kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

নবীনগর পৌরসভায় ত্রাণ নেই

ত্রাণ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন কর্মহীন হতদরিদ্ররা!

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি   

১ এপ্রিল, ২০২০ ২১:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ত্রাণ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন কর্মহীন হতদরিদ্ররা!

উদ্ভুত করোনাভাইরাসের কারণে গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষগুলো একেবারেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তাই অনেকেরই এখন জীবিকা নির্বাহ করতে মারাত্মক কষ্ট হচ্ছে। এ অবস্থায় সামান্য চাল ডাল পাওয়ার আশায় প্রতিদিনই নবীনগর পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরদের বাড়িতে এসে  ভিড় জমাচ্ছেন অসহায় হতদরিদ্ররা। 

কিন্তু সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত নবীনগর পৌরসভার নামে তেমন কিছুই বরাদ্দ না আসায় হতদরিদ্ররা খালি হাতেই বিমুখ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

এদিকে এই দুঃসময়ে কর্মহীন হয়ে পড়া এসব অসহায় গরিবদের কিছু দিতে না পেরে পৌর কর্তৃপক্ষও অনেকটা বিব্রত। এ অবস্থায় নিজেদের করণীয় ঠিক করতে আজ বুধবার রাতে পৌরসভা কার্যালয়ে কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠক করেছেন মেয়র।

জানা গেছে, গত ২৬ মার্চ থেকে সারা দেশের ন্যায় নবীনগর উপজেলাও অনেকটা অঘোষিতভাবে 'লকডাউন' হয়ে পড়ায় শ্রমজীবী মানুষেরা সম্পূর্ণ কর্মহীন হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে কাজের জন্য বাড়ি থেকে বের হতে না পেরে এসব শ্রমজীবী দরিদ্ররা পড়েছেন বেশ বেকায়দায়। ফলে কর্মহীন এসব মানুষ সাহায্য সহযোগিতা পেতে বড় আশা করে নিজেদের ভোটে নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলদের কাছে ধর্ণা দিয়েও কোনো চাল ডাল পাচ্ছেন না।

তবে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনকে গত কয়েকদিন ধরে সীমিত আকারে দরিদ্র এসব মানুষকে সরকারি উদ্যোগে কিছু চাল ডাল ও আনুষাঙ্গিক দ্রব্যাদি বিতরণ করে দেখা গেছে। কিন্তু নয়টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত প্রায় চল্লিশ হাজার মানুষের আবাসস্থল প্রথম শ্রেণির নবীনগর পৌরসভা থেকে আজ পর্যন্ত কাউকেই কোনো সাহায্য সহযোগিতা করতে পারছে না।

স্থানীয় একাধিক দরিদ্র অসহায় পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেন, 'গত তিনদিন ধরে মেয়রসহ বিভিন্ন কাউন্সিলরদের বাড়িতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও একমুঠো চাল ডাল আমরা পাচ্ছি না।'

স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবু সায়েদ বলেন, হতদরিদ্র এসব মানুষ সকাল হলেই আমার বাড়িতে সরকারি সাহায্যের জন্য ভিড় জমায়। কিন্তু এ পর্যন্ত সরকারি কোনো সাহায্য না আসায় এদের কাউকে আমরা কিছুই দিতে পারছি না। এজন্য নিজেকে বড়ই অপরাধী মনে হচ্ছে।

নবীনগর পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শিব শংকর দাস বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা বিব্রত। উপজেলা প্রশাসন কিছু ত্রাণ দিতে পারলেও, আমরা পৌরসভার পক্ষ থেকে এই দুঃসময়ে হতদরিদ্রদের কিছুই দিতে পারছি না। এটি সত্যিই আমাদেরকে কষ্ট দিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে আজ রাতে সব কাউন্সিলরদের নিয়ে আমার অফিসে জরুরি বৈঠকও করেছি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান আজ কালের কণ্ঠকে মুঠোফোনে বলেন, পৌরসভায় দেওয়ার মতো এখনও কোনো বরাদ্দ আমরা পাইনি। তবে উপজেলা প্রশাসনের নামে সরকারি যেসব ত্রাণ যাচ্ছে, সেটিই আপাতত সমন্বয় করে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা উভয় স্থান থেকেই দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা