kalerkantho

রবিবার  । ১৫ চৈত্র ১৪২৬। ২৯ মার্চ ২০২০। ৩ শাবান ১৪৪১

চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ৮ জনের নমুনা পরীক্ষা

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)   

২৬ মার্চ, ২০২০ ২২:০৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ৮ জনের নমুনা পরীক্ষা

চট্টগ্রামে করোনা পরীক্ষার একমাত্র প্রতিষ্ঠান সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট বিআইটিআইডিতে কিট আসার পর গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৮ জন সন্দ্বিগ্ধ রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এর মধ্যে কয়েকজনের পরীক্ষার রিপোর্টও পাওয়া গেছে। রিপোর্টের ফলাফল বিআইটিআইডি কর্তৃপক্ষ ঢাকায় আইইডিসিআরে পাঠিয়ে দিয়েছে।

অন্যদিকে করোনা না ছড়াতে সারাদেশে লকডাউন ঘোষণা করা হলেও সীতাকুণ্ডের অনেক হাটবাজারে এখনো জন সমাগম বন্ধ হয়নি। ফলে জন সমাগম বন্ধে উপজেলা প্রশাসন, সেনা সদস্য ও পুলিশকে সারাদিন তৎপর থাকতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহৎ চট্টগ্রামের সন্দেহভাজন করোনা রোগীদের নমুনা পরীক্ষার জন্য একমাত্র প্রতিষ্ঠান সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটস্থ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রফিক্যাল ইনফেকশন ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) এ দীর্ঘ অপেক্ষার পর বুধবার করোনা পরীক্ষার কিট এসে পৌঁছেছে। আর কিট পেয়েই সেখানে রোগীদের নমুনা পরীক্ষা শুরু করেছে।

আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এখানে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মোট ৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ডা. এম.এ হাসান। তিনি আরো জানান, বুধবার থেকে যেসব রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে তার অনেকগুলোর রিপোর্ট আমরা ইতিমধ্যে পেয়েছি। কিন্তু এসব ফলাফল আমাদেরকে ঢাকায় আইইডিসিআরে পাঠাতে বলা হয়েছে। আমরা সেখানে পাঠিয়ে দিয়েছি। তারাই ফলাফল ঘোষণা করবেন। এ ছাড়া কিট পাবার আগে আরো ১৫ জন রোগীর নমুনা ঢাকায় পাঠায় প্রতিষ্ঠানটি। সেসব রোগীরা করোনা আক্রান্ত নয় বলে জানিয়েছিলো আইইডিসিআর।

অপরদিকে কোনো রোগীর করোনা প্রজেটিভ হয় সেক্ষেত্রে তাদেরকে চিকিৎসার ব্যবস্থা বিআইটিআইডিতে আছে কি না জানতে চাইলে পরিচালক এম. এ হাসান বলেন, করোনার কয়েকটি স্তর আছে। রোগী কোন স্তরে তার উপর নির্ভর করবে চিকিৎসা। কেবলমাত্র আইসিইউতে ভর্তি উপযুক্ত রোগীদের আমরা হাসপাতালের আইসিইউতে পাঠানোর পরামর্শ দেব। অন্য রোগীদের চিকিৎসা রোগী ঘরে অবস্থান করেই চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুসারে করতে পারবেন।

এদিকে হাসপাতালটির সহযোগী অধ্যাপক ডা. মামুনুর রশিদ জানান, বিআইটিআইতে করোনা রোগীদের জন্য আইসিইউ নেই। এত অল্প সময়ে এখানে আইসিইউ স্থাপন করাও সম্ভব নয়। তবে চমেক হাসপাতালে আইসিইউ আছে। রোগীদের সেখানে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া যাবে। এ ছাড়া আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে এই ব্যবস্থা করা যায়। 

অন্যদিকে প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃপক্ষ দেশে করোনা পরিস্থিতি সামাল দিয়ে মরিয়া হলেও সীতাকুণ্ডে এখনো লকডাউন উপেক্ষা করে বিক্ষিপ্তভাবে জনসমাগম হচ্ছে। সব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এখনো ছোট ছোট দলে বিভিন্ন হয়ে যুবক, কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ বাজারে, মাঠে আড্ডা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন রায়।

তিনি বলেন, সবাইকে নিরাপদ রাখতে সরকার লকডাউন ঘোষণা দিয়ে মানুষকে ঘরে থাকতে নির্দেশনা দিয়েছে। অথচ সকাল থেকে আমরা, আর্মি সদস্যরা, পুলিশ বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন হাট-বাজারে গিয়ে দেখেছি অনেকেই একত্রে বসে আড্ডা দিচ্ছে! এ ছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা করোনা প্রতিরোধের সরঞ্জাম বিতরণের নামে একত্রিত হচ্ছে। এভাবে জনসমাগম হলে ছোঁয়াছে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বেড়ে যাবার আশংকা রয়েছে। তাই কোনো সংগঠন করোনা প্রতিরোধের সরঞ্জাম বিতরণ করতে চাইলে তা উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে দেবার আহ্বান জানান তিনি। এতে ঐ সংগঠনগুলোর কর্মীরাও বাইরে আক্রান্ত হবার ঝুঁকিমুক্ত থাকবেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা