kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

রায়পুরায় বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে দ্বন্দ্ব, বাড়িঘরে হামলা

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি   

২৭ মার্চ, ২০২০ ২০:৪৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রায়পুরায় বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে দ্বন্দ্ব, বাড়িঘরে হামলা

নরসিংদীর রায়পুরায় গত ১৯ মার্চ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় মো. হায়দার আলী (৩৫) নামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠায়। হামলায় তার দুই পায়ের হাড় ভেঙে যায়।

এর পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় আহত হায়দারের বাড়ির লোকজন ক্ষুব্দ হয়ে অভিযুক্তদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটপাট চালায়।

এই ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর দক্ষিণপাড়া এলাকায়। আহত হায়দার আলী একই গ্রামের মো. মতি মিয়ার ছেলে এবং তিনি একজন কৃষক। তবে দুই পক্ষ কেউ এ ঘটনায় থানায় মামলা করেনি বলে জানান পুলিশ। 

পরে আজ শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ছয়মাস পূর্বে উপেজলার আব্দুলাহপুর দক্ষিণপাড়ার মো. গণি মিয়া একই গ্রামের স্থানীয় এক দালাল ইদ্রিস আলীকে বিদ্যুৎ সংযোগের মিটারের জন্য দুই হাজার টাকা দেন। কথা ছিল এক মাসের মধ্যেই ইদ্রিস বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করে দেবেন। এরপর ছয়মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও বিদ্যুৎ সংযোগ পাননি ভোক্তভোগী গণি। তারপর এই নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরই জের ধরে (গত ১৯ মার্চ) গণি মিয়ার ছেলে আবু সাঈদকে একা পেয়ে মারধর করে ইদ্রিসের চাচাতো ভাই হায়দার আলী। এই ঘটনার কিছুক্ষণ পর আবু সাঈদ তার দলবল নিয়ে হায়দার আলীকে মেরে দুই পা ভেঙে দেয়। পরে আহত অবস্থায় হায়দারকে নরসিংদী সদর হাসপতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে ঢাকায় পাঠাই। পরদিন ২০ মার্চ শুক্রবার সন্ধ্যায় হায়দারের বাড়ির লোকজন ক্ষুব্দ হয়ে অভিযুক্ত আবু সাঈদ ও তার তিন চাচা হানিফ, আসাদুল্লাহ ও কামরুলের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাট চালাই। ওই সময় ছয়টি ঘর ভাঙচুর ও একটি ঘরে অগ্নি সংযোগ করা হয়। হামলাকারীরা ঘরে থাকা নগদ অর্থ, স্বর্ণ অলংকার ও আসবাপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় দুই পক্ষের কেউ থানায় অভিযোগ দেননি বলে জানান তারা।

এ ব্যাপারে হায়দারের মা ফজিলা বেগম বলেন, বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে আবু সাঈদ তার লোকজন নিয়ে আমার ছেলেকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে দুই পা ভেঙে দিয়েছে। আমার ছেলে কোনো অপরাধ করেনি। এখন সে হাসপাতালে বেডে শুয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। 

এ ব্যাপারে আসাদুল্লাহ বলেন, মিটার নিয়েই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে ইদ্রিসের বাড়ির লোকজন। তারা সন্ধ্যায় আমার ও তিন ভাইয়ের বাড়িতে অগ্নি সংযোগ ও ভাঙচুর চালিয়ে আসবাপত্র লুট করে নিয়ে গেছে।

ইদ্রিস আলী বলেন, গণি মিয়ার বাড়িতে আমাদের লোকজন হামলা করেনি। তারা আমাকে ফাঁসাতে নিজেরাই বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, ছয়মাস নয় আবেদনের ১৫ দিন পরই মিটার এসে পড়েছিল। কিন্তু গণি মিটার নিতে রাজি না হওয়া ওই মিটার অন্য আরেক জনকে দিয়ে দিছি।

এ ব্যাপারে চরসুবুদ্ধি ইউপি চেয়ারম্যান হাজী নাসির উদ্দিন বলেন, সামাজিকভাবে এই ঘটনার সমাধানের জন্য দুই পক্ষই রাজি হয়েছে। দেশে কারোনভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে নির্ধারিত তারিখের মধ্যে দুটি পক্ষকে নিয়ে বসতে পারেনি।

এ ব্যাপারে আমিরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) মিনহাজ উদ্দিন বলেন, ঘটনার পর সেখানে গিয়ে দুটি পক্ষকেই থানায় অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা