kalerkantho

শনিবার । ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩০  মে ২০২০। ৬ শাওয়াল ১৪৪১

দুদিন অভুক্ত থাকার পর চাল-ডাল পেল ভ্যানচালক ও পান দোকানী

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি   

৩০ মার্চ, ২০২০ ০৮:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুদিন অভুক্ত থাকার পর চাল-ডাল পেল ভ্যানচালক ও পান দোকানী

ঘর থেকে বের হলেই মারমুখী পুলিশের ধাওয়া আর লাঠিচার্জ। তাই পুলিশের ভয়ে গত চারদিন ধরে সদরের উত্তর পাড়ার ভ্যান চালক নূরু মিয়া ঘর থেকে আর বের হচ্ছেন না। এ অবস্থায় দু'দিন হলো তার ঘরে রান্নার চুলাও জ্বলছে না। এরই মধ্যে রবিবার রাতে এক বছরের শিশুপুত্র  প্রচণ্‌ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে, টাকার অভাবে সন্তানের চিকিৎসাও করাতে পারছেন না....

অন্যদিকে সদরের তহশিল অফিসের মোড়ে খোলা আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে সারাদিন পান সিগারেট বিক্রি করে সংসার চালাতেন খোকন দাস। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মারমুখী পুলিশের পিটুনীর ভয়ে তাকেও গত চারদিন ধরে ঘরে বসে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে। এদিকে পান সিগারেট বিক্রী বন্ধ থাকায় টাকার অভাবে ঘরে অসুস্থ গর্ভবতী স্ত্রীর চিকিৎসাও করাতে পারছেন না এই দরিদ্র পান দোকানী। এ অবস্থায়  চাল ডাল আর কিছু টাকা যোগাড়ের জন্য দুদিন ধরে পথে পথে ঘুরছেন অসহায় খোকন দাস.....

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা সদরের এ দুটি মানবিক ঘটনা ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পেরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এখানকার ইউএনও মোহাম্মদ মাসুম। পরে খোঁজ নিয়ে দুটি ঘটনার সত্যতা পেয়ে অসহায় ওই দুই পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আসা মানবিক কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেককে ২০ কেজি করে চাল, ২ কেজি ডাল, ২ কেজি আটা, ২ কেজি তৈল, ২ কেজি পেঁয়াজ, ২ কেজি আলু, ২টি সাবান ও আনুষাঙ্গিক নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিতরণ করে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

রবিবার  দরিদ্র ওই শ্রমজীবী দুটি পরিবারের মাঝে এসব মানবিক সাহায্য তুলে দেয় স্থানীয় প্রশাসন।
পরে আরও ২২টি দরিদ্র পরিবারের মাঝে এই মানবিক সাহায্য বিতরণ করা হয়। এ নিয়ে গত চারদিনে মোট ৬০টি দরিদ্র পরিবারের মাঝে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এসব ত্রাণ বিতরণ করা হয় বলে জানান ইউএনও মাসুম।

এসময় সহকারি কমিশনার (ভূমি) ইকবাল হাসান, পিআইও মিজানুর রহমান খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁর সাথে ছিলেন।

আলোচিত এ দুটি ঘটনার একটি ফেসবুকে আপলোড করা স্থানীয় লেখক ফোরামের উদ্যোক্তা এম এস কে মাহাবুব কালের কণ্ঠকে বলেন,"আমি স্বপ্নেও ভাবিনি, আমার মতো একজন সামান্য মানুষের ছোট্ট এই লেখাটি ইউএনও স্যার আমলে নিয়ে ভ্যান চালক নুরু মিয়াকে এভাবে সাহায্য করবেন। এ ঘটনা দেখে আমি আনন্দে কেঁদে ফেলেছি। স্যারকে ধন্যবাদ।"

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাসুম কালের কণ্ঠকে বলেন,"ফেসবুকের দুটি ঘটনাই আমার নজরে আসার পর খোঁজ নিয়ে এর সত্যতা পাই। পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় কিছু ত্রাণ দুটি পরিবারের মাঝে বিতরণ করি। এ ধরনের মানবিক সাহায্য অব্যাহত থাকবে।"

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা