kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

'পুলিশের কাছে তাঁদের দেওয়ার মতো কোনো ত্রাণ নেই'

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

১ এপ্রিল, ২০২০ ১৭:৫৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'পুলিশের কাছে তাঁদের দেওয়ার মতো কোনো ত্রাণ নেই'

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার ঘোষিত ১০ দিন বন্ধের কারণে চট্টগ্রাম মহানগরীর নিম্ন আয়ের মানুষের হাতে কাজ না থাকায় উপার্জন বন্ধ হয়ে গেছে। এমতাবস্থায়, চট্টগ্রাম নগরীতে সকাল-সন্ধ্যা শত শত লোক ত্রাণ পাওয়ার আশায় সড়কে নেমেছেন। 

এরই মধ্যে নগর পুলিশ ত্রাণ বিতরণ করছে এমন সংবাদ পেয়ে শত শত লোক ভিড় জমায় নগর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সামনে। বুধবার বেলা সাড়ে ১০টার পর থেকে নগরীর দামপাড়াস্থ পুলিশ লাইনসের সামনে বিপুলসংখ্যক দরিদ্র মানুষ জড়ো হতে থাকেন। সেখানে জড়ো হওয়া শত শত নারী-পুরুষ অপেক্ষায় ছিলেন, কখন তাঁদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করবে পুলিশ। 

আকস্মিকভাবে পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সামনের সড়কে শত শত লোক দেখে বিস্মিত হন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের প্রবেশমুখে দায়িত্বপালনরত পুলিশ সদস্যরা। পরক্ষণে খবরটি পৌঁছে পুলিশ কমিশনারের কাছে। কিন্তু পুলিশ কমিশনার কার্যালয় থেকে ত্রাণ বিতরণের কোনো কর্মসূচি তখন ছিল না। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েকজন বেরিয়ে এসে সাধারণ মানুষকে বোঝানো শুরু করেন, পুলিশ কমিশনার কার্যালয় থেকে কোনো ধরনের ত্রাণ বিতরণ হচ্ছে না বা হবে না। তাঁদের ফিরে যেতে অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তাদের এমন অনুরোধে দরিদ্র মানুষগুলো তাৎক্ষণিক সাড়া দেননি। অনেক লোক ধীরে ধীরে সরে গেলেও বেশির ভাগ মানুষ পুলিশ গেট থেকে একটু দূরে গিয়ে অবস্থান করেন ত্রাণের আশায়। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের নিরাশ হয়ে ফিরতে হয়। 

ত্রাণের জন্য হাহাকারের এমন দৃশ্য দেখা গেছে কোতোয়ালি থানার গেট এবং সদরঘাটস্থ ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার (উত্তর) এর কার্যালয়ের সামনেও। সাধারণ মানুষ এর মধ্যেই জেনেছে, পুলিশ ত্রাণ বিতরণ করছে। এই কারণে শত শত মানুষ গেটের বাইরে ত্রাণের আশায় অপেক্ষা করছে। 

গেটের বাইরে ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা মানুষদের বোঝানোর জন্য ট্রাফিক (উত্তর) বিভাগের উপকমিশনার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা গেটে যান। এই সময় ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (অ্যাডমিন) মো. মহিউদ্দিনকে এক মহিলা প্রশ্ন করেন, সরকার আমাদের জন্য ত্রাণ পাঠিয়েছে, আপনারা দিচ্ছেন না কেন? জবাবে ইন্সপেক্টর মহিউদ্দিন বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য সরকারিভাবে কোনো ত্রাণ ট্রাফিক কার্যালয়ে পাঠানো হয়নি। সরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ করে সিটি করপোরেশন এবং জেলা প্রশাসন। আপনারা সেখানে যোগাযোগ করতে পারেন।
 
ট্রাফিক ইন্সপেক্টরের এমন কথায় জড়ো হওয়া লোকজন বেজার হন এবং তাঁদের অনেকেই দীর্ঘ সময় ত্রাণের অপেক্ষায় গেটে বসে থাকেন। 

গেটে কেন অপেক্ষা করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে অপেক্ষারত কয়েকজন নারী কালের কণ্ঠকে জানান, তাঁরা না খেয়ে আছেন। ঘরে রান্নার ব্যবস্থা নেই। এর মধ্যে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় ত্রাণ বিতরণ করেছে বলে তাঁরা জেনেছেন। এই কারণেই পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে ত্রাণের জন্য এসেছেন। কিন্তু গেট থেকে তাঁদের ভেতরে গিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে দিচ্ছে না পুলিশ। 

ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা এসব মানুষের ধারণা, ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে পারলে তাঁরা ত্রাণ পাবেন। 

ত্রাণ পাওয়ার আশায় গেটে সাধারণ মানুষের অপেক্ষার বিষয়টি জেনে উপকমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ট্রাফিক বিভাগ যানবাহন নিয়ন্ত্রণের কাজ করে। এখানে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে না। সাধারণ মানুষকে এটা বুঝিয়ে বলারপরও তাঁরা সরছেন না। বিষয়টি মানবিক। কিন্তু ট্রাফিক পুলিশের কাছে তাঁদের দেওয়ার মতো কোনো ত্রাণ নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা