kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

ধুনটে যুবলীগ নেতার মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল

রফিকুল আলম, ধুনট (বগুড়া)   

৫ এপ্রিল, ২০২০ ১২:৫৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধুনটে যুবলীগ নেতার মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় মাদক কারবারের অভিযোগে বহিস্কৃত যুবলীগ নেতা ও ইউপি সদস্য জুয়েল সরকারের ইয়াবা সেবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তিনি উপজেলার ধেরুয়াহাটি গ্রামের মোনছের আলীর ছেলে এবং মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ৪৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায় জুয়েল সরকার একটি ঘরের বিছানায় বসে সামনে মোমবাতি জ্বালিয়ে রেখে ইয়াবা সেবন করছেন। তার এই ভিডিওটি কে বা কারা কৌশলে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ছেড়ে দিয়েছে। ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকার মানুষের কাছে এটি একটি আলোচিত ঘটনা। 

ইয়াবা সেবনের ৪৪ সেকেন্ডের ভিডিও ভাইরাল করার সন্দেহে প্রভাষক মামদুদুর রহমান মইনুল ও শিক্ষার্থী জাকির হোসেনকে হুমকি দিয়েছেন জুয়েল সরকার। এ ঘটনায় জুয়েল সরকারের বিরুদ্ধে ২২ মার্চ ও ৩১ মার্চ থানায় পৃথক ২টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থী জাকির হোসেনকে পিটিয়েছেন জুয়েল সরকার। এই অভিযোগ ২টি তদন্ত করছেন পুলিশ। 

হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান জুয়েল সরকার ঢাকায় রিকসা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি ২০১০ সালে গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন। ২০১৩ সালে মথুরাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য পদ নিয়ে রাজনীতিতে যোগ দেন। ২০১৪ সালে বাগিয়ে নেন মথুরাপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদক কারবার করে তার ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে থাকেন। অল্পদিনের মধ্যেই তিনি অবৈধপথে আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল হয়ে ওঠেন।  

তিনি ২০১৬ সালে মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর তার দাপট আরো বেড়ে যায়। এলাকায় মাদক সস্রাট হিসেবে পরিচিতি পান জুয়েল সরকার। পুলিশ ২০১৯ সালের ৫ মে অভিযান চালিয়ে তার বাড়ি থেকে ইয়াবা জব্দ করে। ওই সময় ঘটনাস্থল থেকে জুয়েলের সহযোগী রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় কৌশলে পালিয়ে যান জুয়েল সরকার।  

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে জুয়েল সরকারসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকতা ২০১৯ সালের ২৬ জুন জুয়েল সরকারসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। 

উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ভিপি শেখ মতিউর রহমান বলেন, জয়েল সরকারের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় মামলা দায়ের হওয়ায় ২০১৯ সালের ১০ মে তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।  

যুবলীগ নেতা জুয়েল সরকার বলেন, আমি একসময় মাদকদ্রব্য সেবন করেছি। কিন্ত কোনো দিন মাদক কারবার করিনি। ২০১২ সালে আমার এক ঘনিষ্ঠজন ইয়াবা সেবনের ভিডিও কৌশলে মোবাইল ফোনে ধারণ করে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করে। তারপর থেকে আমি আর মাদকদ্রব্য সেবন কিংবা কারবার করিনি। তারপরও প্রতিপক্ষ পুরনো ভিডিও নতুন করে প্রচার করে আমাকে হয়রানি করছে। 

ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, জুয়েল সরকারের বিরুদ্ধে প্রভাষককে হুমকি ও শিক্ষার্থীকে মারপিটের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। তার মাদক সেবনের একটি ভিডিও অনেক দিন থেকে ভাইরাল হওয়ার কথা শুনেছি। কিন্ত এই ভিডিওটি হাতে পায়নি। তারপরও খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা