kalerkantho

শনিবার । ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩০  মে ২০২০। ৬ শাওয়াল ১৪৪১

ক্রেতাশূন্য শ্রমের হাট

নেত্রকোনা প্রতিনিধি   

২৮ মার্চ, ২০২০ ১৬:৪৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রেতাশূন্য শ্রমের হাট

প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালে ৫ কিলোমিটার পথ হেঁটে কাজের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে মো. রিপন মিয়া (৪০)। কাজ না পেয়ে আজও শূন্য হাতে বাড়ি ফিরে গেছে সে। করোনা কি জানতে চাইলে জানায়, এট্টা রুগ আর-হি। এ রোগে কি হয় ? উত্তর, কইতা-রিনা । চোখে মুখে ক্রেতার আশা। আর বিস্তর হতাশা এত বড় সংসারে বৃদ্ধ মা-বাবা, তিন ছেলে এক মেয়ে স্ত্রীর সন্ধ্যা পর্যন্ত পথ চেয়ে থাকার। আর একদিনের খাবার আছে রিপনের ঘরে। পরে কি হবে জানে না সে। 

রিপনের মতো পৌর এলাকার মইনপুরের দিন মজুর আলী নেওয়াজ (৫০) চার ছেলে মেয়ে স্ত্রী নিয়ে তার সংসার। একই এলাকার আবু তাহের (৪৫)। আস্তে আস্তে শ্রমিকের ভীড় বাড়তে থাকে জেলা শহরের এই শ্রমের হাটে। শ্রমিকরা জানায়, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে কোন কাজ পায় না তারা। প্রতিদিন শতাধিক শ্রমিককে শূন্য হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। প্রতিদিন অর্ধাহারে-অনাহারে, ঋণ করে দিন পার করার কথা জানিয়েছেন এই হাটের প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক। নেত্রকোনা জেলা শহরের তেরি বাজার পোস্ট অফিসের মোড়ে প্রায় ত্রিশ বছর ধরে শ্রমের হাট বসে।

নেত্রকোনা পৌর এরাকার রেল কলোনীর বাসিন্দা রতন দাস জানায়, তিনদিন যাবৎ রিক্সা নিয়ে রাস্তায় বের হতে পারিনা। পুলিশ চাকার হাওয়া খুলে দেয়, মারে। তাই আজ খুব সকালে বের হয়েছি। কয়েক টাকা আয় হয়েছে। জিনিস পত্রেরও দাম বেশি। আপনাকে নামিয়ে দিয়ে বাজার করে বাড়ি চলে যাব।
      
করোনার প্রভাব বিস্তাররোধে স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে শুক্রবার থেকে নেত্রকোনায় মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। ১৯ পদাতিক ডিভিশনের ৮ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ক্যাপ্টেন এ এইচ এম আতিকুল হক সাংবাদিকদের জানান, সরকারি নির্দেশে স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতার  জন্য সেনাবাহিনী মাঠে নেমেছেন। নেত্রকোনা সদর উপজেলায় এক প্লাটুন এবং আটপাড়া উপজেলায় আরেক প্লাটুন সদস্য টহল দিচ্ছে। 

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা সদরের নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদা আক্তার কালের কণ্ঠকে জানান, গতকাল শুক্রবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৌর এলাকায় ৭০ জন নিম্ন আয়ের মানুষকে চাল, ডাল, নুন, আলুসহ প্রয়োজণীয় সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৌরসভার মাধ্যমে পৌর এলাকায় তালিকা করে ১০ টন চাল ১০ কেজি করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আর ইউনিয়ন পর্যায়ে চেয়ারম্যান কাউন্সিলরদেরকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।    

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা