kalerkantho

বুধবার । ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩ জুন ২০২০। ১০ শাওয়াল ১৪৪১

সহায়তা নিয়ে সেই বেদেবহরে ইউএনও

বামনা (বরগুনা) প্রতিনিধি   

৩১ মার্চ, ২০২০ ১১:২৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সহায়তা নিয়ে সেই বেদেবহরে ইউএনও

বরগুনার বামনা উপজেলার বিষখালী নদী তীরের গ্রাম কলাগাছিয়া। এই গ্রামের লঞ্চঘাট এলাকায় বেড়িবাঁধের ভেতরে খোলা মাঠে প্রতিবছর আসে বেদে সম্প্রদায়ের লোকজন। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গত ২২ মার্চ ঢাকার মুন্সিগঞ্জ থেকে লঞ্চযোগে আসে এ উপজেলায়। এখানে আসার পরেই নিজেদের সংসার গোছাতে চলে যায় দুই থেকে তিন দিন। এর মধ্যেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। বন্ধ ঘোষণা করা হয় দোকানপাট, পরিবহনসহ সব কিছু। আর এতে বিপাকে পড়ে এখানে এসে আটকে পড়া ভাসমান ওই বেদে সম্প্রদায়ের লোকজন। 

গ্রামে গ্রামে গিয়ে তাবিজ আর সিংগা লাগিয়ে যাদের পেট চলে তারা এখন তাদের বহরে বন্দি। কাজ নেই তাই দুই বেলা খাবারও জোটে না অনেক বেদে পরিবারের। 

বামনা উপজেলার বেদে সম্প্রদায়ের এই কষ্টের কথা নিয়ে গত ২৮ মার্চ কালের কণ্ঠ অনলাইনে 'আমগো কিছু দেন আমরা কি খামু?' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। সংবাদটি বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা সুলতানার দৃষ্টিগোচর হলে তিনি ছুটে যান বেদেবহরে।

সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা সুলতানার নিজের জমানো টাকা থেকে ওই বেদেবহরের ২০টি পরিবারের জন্য চাল, ডাল, আলু, তেল, সাবানসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে নিজে তাদের হাতে তুলে দেন।

এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বামনা প্রেস ক্লাব সভাপতি ওবায়দুল কবির আকন্দ দুলাল, সম্পাদক নাসির মোল্লা, উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা সুলতানা বলেন, আমি কালের কণ্ঠে সংবাদটি পড়েছি। সংবাদটি পড়ে আমি ব্যথিত হয়েছি। এই বেদে নারীরা আমার কাছেও এসেছিল। তখন বুঝতে পারিনি তারা আসলেই খুব অসহায়। পরে অনলাইনে ও স্থানীয় একটি ফেসবুক পেজে তাদের দুর্বিসহ জীবন নিয়ে প্রতিবেদন দেখে আমার খুব কষ্ট লাগে। তাই আমি আমার জমানো কিছু টাকা দিয়ে তাদের জন্য সামান্য খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করেছি। সমাজের সকল বিত্তবানের উচিত বর্তমান পরিস্থিতিতে খেটেখাওয়া মানুষ যারা কর্মহীন হয়ে পড়েছে তাদের প্রতি সহায়তার হাত বাড়ানো। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা