kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৪ জুন ২০২০। ১১ শাওয়াল ১৪৪১

রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১২

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি   

২৮ মার্চ, ২০২০ ২০:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১২

নরসিংদীর রায়পুরায় দুর্গম চরাঞ্চল চাঁনপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন আ.লীগ নেতা বাবুল ও যুবলীগ নেতা নাসির সমর্থদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১২ জন আহত হয়েছে। এ সময় ৬টি বাড়িঘরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় টেঁটাবিদ্ধ সোনিয়া (১৩) নামে এক কিশোরীকে আশঙ্কাজন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় তার স্বজনরা। বাকিদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার চাঁনপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ কালিকাপুর গ্রামের অহিদ মিয়ার ছেলে আব্দুস সাত্তার (৩২) ও আবু সামাদের ছেলে সবুজ (২৪) আটক করেছে। তবে এ ঘটনার পর বিকেল ৫টা পর্যন্ত দুই পক্ষের কেউ রায়পুরা থানায় মামলা করেনি।

আহতরা হলেন, কালিকাপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হাসিমের ছেলে শবুর মিয়া (৫০), সৈয়দ জামানের ছেলে জাকির মিয়া (৩৮), জিতু মোল্লার ছেলে ফরিদ মিয়া (৬০), জালাল মিয়া (৪০), মেয়ে সোনিয়া (১৩), মৃত তাহের মিয়ার স্ত্রী রুবিনা খাতুন (৬০), ছেলে হেলাল মিয়া (৩২), অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূ মুক্ত আক্তার ও শান্ত মিয়ার স্ত্রী আনু (৩৩) তারা যুবলীগ নেতা নাসিরের সমর্থক। বাকিরা হলেন, একই গ্রামের আ.লীগ নেতা বাবুল সমর্থক হযরত আলীর ছেলে মগল হোসেন (৩৮), ইনু মিয়ার ছেলে মাছুম (২৫) ও বাছেদ (৩২)।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চাঁনপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদ বাবুল মিয়া ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির মিয়ার মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গত রাত থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পরে শুক্রবার রাতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শনিবার সকালে হঠাৎ নাসিরে সমর্থকরা বাবুলের লোকজনের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। জবাবে পাল্টা হামলা চালায় বাবুলের লোকেরাও। ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে দুই পক্ষের ১২ জন আহত হয়। পরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ আ.লীগ নেতা বাবুলের দুই সমর্থক সাত্তার ও সবুজকে আটক করে।

সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির। তবে তিনি মিডিয়ার সামনে কথা বলতে রাজি হয়নি। 

সোনিয়ার বোন তানজিনা বলেন, বাবুলের লোকজনের হামলায় সোনিয়া টেঁটাবিদ্ধ হয়। পরে তাকে প্রথমে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। বর্তমানে সোনিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজন বলে জানান তানজিলা।

আ.লীগ নেতা বাবুল বলেন, যুবলীগ নেতা নাসির, বিএনপি নেতা বরকত আলী ও এনামুল গতরাতে মিটিং করে পরদিন সকালে হামলা করেছে। এই ঘটনায় আমার তিন সমর্থক আহত হয়েছে। বর্তমানে তারা ব্রাহ্মণবাড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

চাঁনপুর বাজারে চিকিৎক তোফাজ্জল হোসেন কামাল বলেন, দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত পাঁচজন আমার কাছে চিকিৎসা নিতে এসেছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেছি। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজন। 

বাঁশগাড়ি তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ গোবিন্দ্র সরকার বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এই ঘটনায় দুই যুবকে আটক করা হয়েছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা