kalerkantho

শনিবার । ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩০  মে ২০২০। ৬ শাওয়াল ১৪৪১

কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর

সাগর পাড়ের সেই অনাথ শিশুটির স্থান হলো ডিসির বাংলোয়

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

২৮ মার্চ, ২০২০ ১৭:১২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাগর পাড়ের সেই অনাথ শিশুটির স্থান হলো ডিসির বাংলোয়

‘জনশূন্য কক্সবাজার সৈকতে কুকুরটিই যখন আপনজন’ শিরোনামে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদটি পড়েই সাগর পাড়ের সেই অনাথ শিশুটিকে খুঁজে বের করে উদ্ধার করেছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে সচিত্র সংবাদটি প্রচার হবার পর পর জেলা প্রশাসকের দৃষ্টিতে পড়ে। এরপরই তিনি শিশুটির খোঁজ নিতে শুরু করেন।

অবশেষে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে সাগর পাড়ে খোঁজ মেলে শিশুটির। তখনও সে কুকুরটি পাশে নিয়ে ঘুমাচ্ছিল। তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয় জেলা প্রশাসকের বাংলোতে। রাতেই তাকে হাত মুখ ধুয়ে খাবার খাওয়ান তিনি।

জেলা প্রশাসক আদর স্নেহ দিয়ে ছোট্ট শিশুটির সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন। এ বিষয়ে শনিবার জেলা প্রশাসক কালের কণ্ঠকে জানান, তার মা বাবা নেই। দুই ভাই চট্টগ্রামে। এক বোন কক্সবাজার শহরে বাসা-বাড়িতে কাজ করে। বোনটি তার ছোট ভাই ইমন নামের এই শিশুটিকে লেখা পড়ায় পাঠিয়েছিল। কিন্তু সে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে সাগর পাড়ে। সাগর পাড়েই সে টোকাই হিসাবে অনেকেরই পরিচিত।

মোহাম্মদ নুর নামের একজন বিচ কর্মী জানান, ইমন নামের এই শিশুটি পর্যটকদের গান শুনিয়ে এবং নানা জনের ফরমায়েশ করে দৈনিক যা করে তার বেশীর ভাগই তার সাথে থাকা কুকুরের খাবার হিসেবে ব্যয় করে। কুকুরটি তার নিত্য সঙ্গী। সাগর পাড়েই তার দিন কেটে যায়।

গত এক সপ্তাহ ধরে সুনসান পরিস্থিতি বিরাজ করছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। যে সৈকতের বালুচরে হাজার হাজার পর্যটক গিজ গিজ করত সেই বালুচর এখন খাঁ খাঁ করছে। পর্যটকদের বসার চেয়ারগুলো নেই। নেই সূর্যতাপ প্রতিরোধক পর্যটক ছাতাগুলোও। সৈকতের বালুচরে দোকান-পাট খোলা নেই। ঝালমুড়ি বিক্রেতা হকারদের হাঁক-ডাকও নেই। কি দিন আর কি রাত একই দৃশ্য বিরাজ করছে।

এমন জনমানবহীন সৈকতে কেবল এক মানব শিশু ও কুকুরের সহাবস্থান নিয়ে তোলা একটি ছবি ফেসবুক-সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরছে। বড় জোর ৬/৭ বছর বয়স শিশুটির। এই শিশুর আপনজন হিসেবেই রয়েছে একটি কুকুর।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে ডিউটিতে গিয়ে কক্সবাজার ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মানস বড়ুয়া এই শিশু এবং কুকুরের ছবিটি তার মোবাইলে ধারণ করেন। এ সময় অনাথ শিশুটি তার প্রিয় কুকুরটিকে পাশে রেখে ঘুমিয়েছিল।

জেলা প্রশাসক জানান, সবচেয়ে মজার কাহিনী হচ্ছে শিশুটিকে তিনি সাগর পাড় থেকে নিজের বাংলোতে এনে নতুন জামা-কাপড় পরিয়ে খেতে বসালেন। খাবারের পর গল্প-গুজব করার এক পর্যায়ে সে বলে- আমি সাগর পাড়ে চলে যাব। কারণ জানতে চাইলে সে বলে যে-‘ কুকুরটি আমার জন্য অপেক্ষা করবে। আমি না থাকলে সে কোথায় খাবে-কে খাওয়াবে তাকে?’ একটি পশুর জন্য অনাথ শিশুটির এরকম মানবিকতা দেখে জেলা প্রশাসকও অবাক হন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা