kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

আয়া ও ভুয়া নার্স দিয়ে ডেলিভারি ও চিকিৎসা

নারায়ণগঞ্জে অপচিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৮ মার্চ, ২০২০ ০৯:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নারায়ণগঞ্জে অপচিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ বন্দরে ছায়া-নূর জেনারেল হাসপাতাল এন্ড মেডিকেল সেন্টারে আয়া ও ভূয়া নার্স দিয়ে ডেলিভারি করার সময় নবজাতক শিশুর (পুত্র) মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২ টার সময় বন্দর হাফিজিবাগ এলাকার হানিফ মিয়ার স্ত্রী রতনা বেগম (২০) এর ডেলিভারি করার সময় এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও শুক্রবার বিকেলে তা জানাজানি হয়।

এ বিষয়ে রতনার ফুপু করুণা বেগম জানান, আমার ভাইয়ের মেয়ে রতনার বাচ্চা প্রসবের সময় হলে তাকে বন্দর বাজার কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাই সেখানে ডাক্তার না থাকায় আমাদের অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয় পরে আমরা তাকে ছায়া-নূর জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে আসি এবং দাম কষাকষি করে ডেলিভারির জন্য ভর্তি করি। কিছু¶ণ পর বাচ্চা নরমাল ডেলিভারি হয় কিন্তু আমাদের বাচ্চা দেখতে দেয়না। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর আমরা জোর করে বাচ্চা দেখতে যাই। গিয়ে দেখি বাচ্চার নাকে অক্সিজেন লাগিয়ে রাখছে কিন্তু অক্সিজেন মেশিন বন্ধ। তাদের অক্সিজেন মেশিনের কথা বললে আমাদের সাথে উত্তেজিত হয়ে উঠে এবং কিছুক্ষণ পর বলে আপনাদের বাচ্চার অবস্থা বেশি ভালো না আপনারা তাকে খানপুর হাসপাতালে নিয়ে যান। আমরা তার কাছে রেফার্ড কাগজ চাইলে আমাদের একটি ভিজিটিং কার্ড ধরিয়ে দিয়ে বলে আপনারা এই কার্ড দেখালেই চলবে। আমরা বাচ্চাকে নারায়ণগঞ্জ নিয়ে গেলে সেখানকার ডাক্তার বলে বাচ্চা মারা গেছে। পরে আমরা ছায়া-নূর জেনারেল হাসপাতাল এন্ড মেডিকেল সেন্টারে এসে জানতে পারি যে ‘ডাক্তাররা’ ডেলিভারি করেছে আখি ও তছলিমা তারা কোনো ডাক্তার না এবং নার্সও না। তারা ছায়া-নূর জেনারেল হাসপাতাল এন্ড মেডিকেল সেন্টারে কাজ করে। তারা মূলত আয়া। তাদের ভুলের কারণেই আমাদের বাচ্চা মারা গেছে।

এ ব্যাপারে ২২নং ওয়ার্ড কাউন্সিল মো. সুলতান আহম্মেদ জানান, ছায়া-নূর জেনারেল হাসপাতাল এন্ড মেডিকেল সেন্টারের বিরুদ্ধে পূর্বে আরো একাধিক শিশু মৃত্যুর সংবাদ আমার কাছে এসেছে। এই ধরনের ক্লিনিকের বিরুদ্ধে সরকার কেনো যে কোন ব্যবস্থা নেয় না আমি বুঝিনা।

এব্যাপারে ছায়া-নূর জেনারেল হাসপাতাল এন্ড মেডিকেল সেন্টারে কর্মরত আঁখি বলেন, আমার এবং তাসলিমার শিক্ষাগত কোনো অভিজ্ঞতা না থাকলেও বিভিন্ন ক্লিনিকে কাজ করে ডেলিভারি করানোর অভিজ্ঞতা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, আমরা রতনার ডেলিভারি করার সময় আমাদের ম্যাডাম ডা. নূর-এ-নাজমা লিমার সাথে মোবাইল ফোনে আলাপ করে ডেলিভারি করি এবং বাচ্চার যখন অবস্থা খারাপের দিকে তখন আমাদের ম্যাডামকে ফোন করি কিন্তু তিনি ফোন ধরে না, যার ফলে বাচ্চা মারা যায়। আমাদের কোনো দোষ নেই। আমাদের ম্যাডাম যেভাবে করতে বলেছে আমরা সেইভাবে করেছি।

এ ব্যাপারে ছায়া-নূর জেনারেল হাসপাতাল এন্ড মেডিকেল সেন্টারে চেয়ারম্যান ডা. নূর-এ-নাজমা লিমার সাথে আলাপ কালে বলেন, রোগী আসার কিছুক্ষণ পরেই ডেলিভারি হয়। বাচ্চা কান্না না করায় আমার ডিপ্লোমা নার্স তাকে অক্সিজেন দিয়ে রাখে কিছুক্ষণ পর বাচ্চাটা মারা যায়। এ বিষয়টি স্থানীয় লোকদের মাধ্যমে সমাধান হয়েছে।

বন্দর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা শুক্লা সরকারের সাথে আলাপ কালে তিনি জানান, এ ব্যাপারে আমার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা