kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

'করোনা আক্রান্ত সন্দেহে' দুই সরকারি কর্মকর্তা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

১ এপ্রিল, ২০২০ ১৮:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'করোনা আক্রান্ত সন্দেহে' দুই সরকারি কর্মকর্তা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার দুই সরকারি কর্মকর্তা করোনা আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ওই দুজনই কয়েকদিন ধরেই জ্বর, সর্দি, কাশিতে ভুগছেন। একই দিনে প্রবাসী-অধ্যুষিত এলাকায় বাজার পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। এ অবস্থায় এক সরকারি কর্মকর্তাকে বুধবার দুপুরে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে পরীক্ষার জন্য। পাশাপাশি তাঁর বাঞ্ছারামপুরের বাড়িতে লাল পতাকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যজন ঢাকায় হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। তাঁর নমুনা সংগ্রহ করা হবে। এদিকে ওই দুজনের অসুস্থতার খবরে আখাউড়া ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলাতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সচেতন থাকার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 

একাধিক সূত্র জানায়, আখাউড়া স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগ এবং জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশলী বিভাগে কর্র্মরত ওই দুই কর্মকর্তা ছাড়াও একজন নারী কর্মকর্তা গত ২১ মার্চ তন্তর বাজার পরিদর্শনে যান। এর দুই দিন পর থেকে প্রকৌশল বিভাগের দুই কর্মকর্তারে শরীরের নানা উপসর্গ দেখা দেয়। এর মধ্যে একজনের অবস্থা একটু বেশি খারাপের দিকে হওয়ায় সতর্ক করে দিয়ে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার কথা বলা হয়। তিনি হোম কোয়ারেন্টিন না মেনে খাবার অসুবিধা হচ্ছে বলে নিজ গ্রামের বাড়ি বাঞ্চারামপুরের রূপসদীতে চলে যান। আরেকজন ঢাকায় চলে যান।

বাঞ্চারামপুরের ওই ব্যক্তির অবস্থা অবনতির দিকে গেলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি জানাজানি হয়। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আল-মামুন ওই কর্মকর্তার বাড়ি যান। পরে তাঁর বাড়িতে লাল কাপড় দিয়ে নিশানা টাঙানো হয়। পাশাপাশি বাড়ির সবাইকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

বুধবার দুপুরে বাঞ্ছারামপুরের সেই সরকারি কর্মকর্তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। দুপুর দেড়টার দিকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। এর আগে শরীরে করোনাভাইরাসের লক্ষণ থাকার খবর পেয়ে মঙ্গলবার বিকেলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী ইউনিয়নের রূপসদী গ্রামে গিয়ে সরকারি ওই কর্মকর্তার বাড়িতে লাল পতাকা টাঙিয়ে দিয়ে তাকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশনা দেয় উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। তার সঙ্গে তার বাবাকেও কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আল-মামুন বলেন, ওই কর্মকর্তার উচ্চমাত্রায় জ্বর ও কাশি আছে। তবে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। ওই রোগীর বাড়িতে গিয়ে লাল নিশানা টাঙানো হয়। 

বাঞ্ছারমাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাছির উদ্দিন সরোয়ার জানান, ওই সরকারি কর্মকর্তা হোম কোয়ারেন্টিনের নিয়ম মানেননি। নমুনা সংগ্রহের জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের কিট আমাদের কাছে নেই। সে জন্য ওই ব্যক্তিকে আইইডিসিআর-এ পাঠানো হচ্ছে। সেখানেই তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে।

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার রেইনা বলেন, একজন কর্র্মকর্তাকে শুরু থেকেই সতর্ক করা হয়। তিনি হোম কোয়ারেন্টিন না মেনে বাড়ি গিয়ে আর আসেননি। তাঁর বাড়িতে লাল পতাকা টাঙিয়ে দেওয়ার বিষয়টি শুনেছি। অন্যজন ঢাকায় নিয়ম মেনে ঘরে আছেন। দুজনরেই নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা