kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

করোনায় স্থবির শরণখোলা, শ্রমজীবী পরিবারে দুর্দশা

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

২৬ মার্চ, ২০২০ ১৯:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনায় স্থবির শরণখোলা, শ্রমজীবী পরিবারে দুর্দশা

সারা দেশের ন্যায় বাগেরহাটের শরণখোলাও করোনার প্রভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্রের দোকান ছাড়া ‘লকডাউন’ করা হয়েছে গোটা উপজেলার সবকিছু। সবখানেই থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। খুব বেশি দরকার না হলে ঘর থেকে বের হচ্ছে না বিত্তবানরা। কিন্তু শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ পেটের দায়ে বাইরে বের হলেও কাজ পাচ্ছে না। ফলে তাদের পরিবারে নেমে এসেছে দৈন্যদশা।

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল বুধবার থেকে সকল হাটবাজারগুলোতে ওষুধ, মুদি ও কাঁচামাল বাদে সমস্ত দোকানপাট বন্ধ ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। যার কারণে লোকসমাগম একেবারেই কমে গেছে। ঢাকা, খুলনা, বাগেরহাট থেকে এসব দোকানে স্থল ও নৌ-পথের মাধ্যমে মালামাল পরিবহনের ট্রান্সপোর্টগুলো বন্ধ রয়েছে। এসব ঘাটে মালামাল ওঠানামার কাঝে নিয়োজিত শতাধিক শ্রমিক প্রায় বেকার হয়ে পড়েছে। তাছাড়া বাজারঘাটে লোকজন কম ওঠায় উপজেলার তিন সহস্রাধিক অটোভ্যান ও ইজিবাইক চালকও পড়েছেন বিপাকে। 

খুলনা ট্রান্সপোর্টের রায়েন্দা বাজার হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের শহীদ নিমার ঘাটে শ্রমিক সলেমান শিকদার (৩৮), শহিদুল হাওলাদার (৪০), হামিদুল বয়াতি (৪২), হালিম ফরাজী (৩৫) জানান, গত দুদিন ধরে কাজ নেই। তাদের এই ঘাটে আগে খুলনা থেকে ৭-৮টি ট্রাক মালামাল নিয়ে আসতো। তাতে একেকজন শ্রমিক ৬০০-৭০০ টাকা ভাগে পেত। বৃহস্পতিবার মাত্র একটি ট্রাক এসেছে। তাদের প্রত্যেকের সংসারে ছয় থেকে সাত জন লোক। এ অবস্থা চলতে থাকলে তাদের না খেয়ে মরতে হবে বলে আক্ষেপ করেন তারা।

অপরদিকে, রায়েন্দা ইউনিয়নের জিলবুনিয়া গ্রামের অটোভ্যান চালক মো. মিজান মোল্লা (১৮), সোহাগ ফকির (৩৫) ও কদমতলা গ্রামের সোবাহান হাওলাদার (৪৮) জানান, আগে প্রতিদিনি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হতো। করোনার প্রভাবে এখন এক শ-দেড় শ টাকাও হচ্ছে না।

ধানসাগর ইউনিয়নের পহলানবাড়ি এলাকার ইজিবাইক চালক মিজানুর রহমান (৪০) জানান, অন্যান্য দিন ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় হতো। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত মাত্র দেড় শ টাকা পেয়েছেন। 

শহীদ নিার ঘাটের শ্রমিক সরদার মো. ফিরোজ শেখ ও রায়েন্দা বাজার ট্রলারঘাট শ্রমিক সরদার মো. খলিল হাওলাদার জানান, করোনার কারণে পণ্য পরিবহনের ট্রলার ও ট্রাক কম আসায় শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছে। দুটি ঘাঠে এক শ’র বেশি শ্রমিক রয়েছে। তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে সবাই কষ্টে আছেন।

রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষকে সরকার মানবিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। এজন্য তাদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা