kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২ জুন ২০২০। ৯ শাওয়াল ১৪৪১

কেউ পাচ্ছে কেউ পাচ্ছে না

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

১ এপ্রিল, ২০২০ ১৬:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কেউ পাচ্ছে কেউ পাচ্ছে না

পঞ্চগড় জেলা শহরের আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে পঞ্চগড় সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী উপজেলা এবং পঞ্চগড় পৌরসভার অসহায় মানুষের জন্য পঞ্চগড়-১ আসনের এমপির ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে। অসহায় মানুষেরা ত্রাণের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

সরকারি-বেসরকারিভাবে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিতরণ হচ্ছে। ব্যক্তি পর্যায়েও অনেকেই তাদের সামর্থ অনুযায়ী ত্রাণ বিতরণ করছেন। কিন্তু তা সব মিলিয়ে জেলার অসহায় মানুষের তুলনায় খুবই কম। এ ছাড়া যে পরিমাণ খাদ্য সামগ্রি দেওয়া হচ্ছে তাও প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য।

অন্যদিকে ত্রাণ বিতরণে সমন্বয় না থাকায় কেউ বার বার পাচ্ছেন আবার কেউ বঞ্চিত হচ্ছেন। বাড়িতে খাবার না থাকায় দৈনিক আয় নির্ভর শ্রমজীবী মানুষের পথে পথে ত্রাণের জন্য ঘুরছেন। আবার অনেক স্থানে ত্রাণ বিতরণ করতে গিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছেন বিতরণকারীরা।

আজ বুধবার দুপুরে পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে থেকে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মজাহারুল হক প্রধানের ত্রাণ সহায়তা নিয়ে চারটি পিকআপ বিভিন্ন এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এ সময় অসহায় মানুষরা ভিড় জমায়। কিন্তু তাদের আশাহত করে ত্রাণের পিকআপ গুলো চলে যায় দূরে। অপেক্ষার প্রহর তাদের দীর্ঘ হতে থাকে। ত্রাণ না পেয়েই বাড়ি ফিরতে হয় তাদের। এ ছাড়া গ্রাম এলাকায় অনেক স্থানেই এখনো ত্রাণ পৌঁছেনি। ত্রাণ বিতরণেও সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তুলেছেন অনেকে। তাদের দাবি কেউ বার বার ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছে আবার কেউ ত্রাণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ছাড়া ত্রাণের পরিমাণ খুব সামান্য বলে জানান তারা। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা ৫ /১০ কেজি করে চাল বিতরণ করছেন। যা একটি পরিবারের দুদিনেরও খাবার হবে না।

ত্রাণের জন্য পথে পথে ঘুরা জেলা শহরের রাজনগর এলাকার বৃদ্ধা আমিজান বেগম বলেন, মানুষের বাড়িতে কাজ করতাম। এখন কাজ বন্ধ। ঘরে খাবার নেই। তাই সাহায্যের জন্য পথে পথে ঘুরছি। আমাদের সামনে দিয়ে চাল ডাল নিয়ে মানুষকে দেওয়া হচ্ছে আমরা পাচ্ছি না।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার রজলি খালপাড়া এলাকার ভ্যানচালক আব্দুল গণি বলেন, করোনাভাইরাসের জন্য সরকার আমাদের বাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছে না। এখন আমরা কি করে খাবো। ভ্যান চালিয়ে যা আয় হতো তা দিয়েই ৬ জনের সংসার চলতো। এখন আয় নাই, ঘরে খাবারের জোগানও নেই। সরকারি সাহায্যের জন্য পথে পথে ঘুরছি। কিন্তু আমাদের কেউ সাহায্য দিচ্ছে না। 

বশির আলী নামে এক ভ্যানচালক জানান, ৫/১০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। তা আমাদের পরিবারের দুই দিনের খাবারও হবে না। বাকি দিনগুলো আমরা কিভাবে চলব।

পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মজাহারুল হক প্রধান বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকার তিনটি উপজেলা ও ১টি পৌরসভায় ত্রাণ বিতরণের জন্য পাঠানো হয়েছে। সেখানে উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দরিদ্রদের মাঝে চাল-ডালসহ খাদ্য সামগ্রি বিতরণ করবেন। আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। অসহায় দরিদ্রদের কেউ ত্রাণ সহায়তা থেকে বাদ যাবে না। 

পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, আমরা প্রত্যেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলে দিয়েছি তারা যেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রকৃত দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষকে ত্রাণ বিতরণ করে। এ পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার মানুষকে চাল ও নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আমরা যা বরাদ্দ পাচ্ছি সাথে সাথেই তা বিতরণের জন্য পাঠানো হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা