kalerkantho

রবিবার। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৭ জুন ২০২০। ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

জ্বর-ঠাণ্ডার ওষুধ সংকট

মির্জাপুরে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও ব্লিচিং পাউডার উধাও

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

২৮ মার্চ, ২০২০ ১৩:১৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মির্জাপুরে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও ব্লিচিং পাউডার উধাও

ফাইল ফটো

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজারের কোনো দোকানে পাওয়া যাচ্ছে না হ্যান্ড স্যানিটাইজার, স্যাভলন, ডেটল, হ্যান্ডওয়াশ, ব্লিচিং পাউডারসহ জীবাণুনাশক সামগ্রী। ওষুধের দোকানসহ অন্যান্য দোকানেও পাওয়া যাচ্ছে না সার্জিক্যাল মাস্ক ও গ্লাভস।

কয়েকদিন ধরে জ্বর, সর্দি ও কাশির ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে ফার্মেসিগুলোতে। সংকট রয়েছে খাবার স্যালাইনের। এর কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা জানান, করোনাভাইরাসের আতঙ্ক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে জীবাণুনাশক মালামাল ও জ্বর, সর্দি, কাশির ওষুধ কেনার জন্য দোকানে ভিড় বাড়তে থাকে। ক্রেতারা তাদের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কিনে নেয়ায় এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এখন কম্পানির লোকদের কাছে অর্ডার দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জীবাণুনাশক।

মির্জাপুর শহরের রতন ফার্মেসি, মাজেদা ফার্মেসি, চৌধুরী ফার্মেসি, নিউ যমুনা ফার্মেসি, ললিতা ফার্মেসি, কালি মেডিকেল হলসহ এলাকার বিভিন্ন ফার্মেসিতে প্রচুর ভিড় দেখা গেছে। বেশিরভাগ লোক সার্জিক্যাল মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, স্যাভলন, ডেটল ও গ্লাভসসহ বিভিন্ন জীবাণুনাশক খোঁজ করছেন।

কেউ আবার জ্বর, সর্দি ও কাশির ওষুধ কেনার জন্য ফার্মেসিতে ভিড় করছেন। ফার্মেসি ও অন্যান্য দোকানে জীবাণুনাশক কোনো কিছু একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না। জ্বর, সর্দি ও কাশির ওষুধের সংকট রয়েছে।

মির্জাপুর পৌর এলাকার পাহাড়পুর গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী জিয়ারত খান ও হান্নান মিয়া জানান, বাজারের কয়েকটি দোকান ঘুরেও ব্লিচিং পাউডার কিনতে পারেননি।

মির্জাপুর বাজারের মাজেদা ফার্মেসির মালিক খোকন মিয়া, ললিতা ফার্মেসির রঞ্জন, রতন ফার্মেসির মালিক রতন মিয়া বলেন, করোনাভাইরাসের আতঙ্ক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে সার্জিক্যাল মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বেশি বেশি কিনে নেয়ায় দোকান থেকে এসব ফুরিয়ে গেছে। জ্বর, সর্দি, কাশি রোগের ওষুধের চাহিদা হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। অনেকে প্রয়োজনের চেয়েও অতিরিক্ত ওষুধ কিনে ঘরে নিয়ে রাখছেন। এখন কম্পানির লোকদের কাছে সার্জিক্যাল মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হ্যান্ড গ্লাবস ও ওষুধের অর্ডার দিয়েও সময়মতো আমরা পাচ্ছি না।

বাংলাদেশ ক্যামিস্ট এন্ড ডাগিস্ট সমিতি মির্জাপুর শাখার সহসভাপতি সমরি বণিক জানান, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানী ফার্মেসিগুলোতে অর্ডার নিচ্ছেন না এবং সার্জিক্যাল মালামাল সরবরাহ করছেন না। এজন্য বাজারে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ ফার্মেসিগুলোতে এসে সার্জিক্যাল মালামাল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

মির্জাপুর বাজারের মুদি ব্যবসায়ী আক্কাস খান ও মিঠু মিয়া জানান, কিছুদিন আগেও তাদের দোকানসহ উপজেলার বিভিন্ন মুদি ও কসমেটিকের দোকানে পর্যাপ্ত পরিমাণ হ্যান্ডওয়াশ, স্যাভলন, ডেটল, ব্লিচিং পাউডার ছিল। করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় লোকজন বেশি বেশি কেনায় শেষ হয়ে গেছে। কম্পানির লোকজনকে অর্ডার দিয়েও এসব পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলে তারা জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা