kalerkantho

রবিবার। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৭ জুন ২০২০। ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

বাগেরহাটে করোনাভাইরাস আতঙ্কে কৃষক

অলস সময় কাজে লাগাতে কৃষি বিভাগের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

ফকিরহাট-মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

১ এপ্রিল, ২০২০ ২১:১৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অলস সময় কাজে লাগাতে কৃষি বিভাগের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

বাগেরহাটের ফকিরহাট ও মোল্লাহাটে নভেল করোনাভাইরাস আতঙ্কে সর্বস্তরের জনগণ। যার প্রভাব পড়েছে কৃষি কাজেও। চলতি বোরো মৌশুমে চাষাবাদের জন্য একত্রে কাজ করতে চাইছে না শ্রমিকরা। শ্রমিকের অভাবে মাঠের ফসল নষ্ট হতে পারে এমন আশংকা করছে চাষিরা। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের আশার আলো জাগিয়েছে লখপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিপ্লব দাশ। কৃষক ও স্থানীয় শ্রমীকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে করোনাভাইরাসের প্রভাব থেকে দূরে থাকার জন্য সচেতনতামূলক পরামর্শের মধ্য দিয়ে চাষি ও শ্রমিকদের চাষাবাদের কাজে উদ্বুদ্ধ করছেন তিনি।

ফকিরহাট ও মোল্লাহাটের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে জনা যায়, চলতি বোরো মৌশুমে ফকিরহাট ও মোল্লাহাট উপজেলায় ১৬ হাজার ৫৭০ হেক্টর বোরো ধান ও ১৫শ’ ৫০হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হচ্ছে। মোল্লাহাটের প্রান্তিক কৃষকদের কার্যক্রম তদারকিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে নেই। অসচেতনতার কারণে করোনাভাইরাস আতঙ্কে স্থানীয় চাষি ও শ্রমিকরা চাষাবাদের কাজ তুলনামূলক কম করছে। ফলে কৃষি ফসল উৎপাদনে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় চাষিরা। ফকিরহাটে রয়েছে ব্যতিক্রমী চিত্র। 

মোল্লাহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে বাড়ি বসে মুঠো ফোনে কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। 

স্থানীয় কৃষক শুকুর আলী, আজিজ মোড়ল কামরুল মোল্লা, ইউসুফ মোড়ল, কাত্তিক বিশ্বাস, শ্রীকান্ত বিশ্বাসসহ অনেকে কালের কণ্ঠকে জানান, ধান ক্ষেতে আগাছা ভরে গেছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে কাউকে কাজে নিতে পারছি না। এমনকি কেউ কাজে আসতে চাইছে না। ফলে মৎস্য ঘেরের পাড়সহ প্রায় সকল স্থানে এক দিকে সবজি উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে অন্য দিকে চলতি মৌশুমে ধান উৎপাদনে ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছি আমরা।

ফকিরহাটের লখপুর এলাকায় দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিপ্লব দাশ কৃষকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ও মুঠো ফোনে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতামূলক পরামর্শ দিচ্ছেন। দূরত্ব বজায় রেখে মাক্স পরে ও এক জন অন্য জনের সংস্পর্শে না গিয়ে কৃষি ফসল উৎপাদনে মাঠে ও বাড়ির আঙ্গিনায় পতিত জমিতে কাজ করার পরামর্শ দিচ্ছেন।

শিক্ষক অসিম বিশ্বাস কালের কণ্ঠকে বলেন, সরকারি ছুটিতে থাকায় বাড়ি বসে সময় কাটছে না। করনার ভয়ে বাড়ির বাইরে যেতে পারছি না। কৃষি দাদা বিপ্লবের পরামর্শে বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষ শুরু করেছি। এতে একদিকে দৈহিক ব্যায়াম হচ্ছে অন্য দিকে অলস সময় কেটে যাচ্ছে। দেশের যে অবস্থা তাতে খাদ্য ঘাড়তি হতে পারে তাই নিজের আঙ্গিনায় বিষ মুক্ত সবজি উৎপাদনে সচেষ্ট হয়েছি। আমার মতো চাকরিজীবী অনেকেই তার পরামর্শে বাড়ির অঙ্গিনায় সবাজি চাষ করছে।
  
ইদ্রিস গাজি, মুস্তাকিন আকুঞ্জি, গনি মোড়ল, মোস্তফা, মো. ওহিদসহ কয়েকজন কৃষক ও দিন মজুরের সাথে কালের কণ্ঠের এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তাঁরা বলেন, আমরা কৃষি কাজ ছাড়া আর কোনো কাজ পারি না। করোনা অতঙ্কে কেউ আমাদের কাজে নিচ্ছে না। এ অবস্থায় খেয়ে না খেয়ে আমাদের গত কয়েক দিন ধরে অলস সময় কাটছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিপ্লব দাশের পরামর্শে আমরা মুখে মাক্স পরে এক জন অন্য জনের সাথে দূরত্ব বজায় রেখে মাঠে পুনরায় কাজ করছি। বাড়ি গিয়ে সাবান দিয়ে হাত মুখ ধুয়ে গোসল করে নিজেরা করোনা ভাইরাসের আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকছি।

লখপুর ইউনিয়নের নোবেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও করোনীয় ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য ও মো. হুমায়ুন কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিপ্লবের পরামর্শে করনা সংকটে যাতে ফসল উৎপাদনে কোনোরূপ প্রভাব না ফেলে এ জন্য নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে কৃষি কাজের ধারা অব্যাহত রাখতে পরামর্শ প্রদান লিপলেট ও মাক্স বিতরণসহ বাড়ি বাড়ি গিয়ে সকলকে সচেতন করতে কাজ করেছেন।

ফকিরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাছরুত মিল্লাত বলেন, কৃষি ক্ষেত্রে করনোভাইরাস আতঙ্কে কোনো প্রভাব না পড়ে সে জন্য চাষিদের সঠিক দিক নির্দেশনা প্রদান করতে বলা হয়েছে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের। তারা সার্বক্ষণিক চাষিদের সাথে যোগাযোগ রাখছে। তবে লখপুরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিপ্লব দাশ ব্যতিক্রমী ভাবে চাষিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে করনায় আতঙ্কিত কৃষকদের অলস সময় পার না করে কৃষি কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করছেন। পাশা পাশি আমার পক্ষ হতে বিনামূল্যে সবজির বীজ বিতরণ করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা