kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

দরজা খুলুন, ত্রাণ নিন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৩১ মার্চ, ২০২০ ২১:১৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দরজা খুলুন, ত্রাণ নিন

সোমবার গভীর রাত। নগরের খুলশী থানার তুলাতলী বস্তির মানুষেরা তখন অঘোর ঘুমে। হঠাৎ করেই দরজায় ঠোকা পড়ে। বাইরে দাঁড়িয়ে আগন্তুকদের কেউ একজন হাঁক ডাকেন, 'দরজা খুলুন, ত্রাণ নিন'। 

এভাবেই ঘুমন্ত মানুষকে ডেকে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। ঘুমন্ত অবস্থায় কেউ ঘরের দরজায় ত্রাণ নিয়ে হাজির হবেন-এটা ভাবতেই পারেননি ওই বস্তির বাসিন্দা। এমন ত্রাণ বাস্তবায়নের কাজটি করেছে লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং মেট্রোপলিটন। তাদের প্রদত্ত ত্রাণের প্রতিটি বস্তায় ছিল প্রায় ১৯ কেজি ভোগ্যপণ্য সামগ্রী। 

রাতের অন্ধকারে বস্তির দরজায় ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক আজাদী পত্রিকার চিফ রিপোর্টার হাসান আকবর কালের কণ্ঠকে বলেন, আমরা যখন বস্তিতে পৌঁছাই তখন খুপড়ি ঘরগুলোতে রাজ্যের নিরবতা। বস্তিবাসীর জীবনে করোনার চেয়েও যেন ভয়াবহ হয়ে হাজির হয়েছে ক্ষুধা। রাতে অনেকের উঁনুন জ্বলেনি। শিশুরা ছিল অভুক্ত। তিনি বলেন, আমরা চুপিসারে অন্ধকারে বস্তিতে গিয়ে হাজির হই যেন ভীড় না জমে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ত্রাণ দেওয়া সম্ভব হয় আর প্রকৃত দরিদ্র ব্যক্তিরা যেন ত্রাণ পায়। কাজটি শতভাগ হয়েছে এই কারণে বস্তিবাসী কিছু বুঝে উঠার আগেই ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে ঘরের বের হতে না হতেই আমরা তাঁদের হাতে একটি করে ত্রাণের বস্তা হাতে তুলে দিই এবং দ্রুত বস্তি ছেড়ে চলে আসি।

তিনি বলেন, গভীর রাতে ত্রাণ হাতে আমাদের দেখে দরিদ্রমানুষগুলোর মুখে যে তৃপ্তির হাসি দেখেছি, সেটা আজীবন মনে থাকবে। আহারে, মানুষগুলো যে না খেয়ে ছিল। 

রাতের অন্ধকারে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে সহযোগিতা দিয়েছে খুলশী থানা পুলিশ এবং স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ মোরশেদুল আলম। এই সময় ত্রাণ বিতরণে অংশগ্রহণ করেন ক্লাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোরশেদুল হক চৌধুরী, সেক্রেটারী ফজলে করিম, লায়ন আওরঙ্গজেব, লিও আনোয়ারুল ইসলাম ও ইসলাম আলভী প্রমূখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা