kalerkantho

সোমবার । ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ১  জুন ২০২০। ৮ শাওয়াল ১৪৪১

করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহ

ঢাকাফেরত পরিবারকে বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি গ্রামবাসী

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি   

৩ এপ্রিল, ২০২০ ১৩:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ঢাকাফেরত পরিবারকে বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি গ্রামবাসী

করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে ঢাকা থেকে যাওয়া একটি পরিবারকে নিজেদের বাড়িতে উঠতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে। যে গাড়িতে করে ওই পরিবারটি রংপুরের পীরগাছায় নিজেদের বাড়িতে গিয়েছিলো, সেই গাড়িতে করেই তাদের ঢাকায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গত বুধবার রাতে উপজেলার ইটাকুমারী ইউনিয়নের হাসনা পাইটকাপাড়া গ্রামে ঘটলেও বৃহস্পতিবার রাত ১০টা দিকেও ওই পরিবারের বড়িটিকে নজরদারিতে রাখে গ্রামবাসী।

জানা গেছে, রায়হান মিয়া নামে এক ব্যক্তি তার স্ত্রী শারমিন ও দুই শ্যালককে নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে গত বুধবার সন্ধ্যায় হাসনা পাইটকাপাড়ায় পৌছান। দীর্ঘ সময় যাত্রা পথে নানা বিড়ম্বনায় রায়হানের স্ত্রী শারমিন আক্তার অসুস্থ হয়ে পড়েন। পাতলা পায়খানা এবং জ্বর আসে শারমিনের গায়ে। গ্রামে আসার পথে রংপুরে তাকে ডাক্তার দেখানো হয়। কিন্তু তারা বাড়িতে পৌঁছার আগেই এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে শারমিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। এই খবরে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে তাদের বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেয়।

রায়হানের পারিবার জানায়, তারা দীর্ঘদিন থেকে ঢাকার মোহাম্মদপুরে থাকেন। রায়হান মিয়া একটি বেসরকারি কম্পানিতে চাকুরী করেন। শারমিনের দুই ভাইও নৈশ প্রহরী হিসেবে কাজ করেন ঢাকায়। করোনাভাইরাসের কারণে সবার কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রায়হান। কিন্ত গ্রামে গেলেও বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি তাদের। 

কলেজ শিক্ষক নজরুল ইসলাম হাক্কানী বলেন, বুধবার রাত ১০টায় বিষয়টি জানার পর আমি ইটাকুমারী ইউপি চেয়ারম্যানকে ফোন করি। কিন্তু তার ফোন বন্ধ ছিলো। পীরগাছার ইউএনওকে ফোন করি। তার ফোন বিজি। অবশেষে ডিসি সাহেবকে ফোন করি। ডিসি শারমিনকে আলাদা ঘরে রাখার পরামর্শ দেন। বিষয়টি পুলিশকেও জানানো হয়েছিলো। কিন্তু পুলিশ আসার আগেই গ্রামবাসী একপ্রকার শক্তি প্রয়োগ করেই শারমিনদের বাধ্য করে রাতেই ঢাকায় ফেরত যেতে।

বৃহস্পতিবার রাতে রায়হান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‌ শারমিনের এখন জ্বর নেই। অনেকটা সুস্থ্য। গ্রামটাতে আমার নাড়িপোতা। ওরা সবাই আমার আপনজন। ওরা এমন হলো কেন। আমরা তো বাড়িতেই কোয়ারেন্টিনে থাকতে চেয়েছিলাম।

গুজবের কারণে রায়হানের পরিবারকে গ্রামে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা