kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

চুরির উদ্দেশ্যে এক পরিবারের ৫ সদস্য হত্যার পরিকল্পনা!

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

২৮ মার্চ, ২০২০ ১৮:২৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চুরির উদ্দেশ্যে এক পরিবারের ৫ সদস্য হত্যার পরিকল্পনা!

পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যাওযার নিশ্চিত হত্যাকান্ড থেকে বেঁচে গেলো পাঁচ সদস্যে একটি নিরীহ পরিবার। গতকাল শুক্রবার রাতের ওই ঘটনাটি ময়মনসিংহের ভালুকা পৌর সভার এক নম্বর ওয়ার্ডের ভান্ডাব এলাকায়। ওই বাসার কাজের মহিলা মুক্তি খাতুন (২৫) ও তার স্বামী আশেকুর রহমান মুক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ।

পারিবার ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভালুকা পৌর সভার এক নম্বর ওয়ার্ডের ভান্ডাব এলাকায় নিজ বাসায় বসবাস করেন বিশিষ্ট নাট্যকর্মী মো. আনিছুর রহমান বাদল। তিন ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে তার সংসার। এদিকে, ত্রিশাল উপজেলার বীর রামপুর গ্রামের আশেকুর রহমান মুক্তারের স্ত্রী মুক্তি খতুন (২৫) বছর খানেক আগে ভাড়াটিয়া হিসাবে মো. আনিছুর রহমান বাদলের ওই বাসায় মাস তিনেক বসবাস করে চলে যান। গত ৮-১০ দিন আগে অনুনয় বিনয় করে মুক্তি খাতুন একই বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ নেন। অপরদিকে, ওই বাসায় থেকে গৃহকর্মীর কাজ করার পাশাপাশি আনিছুর রহমান বাদলের পরিবারের সদস্যদের অজ্ঞান নয়তোবা অজ্ঞানাবস্থায় তাদের খুন করে হলেও বাসায় থাকা স্বর্নালংকার লুটের পরিকল্পনা করেন মুক্তি খাতুন। পূর্বপরিকল্পনা মতে গতকাল শুক্রবার রাতে গরম করার সময় দুধের সাথে ঘুমের ঔষধ মেশান তিনি। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে কোশৗলে আনিছুর রহমান বাদলের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছেলের মোবাইল ফোনটি নিয়ে অপর প্রান্তের কোন একজনের সাথে কথা বলেন মুক্তি।

পরে ওই পরীক্ষার্থী বিষয়টি টের পেয়ে কৌতুহলে নিজের মোবাইলটি চেক করতে গিয়ে দেখে গৃহপরিচারিকা মুক্তি খাতুন যে নম্বরে (ডায়াল নম্বর) কথা বলেছেন মোবাইল সে নম্বরটি তিনি মুছে ফেলেছেন। এতে, ওই পরীক্ষার্থীর কৌতুহল আরো বেড়ে যায়। ফলে, সাথে সাথেই সে তার মোবাইলের অন করা রেকডিং চেক করলে মুক্তি খাতুনের ভয়াবহ পরিকল্পনার বিষয়টি ধরা পরে। ওই মোবাইল থেকে ফোন দিয়ে মুক্তি তার স্বামীকে জানান, দুধে ঘুমের ঔষধ মেশানো হয়েছে। বাসায় কমপক্ষে হলেও ৪০-৫০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্নলংকার আছে। রাতেই কাজ শেষ করা হবে। ঘুমের ঔষধে কাজ না হলে খুন করে হলেও কাজ সমাধান করা হবে। স্বামী যেনো তার ফোনটি খোলা রাখেন। পরে ছেলের নিকট থেকে শোনে মো. আনিছুর রহমান বাদল সাথে সাথেই গৃহপরিচারিকা মুক্তিকে আটক করে বিষয়টি ভালুকা মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করেন। জানার পরপরই পুলিশ মুক্তিকে এবং তার স্বীকারোক্তিমতে ত্রিশালের বীর রামপুর গ্রাম থেকে আশিকুর রহমান মুক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
 
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন বলেন, ওই ঘটনায় মামলা নিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাত দিনের রিমান্ড আবেদনে আগামীকাল রবিবার গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা