kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

'ভাত না হোক, ওষুধ কিননের লাইগ্যা রুজি করতে অইব'

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

২৬ মার্চ, ২০২০ ১৯:৪৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'ভাত না হোক, ওষুধ কিননের লাইগ্যা রুজি করতে অইব'

কি আর করুম। বাইর না অইয়া তো উফাই নাই। ভাত না হোক, ওষুধ কিননের লাইগ্যা টাকা রুজি করত অইব। ডেলি আমার ৩২০ টাকার ওষুধ লাগে। ঘরের খাঅন, বাড়ি ভাড়াসহ ডেইলি ৭০০ টাকার মতো লাগে। এর লাইগ্যা ডরের মইদ্যেঅ বাইর অইছি চা লইয়া। কথাগুলো আবুল কালাম আজাদের। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার টিএ রোডের ফ্লাইওভারের নীচে চা বিক্রির সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে কথা আবুল কালামের সঙ্গে। 

জানালেন, নবীনগরের সলিমগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক ছিলেন। এরপর প্রবাস থেকে ফিরে অসুখে ভুগছেন। একটি কিডনী প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। ব্রেইন স্ট্রোক করে তিনি অনেকটাই অচল। যে কারণে প্রাইভেটও পড়াতে পারেন না ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মৌড়াইলের ওই বাসিন্দা। 

পৌর এলাকার পুরাতন কাচারীর (লাল বিল্ডিং) এর সামনে বসে সামান্য কিছু টাকা বারবার গুনছিলেন রিকশা থামিয়ে বসে থাকা এক ব্যক্তি। খৈয়াসার এলাকার বাসিন্দা রিকশাচালক মো. লোকমান জানালেন, রিকশার ভাড়া দিতে হবে ৩০০ টাকা। দুপুর দেড়টার দিকে বের হয়ে চারটা নাগাদ ২০০ টাকার মতো রুজি করেছেন। এখন ট্রাফিক যেতে দিচ্ছেন না বলে রিকশা থামিয়ে বসে আছেন।

করোনাভাইরাস আতঙ্কে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বত্রই এখন নীরবতা। খুব বেশি প্রয়োজন না থাকলে কেউ বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না। মানুষকে ঘরে রাখতে বেশ তৎপর প্রশাসন। এ অবস্থার মধ্যে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষকে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিকেল নাগাদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার বিভিন্নস্থানে ঘুরে খেটে খাওয়া মানুষের সঙ্গে কথা বললে তাঁদের দুর্ভোগের কথা জানা যায়।
এদিকে দরিদ্রদের মাঝে বৃহস্পতিবার পৌর এলাকার ফারুকী পার্কে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। ৩০ পরিবারের মাঝে ২০ কেজি করে চাল, দুই কেজি পেঁয়াজ, দুই কেজি তেল, এক কেজি লবন, দুই কেজি ডাল, তিন কেজি আলু, এক কেজি চিনি, দুই কেজি আটা, এক কেজি চিড়া, এক কেজি মুগি, দুইটি সাবান ও এক প্যাকেট বিস্কুট দেয়া হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আল-মামুন সরকার, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পঙ্কজ কুমার বড়ুয়া, সহকারি কমিশনার (ভূমি) এ বি এম মশিউজ্জামান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রশান্ত কুমার বৈদ্য প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সামাজিক দূরত্ব মেনে প্রত্যেক উপকার ভোগীকে সাদা রংয়ের বৃত্তের মাঝে দাঁড় করিয়ে এসব পণ্য সামগ্রী দেয়া হয়। শুক্রবার থেকে ইউনিয়ন পর্যায়েও এসব সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
   
রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় মন খারাপ করে বসেছিলেন উত্তর মৌড়াইলের বাসিন্দা আসাদ মিয়া। জানালেন, রিকশা নিয়ে বের হওয়া মাত্রই চাকার হাওয়া চলে গেছে। মেকারের কোনো দোকান খোলা না থাকায় মেরামতও করতে পারছেন না। তিনি বলেন, আমডা দিনমজুর। ভাইরাসমুক্ত দেশ চাই। তবে না বাইর অইলে খামু কি? সরকার যদি আমডারে খাওনের ব্যবস্থা করে তাইলে না হয় বাইর অইতাম না।

টিএ রোডে জুতা সেলাইয়ের কাজ করার সময় সঞ্জিত ঋষি বলেন, সারাদিন ইনকাম করে ১২৫ টাকা পাইছি। এমনিতে সাত-আটশ টাকা পাই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা