kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

চট্টগ্রাম

করোনায় মৃতদের দাফন আরেফিন নগর কবরস্থানে

এস এম রানা, চট্টগ্রাম    

৩১ মার্চ, ২০২০ ২১:৪৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনায় মৃতদের দাফন আরেফিন নগর কবরস্থানে

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে যদি কোনো রোগীর মৃত্যু হয় তাহলে সেই মৃতদেহ সরকারি ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার আরেফিন নগর কবরস্থানে দাফন করা হবে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও বিস্তাররোধ এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এক সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। গত ২৯ মার্চ দুপুরে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুবর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগরীর মেয়র এবং চট্টগ্রামে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও মোকাবেলা কমিটির প্রধান আ জ ম নাসির উদ্দিন। এতে বিভাগীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থার পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানো এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভার কার্যবিবরণীর তথ্য অনুযায়ী, সভায় ১৯ নং ক্রমিকের সিদ্ধান্তে দাফনের বিষয়ে আলোচিত হয়। এইক্ষেত্রে আইইডিসিআর’র এর নির্দেশনা অনুযায়ী, আরেফিন নগর কবরস্থানে দাফনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। দাফনের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম নগর পুলিশ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশেনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় সমন্বিতভাবে কাজ করবে। অর্থাৎ, চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন অবস্থায় যদি করোনাআক্রান্ত কোনো রোগীর মৃত্যু হয় সেই মৃতদেহ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বজনদের হস্তান্তর করা হবে না। সরকারি ব্যবস্থাপনায় দাফন করা হবে।

আরেফিন নগর কবরস্থানটি নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায়। এই কবরস্থানের পাশেই রয়েছে সিটি করপোরেশনের বিশাল ময়লাস্তুপ। নগরীর বর্জ্য এই করবস্থানের পাশের খালি জায়গায় ফেলা হয়। এই বিষয়ে সিটি করপোরেশনের ২নং জালালাবাদ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহেদ ইকবাল বাবু কালের কণ্ঠেকে বলেন, ‘মেয়র মহোদয়ের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণে মৃত রোগীকে আরেফিন নগর করবস্থানে দাফন করা যাবে। এটি সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়।’

কবরস্থানের আয়তন অনেক বড় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দাফনের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না।’ সিটি করপোরেশনের বর্জ্যরে ভাগাড়ের পাশেই এই কবরস্থানে গত কোরবানির সময়ও পশুর চামড়া ফেলা হয়েছিল এমন অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন করবস্থানটি সুষ্ঠু তদারকি করছে। আশা করি সমস্যা হবে না।

নগর পুলিশের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চট্টগ্রামে এখনো করোনাভাইরাসের সংক্রমণের শিকার কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। এরপর সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সার্বিকভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। রোগী ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবেই কবরস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো রোগীর মৃত্যু হলে, সেই রোগীকে কোথায় কিভাবে কারা দাফন করবেন সেই বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তারা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সরকারি সংস্থাগুলো সমন্বিত কার্যবিধি মেনেই মরদেহের ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা