kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু!

নাটোর প্রতিনিধি   

২৬ মার্চ, ২০২০ ১৭:১৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু!

নাটোরের বড়াইগ্রামের দীর্ঘ ৬ মাস ধরে তালাবদ্ধ করে রাখা আখি কতিুন নামে এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মাঝগাঁও ইউনিয়নের দক্ষিণ মালিপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ির তালাবদ্ধ একটি ঘর কিশোরীর এই লাশ উদ্ধার করা হয়। বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তালাবদ্ধ ঘর খুলে পরিবারের সদস্যরা কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে দ্রুত কবর দেওয়ার চেষ্টা করলে প্রতিবেশীরা এতে বাধা দেয়। পরে খবর পেয়ে থানা পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। নিহত কিশোরী আঁখি দক্ষিণ মালিপাড়া গ্রামের আব্দুল আলেক মিয়াজীর মেয়ে। 

প্রতিবেশীরা জানায়, আঁখি খাতুনকে রহস্যজনক কারণে তার বাবা-মা গৃহবন্দি করে রাখে। দীর্ঘ ছয় মাস আঁখিকে একটি পরিত্যক্ত ঘরে আটকে রেখে বাইরে থেকে তালা দিয়ে রাখা হয়। ওই ঘরে কোনো লাইট বা ফ্যান ছিল না। সার্বক্ষণিক জানালা-দরজা বন্ধ রেখে আঁখিকে সকলের চোখের আড়ালে রাখত। খাবার হিসেবে পাউরুটি, শুকনা রুটি অথবা যৎসামান্য ভাত দরজার চৌকাঠের নিচ দিয়ে দিত। ধারণা করা হচ্ছে খাবার না পেয়ে ও ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে সে মুত্যুর কোলে ঢলে পড়ে মেয়েটি। 

আঁখির সঙ্গে বাবা-মা এই আচরণ কেন করত জানতে চাইলে প্রতিবেশী রাজিয়া বেগম জানান, বিষয়টি তাদের কাছে পরিষ্কার নয়। রাজিয়া জানান, মেয়েটি ব্র্যাক স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার পর মালিপাড়া মাদরাসায় পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে তাকে আর পড়তে দেওয়া হয়নি। আঁখিকে তার বাবা-মা সব সময় ঘরে তালাবন্দি করে রাখত। গ্রামে কারো বাড়িতে বা কারো সঙ্গে কথা বলতে দিত না। 

আঁখি খাতুন মানসিক প্রতিবন্ধী ছিল কি-না জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য মফিজুল ইসলাম জানান, যতদূর জানি ও দেখেছি মেয়েটি সুস্থ ছিল। তবে আঁখির মা নাসিমা বেগম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আঁখি অসুস্থ ছিল তাই মারা গিয়েছে। 

বনপাড়া তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ তৌহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি রহস্যজনক হওয়ায় লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা