kalerkantho

রবিবার। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৭ জুন ২০২০। ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

চট্টগ্রামে ১০০ শয্যার সেলফ কোয়ারেন্টিন চালু এমপি লতিফের

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১ এপ্রিল, ২০২০ ২১:০৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রামে ১০০ শয্যার সেলফ কোয়ারেন্টিন চালু এমপি লতিফের

করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষা করতে নিজ উদ্যোগে চারটি পৃথক স্থানে ‘সেলফ কোয়ারেন্টিন সেন্টার’ এর ব্যবস্থা করেছেন এম এ লতিফ এমপি। চট্টগ্রাম শহরের সবচে গুরুত্বপূর্ণ ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা চট্টগ্রাম বন্দর-পতেঙ্গা এলাকার নিজ সংসদীয় আসনে ১০০টি শয্যায় থাকা, খাওয়া ও প্রাথমিক ওষুধেরও ব্যবস্থা করেছেন তিনি।

সেলফ কোয়ারেন্টিন সেন্টারগুলো হলো, ২৭ নং ওয়ার্ডের আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার আগ্রাবাদ মহিলা কলেজ, ৩৮ নং ওয়ার্ডে হালিশহর মেহের আফজল উচ্চ বিদ্যালয়, ৪০ নং ওয়ার্ডে পতেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় এবং ৩০ নং ওয়ার্ডে বাংলাদেশ রেলওয়ে স্টেশন কলোনী উচ্চ বিদ্যালয়ে বিদ্যালয়। ইতোমধ্যে সেনাবাহিনী, পুলিশ, সিভিল সার্জন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব সেলফ কোয়ারেন্টিন সেন্টার পরিদর্শন করা হয়েছে। আজকেই এসব সেন্টার চালু করা হয়েছে। 

উদ্যোগের বিষয়ে চট্টগ্রাম-১১ আসনের এমপি এম এ লতিফ কালের কণ্ঠকে বলেন, আমার এলাকা শ্রমঘন ও সবচে গুরুত্বপূর্ণ; যেখানে প্রচুর বিদেশির আনাগোনা রয়েছে। আমার লাখ লাখ এলাকাবাসীর মধ্যে যদি কেউ হাঁচি-কাশি-জ্বরে ভোগেন এবং ওই ব্যক্তি নিজ পরিবারকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে পৃথকভাবে কোথাও থাকতে চান তার জন্য এই ‘সেলফ কোয়ারেন্টিন সেন্টার’। 

তিনি বলেন, এই কোয়ারেন্টিনে রাখার পর আমাদের নিজস্ব ডাক্তার তার লক্ষণ দেখে যদি মনে করেন করোনাভাইরাস পরীক্ষার প্রয়োজন, তাহলে তার নমুনা চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটের সরকারি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশনাস ডিজিজেস হাসপাতালে নিয়ে পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষায় পজিটিভ হলে তাকে সরকার নির্ধারিত হাসপাতালে ভর্তি করা হবে। আর নেগেটিভ হলে নির্ধারিত সময়ের পরই সে বাড়ি চলে যাবে। আমার মুল উদ্দেশ্য লাখ লাখ মানুষের মধ্যে থেকে সম্ভাব্য করোনারোগিকে খুঁজে আনা এবং দ্রুত সংক্রমন ঠেকানো। তা না হলে আমার এলাকায় এক কক্ষে শ্রমিকরা যেভাবে থাকছেন; তাতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে যায়।

জানা গেছে, দেশের প্রধান চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর, দেশের বড় দুটি ইপিজেড, চট্টগ্রাম আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর এবং বঙ্গবন্ধু টানেলসহ প্রচুর লোকজনের অবস্থান চট্টগ্রাম-১১ আসনে। এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কারণে অত্যন্ত শ্রমঘন এই এলাকা। যদিও এখন পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি এই এলাকায়। এরপরও চরম ঝুঁকিতে থাকা এলাকাবাসীর জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন স্থাপনের উদ্যোগ প্রথম।

জানা গেছে, এই এলাকার চারটি সেলফ বা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন কেন্দ্রে একশটি শয্যা স্থাপনের কাজ গত তিনদিন ধরে শুরু করেছেন এমপি লতিফ। এসব শয্যায় থাকার জন্য বেড থেকে মশারি, জুতা থেকে গামছা-স্যান্ডেল এবং খাওয়ার জন্য প্লেট-বাটি-গ্লাস সবাই পৃথকসেট। আর রোগীর উপযোগী খাবার সরবরাহ দেওয়া হবে এমপি লতিফের ‘এমপি কিচেনস’ থেকে। এ ছাড়া একজন জ্বর সর্দি রোগীর জন্য সাধারণ সব শুষুধ দেওয়া হবে।

এমপি লতিফ বলেন, আমি আমার সাধ্য থেকে এই কাজটি করছি। এই কেন্দ্রে আসার পর থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি যাওয়া পর্যন্ত সব কিছুই দেওয়া হবে বিনামূল্যে আমার তহবিল থেকে। ইতোমধ্যে চারটি কেন্দ্র পরিচালনার জন্য স্থানীয় অধিবাসী এবং ডাক্তার সমন্বয়ে পৃথক চারটি পরিচালনা টিম করা হয়েছে। 

উল্লেখ্য, এই সেলফ কোয়ারেন্টিনের বাইরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচটি স্থানে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন স্থাপন করা হচ্ছে চট্টগ্রামে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা