kalerkantho

রবিবার। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৭ জুন ২০২০। ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

ক্রান্তিকালের এক সৈনিক বাঘারপাড়ার কচি

বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি   

৩০ মার্চ, ২০২০ ০২:৪৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ক্রান্তিকালের এক সৈনিক বাঘারপাড়ার কচি

করোনাভাইরাস সংক্রমণে যখন দিশেহারা সকলে তখন ভিন্ন এক লড়াইয়ে সামিল যশোরের প্রত্যন্ত নারিকেলবাড়িয়ার সন্তান খালেদুর রহমান কচি (৪০)। বিত্তবানদের অপেক্ষায় না থেকে নিজেই নেমেছেন বিপদগ্রস্থ মানুষের সহযোগিতায়। অর্থনৈতিকভাবে অস্বচ্ছল এ মানুষটিই নিজ গ্রামের পাশাপাশি অন্যদের মাঝে বিতরণ করছেন নিজ হাতে তৈরী করা মাস্ক। উপকারিতা বুঝিয়ে পরিয়ে দিচ্ছেন গ্রামবাসীকে। তার এ কর্মকান্ড প্রশংসা পাচ্ছে সাধারণ মানুষের।

স্থানীয়রা জানান, খালেদুর রহমান কচি যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের ক্ষেত্রপালা গ্রামের বাসিন্দা। স্বল্প আয়ের মানুষ,নিজের সংসার চালাতে হিমশিম খান। যশোর থেকে বিভিন্ন মুদি ও স্টেশনারি মালামাল কিনে সেগুলো স্থানীয় দোকানে সরবরাহ করেন। স্ত্রী বাড়িতে সেলাইয়ের কাজ করেন। মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক আব্দুস সালামের সন্তান খালেদুর রহমান কচি বরাবরই সমাজসেবায় আগ্রহী। তাই এবার সামাজিক বিপর্যয়ের মুখে তিনি দ্রুতই মাঠে নেমেছেন নিজ সামর্থ্য বিবেচনায় রেখে।

গত ২৫ মার্চ কচি বাজার থেকে কিছু ইলাস্টিক, কয়েকটি টিস্যু ব্যাগ আর সুতা কিনে আনেন। এরপর স্যাভলন, গরম পানি আর ডিটারজেন্টে ভিজিয়ে সবকিছু জীবানুমুক্ত করেন। স্ত্রীর সেলাই মেশিনে বসে তৈরি করতে থাকেন মাস্ক। রোদে শুকিয়ে ও পরিস্কার করে তা গ্রামের বয়োবৃদ্ধদের নিজহাতে পরিয়ে দেন। এ কাজে এখন প্রতিবেশিরা তাকে সহযোগিতা করছেন।

ব্যতিক্রমী এ প্রয়াশ নিয়ে কচি বলেন, ‘করোনার কারণে ব্যবসা নেই, বাড়িতে থাকতে হচ্ছে। বসে থেকে কি করবো, তাই কাজে নেমে পড়েছি। আমাকে দিয়ে যদি একজন মানুষেরও উপকার হয়, তা করলে ক্ষতি কি? এলাকার মুরুব্বিরা মাঠেঘাটে কাজ করেন, তাদের মাস্ক ব্যববহারের সুফল বুঝিয়ে পরিয়ে দিচ্ছি। দিনে একশ’য়ের বেশি মাস্ক তৈরি করতে পারছি। মা, স্ত্রী,ছেলেসহ সকলে সহযোগিতা করে।’

প্রতিবেশি কৃষক আমিনুর রহমান বলেন, ‘মাস্ক কেন ব্যবহার করবো জানতাম না। কচি আমাদের বুঝিয়ে এখন পরিয়ে দিচ্ছে।’ 

নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাফিজুর রহমান বলেন, ’কচি সাধারণ মানুষের উপকার করছেন। তাকে আমরা সাধুবাদ জানাই।’

ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের আবুল সরদার বলেন, ’আমার বাড়ি একই গ্রামে। কচি খুব ভাল ছেলে, দরিদ্র মানুষের কল্যাণে কাজ করছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা