kalerkantho

রবিবার। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৭ জুন ২০২০। ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

রাতের চট্টগ্রাম নগর

রাজপথ ভূতুরে, অলিগলিতে কোলাহল

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

৩০ মার্চ, ২০২০ ০০:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজপথ ভূতুরে, অলিগলিতে কোলাহল

চট্টগ্রাম নগরীর রাজপথ। চিরচেনা রূপ হারিয়েছে আগেই। ব্যস্ততম সড়কগুলোতে এক রাত নামে ভূতুরে পরিবেশ নিয়ে। যানবাহনের দৌঁড়ঝাপ নেই, হর্ণ নেই, জনমানুষের কোলাহলও নেই। হাতে গোনা কিছু রিকশা আছে নগরে। আর আছে জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষের গুটি কয়েক গাড়ি। সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল যান।

নগরের ব্যস্ত সড়কগুলোতে রাতে এমন দৃশ্যই দেখা গেল। রবিবার রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত নগরীর ব্যস্ততম সড়কগুলো ঘুরে এই দৃশ্য দেখা গেছে। আবার উল্টো দৃশ্যপট নগরীর অলিগলিগুলোতে। সেখানে মানুষের জটলা আছে, আড্ডা আছে।

নগরীর নিউ মার্কেট থেকে কোতোয়ালী থানা মোড়ের দিকে যেতেই জিপিও’র সামনে দেখা গেল একজন হকারকে। তিনি কমলা ও মালটা নিয়ে দাঁড়িয়েছেন সড়কে। আশপাশে কোনো মানুষ নেই। তিনিই একা। জনমানবহীন সড়কে কেন? 

জিজ্ঞেস করতেই আবদুল হান্নান নামের একই বিক্রেতা বললেন, ‘কিছু মাল কেনা ছিল। এগুলো বিক্রি করতে না পারলে পঁচে নষ্ট হয়ে যাবে। এতে পুঁজি চলে যাবে জলে। এই কারণে বাধ্য হয়ে সড়কে এসেছেন। যদি বিক্রি করা যায়, তাহলে কিছু টাকা ফেরত আসবে হাতে।’

একটু পরই সেখানে খালি রিকশা নিয়ে এসে দাঁড়ালেন রিকশাচালক রতন দাশ। বললেন, ‘গ্রামে চলে গেলেই ভালো করতাম। না গিয়ে ভুল করেছি। এখন শূন্য নগরে যাত্রী নেই। দৈনিক রিকশা ভাড়াও উঠছে না, আবার সংসারও চলছে না। বড় দুঃখে আছি।’ 

কোতোয়ালী থানা মোড়ে পৌঁছেই দেখা গেল দুজন ট্রাফিক দাঁড়িয়ে আছেন। কিন্তু সড়কে গাড়ি নেই। উল্টোপাশে থানার গেট ঘেষে কিছু রিকশা আছে। হাতে গোনা কিছু লোকজন এদিক সেদিক যাচ্ছেন। থানার গেটের দিকে উঁকি দিতেই দেখা গেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে আসছেন। তিনি দ্রুত উঠলেন একটি নোহা গাড়িতে। চালকের আসনে খেয়াল করে দেখা গেল সেখানে বসে আছেন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) আবদুর রউফ। তাদের গাড়ি অনুসরণ করে চারটি গাড়ি দ্রুত গলিতে চলল লাভলেইন মোড়ের স্মরণিকা কমিউনিট সেন্টারের দিকে।

পথিমধ্যে ডিসি হিলের কাছে বৌদ্ধ মন্দিরের সামনে মোড়ে গাড়ির গতি কমে গেল। সেখানে বসে আড্ডা দেওয়া মানুষদের সরিয়ে দিলেন পুলিশ কর্মকর্তারা। পরক্ষণে গেলেন সেখানে প্রবেশ করে দেখা গেল, সেখানে পুলিশ বিশেষ কার্যক্রম চালাচ্ছে। সেটা নগরীর দুঃস্থ মানুষের পাশে থাকার আয়োজন। 

সেখানে দাঁড়িয়েই কথা হয় অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) আবদুর রউফের সঙ্গে। রাজপথ শূন্য এবং অলিগলিতে মানুষের আড্ডা বেশি হওয়ার কারণ প্রসঙ্গে বললেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে রাজপথ ফাঁকা আছে। দোকান বন্ধ, গাড়ি বন্ধ। কিন্তু সব অলিগলি তো আর বন্ধ করা সম্ভব নয়। সেখানে উৎসুক মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে আসছেন। আবার অনেকেই ত্রাণ বিতরণ করছেন। সাধারণ মানুষ মনে করছেন ঘর থেকে বেরিয়ে গলির মুখে অবস্থান নিলে ত্রাণ পাওয়া যাবে-এমন আশায়ও অনেকেই ঘর থেকে বেরিয়ে আসছেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা