kalerkantho

রবিবার। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৭ জুন ২০২০। ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

রাজৈরে থামছে না দৈনিক বাজার, সাপ্তাহিক হাট

রাজৈর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি   

১ এপ্রিল, ২০২০ ১৯:১৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজৈরে থামছে না দৈনিক বাজার, সাপ্তাহিক হাট

মাদারীপুরে রাজৈরে থামছে না দৈনিক বাজার ও সাপ্তাহিক হাট। সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সকাল ও বিকালে নিয়মিত বসছে দৈনিক হাটবাজার। পাশাপাশি নির্ধারিত স্থান ও বন্দরে বসছে সাপ্তাহিক হাট। এতে লোকসমাগম বৃদ্ধি পাওয়ায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েই যাচ্ছে। শহর ও গ্রামগঞ্জের কেউ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করছে না। লম্বা ছুটিতে ঢাকা থেকে গ্রামে আসা লোকজন দলবেঁধে যাতায়াতসহ চুটিয়ে আড্ডা দিচ্ছে। এসব অসচেতন লোকজনকে সচেতন করতে উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, সেনাবাহিনী ও অন্য সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিমশিম খাচ্ছে। জেলা প্রশাসকের গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হলেও তা মানছে না কেউ। 

ঢাকাফেরতরা বেশি বেপরোয়াভাবে চলাফেরা করছে। যাতায়াত করছে হাটবাজারসহ আত্মীয় বাড়িতে। নানাবয়সের মানুষ করোনাভাইরাসের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে অবাধে হাটবাজার করছে। সড়ক মহাসড়কে লোক গাদাগাদি করে চলাচল করছে ইজিবাইক, ইঞ্জিতচালিত ভ্যান, রিকসাসহ ছোট-ছোট যানবাহন। ঢাকাফেরতরা নানাভাবে গ্রামবাসীর সংষ্পর্শে আসায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। এ দৃশ্য সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে টেকেরহাট বন্দরসহ রাজৈর উপজেলার প্রায় সর্বত্র। 

আজ বুধবার নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মাহবুবুল হক টেকেরহাট বন্দরের কাচাবাজার ও মাছ বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের উদ্দেশ্যে সচেতনতামুলক মাইকিং করেন। কিন্তু তা কেউ কণর্পাত করেননি। মাইকিং করতে করতে একসময় তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হতাশ করতে নয়- বাজারে আগত মানুষজনকে ঘরে ফেরাবার জন্য আমরা প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

রাজৈর উপজেলার রাজৈর সদর, টেকেরহাট বন্দর, শংকরদী উত্তরপাড়, দক্ষিণপাড়, বন্দর হাট, আমগ্রাম ও কদমবাড়ীহাটসহ গ্রামের হাটবাজারে সামাজিক দূরত্ব মোটেই তোয়াক্কা করছে না কেউ। দৈনিক বাজার ও সাপ্তাহিক হাটের দিন থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিদিন সকাল-বিকাল রাজৈর ও টেকেরহাট বাজারে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করছে। গোপনে বা প্রকাশ্যে চলছে চায়ের দোকানে আড্ডা, খাবারের হোটেল ও প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় দোকানগুলোর চিত্র একই। করোনা সংক্রমলণের ঝুঁকি জেনেও অনেকে বিরূপ মন্তব্য করে বসে।

রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট বন্দরে বুধবার ও শনিবার সাপ্তাহিক হাট বসে। টেকেরহাট বন্দরের এ হাট কুমার নদ দ্বারা বিভক্ত উত্তর ও দক্ষিণপাড়ে সমাগম ঘটে হাজার হাজার মানুষের। উত্তরপাড়ের হাটটি মাদারীপুরের রাজৈর ও গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার সীমান্ত রেখায় অবস্থান হওয়ায় দুই জেলার নিয়ন্ত্রণে থাকে। এ দুই অংশে সপ্তাহে শনিবার ও বুধবার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ওপর ও সড়কের পশ্চিমপাশে নিচে বিভিন্ন শস্যের বা ধুলাট মালের হাট বসে। এ হাটে মাদারীপুর সদর রাজৈর, শিবচর, গোপালগঞ্জ সদর, কোটালীপাড়ার, মুকসুদপুর কাশিয়ানী ও ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে ভোররাত ৪টা থেকে শত শত কৃষক ও ব্যবসায়ী শস্য ক্রয় ও বিক্রয় করতে আসে। 
আজ বুধবার সকালে টেকেরহাট উত্তরপাড়ে রবি শস্যের হাটে শতশত ক্রেতা-বিক্রেতা ও রবিশস্যবোঝাই যানবাহনের চাডে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে রীতিমতো ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি করে। এই যানজটের কারণে দূরপাল্লার পণ্যবাহী ট্রাক অন্যান্য ছোট ছোট যানবাহন কয়েক ঘণ্টাব্যাপী আটকে থাকে। প্রতিনিয়ত এ ধরনের হাট-বাজারে হাজার হাজার লোকসমাগম সামাজিকভাবে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

টেকেরহাট কাঁচা বাজারে মহিলাদের উপচে পড়া ভিড়। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়ার আইন মানছে না কেউ। টেকেরহাট বন্দরের সড়ক ও জনপথ অফিসের সামনে প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৪টা থেকে সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত মেলে শ্রমবাজার। বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে এখানে শত শত মহিলা ও পুরুষ শ্রমিক এখানে ভিড় জমায়। এরা আবার শ্রম বিক্রির জন্য বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ফলে এ শ্রমের বাজার থেকেও স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ এরা কোনো নিয়ম-কানুন মানছে না।

জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, পৌরসভা, সকল ইউনিয়ন পরিষদ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সর্বাত্মক সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা চালালেও জনগণ সেটা সঠিকভাবে মেনে চলছে না। করোনাভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন দপ্তর থেকে মাইকিং করে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। অথচ, কে শোনে কার কথা। হাট-বাজার ছাড়াও অকারণে নানা বয়সের মানুষ লোকালয়ের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কেউ কেউ আবার রাস্তা-ঘাটের পরিস্থিতি দেখার জন্য বের হচ্ছে।

রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহানা নাসরিন জানান, প্রচার-প্রচারণা চালালেও জনগণ সেটা মানছে না। জনগণকে ঘরে ফেরাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা