kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাতে বাড়ে জনসমাগম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

২৯ মার্চ, ২০২০ ২২:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাতে বাড়ে জনসমাগম

ক্রেতা না থাকায় রবিবার দুপুরে দোকানে বসে ঝিমুচ্ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার জগত বাজারের খুচরা কাঁচামাল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইমন। জানালেন, করোনার প্রভাবের কারণে ক্রেতা না থাকায় বেলা আড়াইটা নাগাদ মাত্র দেড়শ টাকার পণ্য বিক্রি করেছেন। ঠিক উল্টো চিত্র দেখা গেছে, আগের রাতে মেড্ডার কাঁচাবাজারে। মাছ ও সবজি কিনতে ক্রেতাদের বেশ ভীড় সেখানে। ক্রেতা সমাগমে গিজিগিজ করছে বাজারটি। তবে সকলে চেষ্টা করছেন ’সামাজিক দূরত্ব’ বজায় রাখতে।

ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, গত তিনদিন ধরে প্রায় অভিন্ন চিত্র বাজারে। দিনের বেলায় ক্রেতা না থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে বাড়তে থাকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বত্রই এ চিত্র। প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে দিনের বেলা খুব একটা লোকসমাগম চোখে পড়ে না। তবে রাতে প্রশাসনের ‘নমনীয়তার’ সুযোগে লোকজন ঘর থেকে বের হচ্ছেন। বিশেষ করে পাড়া মহল্লাগুলোতে এসময় দল বেধে আড্ডাও দিতে দেখা যায়।

শনিবার রাত আটটার দিকে টিএ রোডের মঠের গোড়ায় আড্ডারত কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে জানা যায়, তাদের বেশিরভাগই ছাত্র। দিনে ঘর ‘বন্দি’ থাকায় মানসিক তৃপ্তির জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে এসেছেন। একজন-দু’জন করে এখন সাত আটজনের জটলা হয়ে গেছে।

এদিকে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বেশিরভাগ মানুষ মেনে চলছেন সরকারি নির্দেশনা। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করছেন। কুমিল্লা সেনানিবাসের ৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর মো. মাহফুজ আলমকে দেখা যায় পৌর এলাকার কাজীপাড়ায় এক প্রবাসফেরত ব্যক্তির বাড়িতে যেতে। তিনি বললেন, ‘আস্সালামুআলাইকুম, কেমন আছেন? আপনার তো কোয়ারেন্টিন চলছে। সবকিছু ঠিকঠাক? হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।’ এ সময় তার পাশে ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ বি এম মশিউজ্জামান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহ মো. শরীফ ও পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর রেজাউল করিম। এরকম দৃশ্য জনগনকে নিয়ম মেনে চলতে উৎসাহিত করছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আল-মামুন সরকারের কণ্ঠে করোনাভাইরাসের সতর্কতামূলক মাইকিং করা হচ্ছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে বের হওয়া ওই মাইকিংয়ে সবাইকে ঘরে থাকার আহবান জানানো হয়। পাশাপাশি গুজবে কান না দেয়ার জন্য আহবান জানান তিনি। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিজ নিজ এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বলা হয়। নেতার কণ্ঠে এ ধরণের প্রচারণা জনগণকে আশ্বস্ত করছে।

জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন জানান, জেলায় মোট দুই হাজার ৭৬৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। এর মধ্যে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিন মেয়াদ শেষ হওয়ায় এক হাজার ৭৯৫ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। বর্তমানে ৯৭২ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। গত ২৪ ঘন্টায় ১০৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা