kalerkantho

রবিবার। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৭ জুন ২০২০। ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

ব্রয়লার মুরগির কেজি ৬০, লোকসানে খামারিরা

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি   

২৮ মার্চ, ২০২০ ১৬:২৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্রয়লার মুরগির কেজি ৬০, লোকসানে খামারিরা

করোনাভাইরাসের প্রভাবে রংপুরের পীরগাছায় ব্রয়লার মুরগির দামে ধস নেমেছে। এখন খামারেই ৫০-৫৫ টাকা কেজি দরে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকা কেজি দরে। ১৫ দিন আগেও উপজেলায় ব্রয়লার মুরগির প্রচুর চাহিদা ছিল। কিন্তু দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের খবরে ব্রয়লার মুরগির চাহিদা আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। এতে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন খামারিরা।

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, ব্রয়লার মুরগির চাহিদার কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যক্তি উদ্যোগে অসংখ্য খামার গড়ে উঠেছে। খামারগুলোতে কয়েকদিন আগেও প্রচুর মুরগি ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে ব্রয়লার মুরগির চাহিদা কমে গেছে। ফলে খামারিরা কমদামে মুরগি বিক্রি করে দিচ্ছেন। এখন বেশির ভাগ খামার খালি পড়ে রয়েছে। নতুন করে আর মুরগির বাচ্চা তোলার সাহস পাচ্ছে না। লোকসানের আশঙ্কায় অনেকে খামার বন্ধ করে দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক মাস আগেও প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি খামারে বিক্রি হতো ১১০-১১৫ টাকা কেজি দরে। বাজারে বিক্রি হতো প্রতি কেজি ১৩০-১৫০ টাকা। বর্তমানে বাজারে চাহিদা না থাকায় খামারেই বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকা কেজি দরে। যেখানে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ ৯০-৯৫ টাকা। মুরগির পাশাপাশি ডিমের দাম কমেছে। গত সপ্তাহে একশ ডিম ৭৫০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে ৫০০ টাকার নিচে নেমেছে।

খামারিরা বলছেন, স্থানীয় চাহিদার পাশাপাশি মুরগি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হতো। করোনাভাইরাসে সংক্রমণ রোধে দীর্ঘ ছুটি ও যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ার পর মুরগি বাইরে পাঠানো যাচ্ছে না। ফলে দাম আরো কমেছে।

দাদন এলাকার খামারি এমদাদুল হক বলেন, ব্রয়লার মুরগি নিয়ে এলাকায় একটি মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। ব্রয়লার মুরগি খেলে নাকি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবে। তাই হঠাৎ করেই বাজারে চাহিদা কমে গেছে। কম দামে দেওয়ার জন্য মাইকিং করেও ক্রেতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ রকম চলতে থাকলে পথে বসতে হবে।

পীরগাছা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শামছুজ্জামান বলেন, বর্তমানে ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খামারিদের খরচ বেড়েছে। বাজারে চাহিদা না থাকায় লোকসানে পড়েছে খামারিরা। তবে করোনাভাইরাসের সাথে মুরগির কোন যোগসূত্র নেই। অনেকে এটা নিয়ে গুজব ছাড়াচ্ছে।
 
রংপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শাহজালাল খন্দকার বলেন, হাঁস মুরগি ও গবাদি পশুর মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছাড়ায় না। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে। যেসব এলাকায় এমন গুজব ছড়িয়েছে, সেখানে মাইকিং করতে বলা হয়েছে। মানুষ নিশ্চিন্তে ব্রয়লার মুরগি খেতে পারেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা