিড় জমিয়ে কেনাকাটা করছে প্রতিনিয়ত। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকারের নেওয়া সতর্কতামূলক পদক্ষেপ মানছে না উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ। 

এছাড়া নিষেধাজ্ঞা না মেনে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শত শত বিদ্যুৎচালিত রিকশা উপজেলা সদরসহ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলাচল করছে। ওইসব রিকশায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ চলাচল করায় ঝুঁকি আরো বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় শুক্রবার (৩ এপ্রিল) উপজেলা সদরের হাটসহ তিনদিনে চারটি হাট ভেঙে দেয় প্রশাসন। এখানকার হাটবাজারগুলোতে জনসমাগম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে গ্রামের বাজারগুলোতে মানুষের উপস্থিতি বেশি। সর্বত্র উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী নিয়মিত টহল এবং বিভিন্ন সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও মানুষকে ঘরে রাখতে পারছে না। 

প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশের পক্ষ থেকে এলাকায় একাধিকবার মাইকিং ও জনসচেতনতামূলক প্রচারনার মাধ্যমে মানুষকে ঘরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলার ১টি পৌরসভা এবং ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সকল সাপ্তাহিক হাট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এরপরও কোনো কোনো এলাকায় ব্যাপক লোকসমাগম ঘটিয়ে হাট বাজার বসানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। উপজেলা সদর, দুল্যা বেগম, কুতুববাজার, বাবুবজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে মানুষ ভিড় জমিয়ে কেনাকাটা করছে। তাছাড়া উঠতি বয়সের ছেলেরা অহেতুক রাস্তায় মোটরসাইকেল চালিয়ে ঘোরাফেরা এবং জমায়েত হয়ে আড্ডা মারতে দেখা গেছে।

শুক্রবার ছিল মির্জাপুর সদরে হাটবার। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সায়েদুর রহমান অভিযান চালিয়ে হাট ভেঙে দেন। এছাড়া শনিবার দুপুরে সদরের বাজারে অভিযান চালিয়ে মিষ্টি ব্যবসায়ী কৃষ্ণ ঘোষকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

মির্জাপুর উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক শামীম আল মামুন জানান, আমাদের দেশসহ সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। আমাদের সরকারও করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দেশবাসীকে সরকারের নির্দেশনা মেনে পরিবার নিয়ে ঘরে থাকার অনুরোধ করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গত তিন দিনে উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের পাথরঘাটা এবং আজগানা ইউনিয়নের হাটুভাঙ্গা, বহুরিয়া এবং উপজেলা সদরের সাপ্তাহিক হাট ভেঙে দেওয়া হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসমাগ্রী কেনার জন্য নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখতে এলাকাবাসীর প্রতি আহবান জানান তিনি। 

তাছাড়া মানুষ যাতে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলে সেজন্য উপজেলা প্রশাসনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা