kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৪ জুন ২০২০। ১১ শাওয়াল ১৪৪১

কাজ করলে খাবার জোটে, না করলে নাই

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি   

২ এপ্রিল, ২০২০ ০১:৩১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কাজ করলে খাবার জোটে, না করলে নাই

নৃগোষ্ঠীর সংগ্রহ করা এসব কুঁচিয়া রপ্তানি হতো চীনে

করোনাভাইরাসের প্রভাবে রংপুরের পীরগাছায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তিন শতাধিক পরিবার চরম বিপাকে পড়েছে। নিম্ন আয়ের এসব মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ার পাশাপাশি খাদ্য সংকটে রয়েছেন। তারা এ সময়ে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পাননি বলে জানা গেছে। তাদের আদিপেশা কুঁচিয়া সংগ্রহ ও বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে। চীনসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি শুরু না হলে তাদের ব্যবসা সচল হবার সুযোগ নেই।

সূত্র জানায়, উপজেলার ইটাকুমারী ও কল্যাণী ইউনিয়নের তিনটি পল্লীতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রায় তিন শতাধিক পরিবারের বাস। তারা মূলত কুঁচিয়া ধরে বিক্রির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। পুকুর, নালা ও ডোবায় দল বেধে তারা কুঁচিয়া ধরেন।  এসব কুঁচিয়া চীন, হংকং, তাইওয়ানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়ে আসছিল। চলমান করোনা সংকটে তাদের ব্যবসা নেই। আগে যারা পেশা বদল করেছেন তারাও এখন কর্মহীন। এ অবস্থায় তাদের সরকারি, বেসরকারি সহায়তা জরুরী। তবে এখন পর্যন্ত তারা কোনও সাহায্য পাননি।

কুঁচিয়া শিকারি নিমাই বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে আড়তে কুঁচিয়া কেনা বন্ধ রয়েছে। গত আড়াই মাস থেকে বেকার বসে আছি। কোথাও থেকে কোন সহযোগিতা পাচ্ছি না।’

আরেক শিকারি সরেন প্রিয় বলেন, ‘কাজ করলে খাবার জোটে, না করলে নাই। কর্ম নেই, তাই কারো কাছে ১০০ টাকা ধার চাইলেও দেয় না। অভাবের কারণে সংসার আর চলছে না।’

আড়তদার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণের খবরের পর বিদেশে কুঁচিয়ার চাহিদা নেই। তাই রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। ফলে স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত কুঁচিয়া আর ক্রয় করা হয় না।’

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, ‘পূর্ব পুরুষদের পেশা আঁকড়ে ধরে আছেন অনেকে। আবার অনেকে পেশা পরিবর্তন করছেন। এসব পল্লীর বাসিন্দাদের বিকল্প কর্মসংস্থান প্রয়োজন।;

সরকারি সহায়তার বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমীন প্রধানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা