kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

বাড়িত বসি থাকলে খামো কি?

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

২৭ মার্চ, ২০২০ ১০:০৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বাড়িত বসি থাকলে খামো কি?

‘দুই দিন থাকি ভাড়া নাই, হাতত ট্যাকা নাই। ছাওয়া পোওয়া নিয়ে বিপদত আছি। বাড়িত বসি থাকলে খামো কি’-এ কথাগুলো বলেছিলেন ভ্যানচালক রফিকুল ইসলাম।

করোনাভাইরাসের উদ্ভুদ পরিস্থিতিতে সারা দেশের ন্যায় কুড়িগ্রামের উলিপুরেও প্রাণঘাতী করোনা আতঙ্ক বিরাজ করছে। এজন্য জনসমাগম এড়াতে হাটবাজার, শপিংমল, রেস্টুরেন্ট, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। করোনা সংক্রমণের হাত থেকে রেহাই পেতে লোকজনকে বাড়িতে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তারা। কিন্তু এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে কাজের সন্ধানে বেড়িয়ে পড়ছেন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার শ্রমজীবি মানুষেরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে পৌরশহরের কেসি রোডে গিয়ে দেখা য়ায় ভাড়ার অপেক্ষায় বসে আছেন ভ্যানচালক রফিকুল ইসলাম।

চালক রফিকুল ইসলাম জানান, ‘অভাব অনটনের সংসার, ভ্যান না চালালে খামো কি? সারাদিন ভ্যান চালিয়ে যা আয় হত তা দিয়ে ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া ও কোনো রকম সংসার চলত। দুই দিন থাকি ভাড়া নাই, হাতত ট্যাকা নাই। বাড়িত বসি থাকলে খামো কি? আজ একশ ট্যাকা ভাড়া মারছি, চালে কিনব না আনাচ (তরকারি) কিনব’। 

তীর্থের কাকের ন্যায় ভাড়ার অপেক্ষায় পাশে বসে থাকা আরেক ভ্যানচালক মোজাফ্ফর আলীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘হটাৎ সব কিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছি। আগে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হতো, তা দিয়ে ছেলের ঢাকায় পড়াশোনার খরচ দিয়ে কোনো রকম সংসার চলত। দোকাটপাট সব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লোকজনও আসে না ভাড়াও মিলছে না। কতদিন যে এমন থাকবে আল্লাহ জানে।’ 

শুধু মোজাফ্ফর কিংবা রফিকুলই নয় তাদের মতো ভ্যান চালক রবিন্দ্র নাথ(৫২),আব্দুল হামিদ(৫৮), নুর ইসলাম(৬৫), আমিনুল ইসলাম(৪৪) নুর জামাল(৪৫)সহ প্রায় সহস্রাধিক শ্রমজীবি মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন।

করোনার প্রভাবে মানুষের জীবন যাত্রা স্থবিরতা হয়ে পড়েছে। সর্বস্তরের মানুষের মাঝে করোনা আতঙ্ক বিরাজ করছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া লোকজন ঘর থেকে বের হচ্ছে না। কিন্তু শ্রমজীবি ও নিন্ম আয়ের মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে। পেটের তাগিদে ঘর থেকে বের হলেও কাজ পাচ্ছেন না তারা। ফলে তাদের জীবনে নেমে এসেছে দৈন্যদশা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা