kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

অর্থের বিনিময়ে বাণিজ্যিক মিটার হলো আবাসিক!

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম   

২৬ মার্চ, ২০২০ ১৬:১৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অর্থের বিনিময়ে বাণিজ্যিক মিটার হলো আবাসিক!

কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার পাখি উড়া হাটবাজারে ৭০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাণিজ্যিক মিটারের স্থলে আবাসিক মিটার বানিয়ে সরবরাহ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাণিজ্যিক না করে আবাসিক করে দেয়ার জন্য জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে প্রায় ৭ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করা হয়েছে। জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বকশীগঞ্জ জোনাল অফিসের মিটার পরিদর্শক হারুন-অর-রশীদ আর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আখরুজ্জামান অবৈধ ভাবে আদায় করা ওই অর্থ ভাগ করে নেন। 

অভিযোগে জানা গেছে, আবাসিক মিটারের জন্য জামানত ৪০০ টাকা আর বাণিজ্যিক মিটারের জামানত ৮০০ টাকা। আবাসিক মিটারের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম চার টাকা অপরদিকে বাণিজ্যিক মিটারে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম প্রায় ৯ টাকা। এখানে বাণিজ্যিক মিটারের স্থলে আবাসিক মিটার বানানোর ফলে পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ডকে ক্ষতি করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে পাখি উড়া বাজারে যে দুর্নীতি করা হয়েছে এরকম দুর্নীতি অন্যান্য স্থানেও ঘটেছে।

জানা গেছে, বকশীগঞ্জ জোনাল অফিসের মিটার পরিদর্শক হারুন-অর-রশীদ এখন রৌমারী জোনাল অফিসে যোগ দিয়েছেন। ওই পরিদর্শক নতুন গ্রাহকদের মিটার সরবরাহ করতে জনপ্রতি ৩০০ টাকা করে ঘুষ গ্রহণ করেন। প্রতি কার্যদিবসে ৫০টি করে মিটার সরবরাহ করা হয়ে থাকে। সে হিসেবে প্রতি কার্যদিবসে তার অবৈধ আয় ১৫ হাজার টাকা। এ হিসেবে মাসে অবৈধ আয়ের পরিমাণ দাড়ায় ৩ লাখ টাকার মত।

সরেজমিনে পাখি উড়া বাজারে গিয়ে কথা হয় মুদি দোকানি রজব আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, আমাকে বলা হয় ১০ হাজার টাকা দাও তোমার মিটার বাণিজ্যিক না করে আবাসিক করে দিব। এতে তোমার অনেক বিল কম আসবে। এটাও বলে এ কথাটি আর কাউকে না বলার জন্য। আমি তাদের কথা রাজি হয়ে ১০ হাজার টাকা তুলে পল্লী বিদ্যুতের মিটার পরিদর্শক হারুন-অর রশীদের হাতে। এসময় স্থানীয় টেকনিশিয়ান আবুল কাশেম উপস্থিত ছিল।

একই ধরণের কথা বলেন ওই বাজারের ব্যবসায়ী অলি আহমেদ। তিনি বলেন, আমার কাছ থেকেও ১০ হাজার টাকা নিয়েছে এবং কাউকে বলতে নিষেধ করেছে। এখন শুনছি বাজারের ৮০জন ব্যবসায়ীর মধ্যে ৭০ জন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে একই ভাবে ১০ হাজার টাকা তুলে নিয়েছেন। ঘুষ নিয়ে অবশ্য কাজ করে দিয়েছেন। আমাদের সবার দোকানের মিটার আবাসিক। ফলে মাসে বিলও কম আসে।

জামালপুর পল্লী বিদ্যূত সমিতির অধিনে বকশীগঞ্জ জোনাল অফিসের একজন কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের মিটার পরিদর্শক হারুন-অর-রশীদ টাকা ছাড়া কোনো ফাইলে স্বাক্ষর করেন না। ওই পরিদর্শকের সঙ্গে আমাদের ডিজিএম স্যারের যোগসাজেস রয়েছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্ত পরিদর্শক হারুন-অর-রশীদ বলেন, ১০ হাজার টাকা করে ঘুষের তথ্য একেবারেই মিথ্যা। কম্পিউটারে টাইপ করতে বাণিজ্যিকের স্থলে আবাসিক লেখা হয়েছে।

একই ধরনের কথা বলেন ডিজিএম আখরুজ্জামানও। তিনি বলেন, ওই ভুল এখন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা