kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

করোনা আতঙ্কে নীরব নিস্তব্ধ কুলাউড়া!

মাহফুজ শাকিল, কুলাউড়া থেকে   

২৭ মার্চ, ২০২০ ০৪:২৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনা আতঙ্কে নীরব নিস্তব্ধ কুলাউড়া!

মৌলভীবাজার জেলার মধ্যে সর্ববৃহৎ উপজেলা হলো কুলাউড়া উপজেলা। এই উপজেলায় প্রায় কয়েক লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। যে শহরটিতে প্রতিনিয়ত হাজারো মানুষের আনোগোনা থাকতো, সেই শহরের রাস্তা-ঘাটগুলো এখন একদম ফাঁকা। কোথাও কোনো লোকজন নেই। চারিদিকে শুধুই কবরের নিস্তব্ধতা। 

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উপজেলা প্রশাসনের ঝটিকা অভিযান শুরু হয়। শহরে সব ধরনের জনসমাগম এড়াতে কিছু গাড়িচালক ও মানুষদের ধাওয়া করা হয়েছে। এরপর থেকেই পুরো শহরটি যেন মানুষ শূন্যে হয়ে পড়ে। পাশাপাশি আকস্মিক সেনাবাহিনীর একটি টিম শহরে টহল দেয়। কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম ফরহাদ চৌধুরীসহ সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা শহরের রাস্তায় লোকজনকে বের না হয়ে বাসা-বাড়িতে থাকার জোরালো আহবান জানান। 

জেলা পর্যায়ে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ও প্রতিরোধসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরীন স্বাক্ষরিত একটি গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) এর প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধের লক্ষ্যে এবং জেলার মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কাঁচা বাজার, খাবার, ফার্মেসী, হাসপাতাল এবং জরুরী সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ছাড়া এ জেলার সকল শপিংমল, দোকান-পাট, রাস্তার পাশের চায়ের দোকান, সেলুন, হোটেল-রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করেন।

তাছাড়া এ জেলার সকল উপজেলার সাপ্তাহিক বাজার ও গবাদি পশুরহাটও বন্ধ রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এই নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই শহরের সকল দোকানি তাদের দোকানপাট বন্ধ করে দেন এবং সকলেই তাদের নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করেন। জরুরি প্রয়োজনে কিছু মানুষ শহরে আসছেন। সরেজমিন বৃহস্পতিবার দুপুরে কুলাউড়া শহরসহ বেশ কয়েকটি গুরত্বপূর্ণ বাজার ঘুরে দেখা যায়, মানুষের তেমন কোন আনাগোনা নেই। 

গণপরিবহন চলাচল নেই। শুধু কিছু রিকশা চলতে দেখা গেছে। প্রশাসনের লোকদের নজরদারি দিতে দেখা গেছে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের লোকজন শহরে জীবাণুনাশক ব্লিচিং পাউডার ছিঁটাতে দেখা গেছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে বাড়িতেই অবস্থান করছেন কুলাউড়ার ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার প্রায় কয়েক লক্ষাধিক মানুষ। প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে কুলাউড়া পৌর শহরসহ গ্রামাঞ্চলের বাজার এবং রাস্তাগুলো জনশূন্য করে দিয়েছেন। কুলাউড়ার সর্ববৃহৎ বাজার রবিরবাজার ও ব্রাহ্মণবাজারে আগের মতো আর মানুষের আনোগোনা নেই এ যেন এক জনশূন্যে মরুভূমি।

এছাড়া কুলাউড়া পৌর বাজারসহ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ টি এম ফরহাদ চৌধুরীসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা। এছাড়া প্রশাসনের সঙ্গে সতর্কতামূলক মনিটরিং করছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সফি আহমদ সলমান। 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) সাদেক কাওসার দস্তগীর ও অফিসার ইনচার্জ মো. ইয়ারদৌস হাসানের নেতৃত্বে সার্বক্ষণিক মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে মাঠে ময়দানে থাকছে পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম। ফলে অতীব জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ঘর থেকে বের হতে দেখা যাচ্ছে না। এলাকার রাস্তাগুলোতে প্রশাসন ও পুলিশের রয়েছে কড়া নজরদারি। প্রথম দিনে বন্ধ রয়েছে শহরের সকল দোকানপাট। করোনা আতঙ্কে আশপাশের মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না বা বের হতে দিচ্ছে না পুলিশ। মার্চ মাসে কুলাউড়া উপজেলায় ৮৭৭ জন প্রবাসী বিভিন্ন দেশ থেকে দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে কোয়ারেন্টিনে ছিলেন ৭৯ জন প্রবাসী। তার মধ্যে ২৭ জন প্রবাসী কোয়ারেন্টিন থেকে মুক্ত হয়েছেন। বাকি ৭৯৮ জন প্রবাসীকে খুঁজছে উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও কুলাউড়া থানা পুলিশ।

এদিকে করোনা আতঙ্কে বেশ প্রভাব পড়েছে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। যে হাসপাতালে রোগীকে ভর্তি দিতে হিমশিম খেতে হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সেই হাসপাতালে গত দুই দিনে মাত্র ৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি হাসপাতালের জরুরী বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন মাত্র ৩০ জন রোগী।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক মানুষের নিরাপত্তার জন্য আমরা সর্বদা মাঠে রয়েছি। করোনা মোকাবেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। জনসমাগম এড়াতে কুলাউড়া পৌরশহরসহ উপজেলার সকল গুরুত্বপূর্ণ বাজারে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের মনিটরিং চলছে। করোনা ভাইরাসে কাউকে আতঙ্কিত না হয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন থেকে বাড়িতে অবস্থান করার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা