kalerkantho

বুধবার  । ১৮ চৈত্র ১৪২৬। ১ এপ্রিল ২০২০। ৬ শাবান ১৪৪১

নিরব কেরানীগঞ্জ : ঢাকা-মাওয়া যান চলাচল বন্ধ

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

২৬ মার্চ, ২০২০ ০৬:০৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিরব কেরানীগঞ্জ : ঢাকা-মাওয়া যান চলাচল বন্ধ

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলে কেরানীগঞ্জের জনজীবন ও কর্মকাণ্ড। ভোর হতেই দেখা যায় স্থলপথ ও নৌপথে কেরানীগঞ্জের লোকাবলের সমাগম। শুধু কেরানীগঞ্জই নয় রাজধানী অর্ধেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা থেকে শুরু করে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে এই কেরানীগঞ্জবাসী।

সম্প্রতি করোনাভাইরাসের কারণে সরকারি প্রজ্ঞাপনে ২৫ মার্চ থেকে শুরু করে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করে। সরকারের এই প্রজ্ঞাপনের প্রথম দিনে কেরানীগঞ্জ যেন জনমানবহীন হয়ে পড়েছে। নিরব হয়ে পড়েছে কেরানীগঞ্জ। কোথাও কোনো দোকানপাট খোলা নেই, রাস্তা ঘাটও অনেকটা ফাঁকা। দু’একটা রিকশা দেখা গেলেও যন্ত্র চালিত আর কোনো গাড়ি চোখে পড়ছে না। দূরপাল্লার গাড়ি বন্ধ থাকার কারণে অনেকে পায়ে হেটে ছুটে চলছে বাড়ির উদ্দেশে। কেউ কেউ আবার বাসস্ট্যান্ড ও লঞ্চঘাট থেকে ফিরে আসছে।

সরেজমিন কেরানীগঞ্জের কয়েকটি পয়েন্ট ঘুড়ে দেখা যায়, দোকানপাট সব বন্ধ, রাস্তা ঘাট ও জনমানব শূন্য। তবে প্রচুর ভিড় পরিলক্ষিত হয় বুড়িগঙ্গা ১ম ও ২য় সেতুতে। যেখানে করোনা সতর্কতায় মানুষদের সামাজিক দুরুত্ব বজায় রাখতে বলা হয়েছে। সেখানে ঢাকা থেকে মাওয়াগামী মানুষজনের ঢল দেখা যায়। 

কথা হয় ফরিদপুরগামী মো. ইউসুফের সঙ্গে। তিন ছেলে মেয়ে ও স্ত্রীসহ মাওয়া যাচ্ছেন। লক ডাউন স্বত্বেও কেন বাসা থেকে বের হলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১০ দিন সব কিছু বন্ধ, খামু কি, তাই পেটের চিন্তায় গ্রামে যাচ্ছি। একই কথা বলেন মো. বাসার, পেশায় গার্মেন্টকর্মী। বাসার জানান, বন্ধ থাকার কারণে ঢাকায় না খেয়ে জীবন বাচানোর সংয়গ্রাম না করে গ্রামের দিকে যাচ্ছেন তিনি পরিবার নিয়ে। এই লোকসমাগম করোনা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে উত্তর দেয়নি কেউ।

মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানার ষোলঘর এলাকার বাসিন্দা মো. রবিউল জানান, তিনি দেশের বৃহৎ তৈরি পোশাক খ্যাত এলাকা কালিগঞ্জের একজন ব্যবসায়ী। করোনার কারণে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তিনি কর্মচারীদের বেতনসহ অগ্রীম কিছু টাকা দিয়ে মঙ্গলবার বাড়িতে পাঠিয়েছি। আজ আমি নিজে চলে যাচ্ছি গ্রামের বাড়িতে। ভাবছিলাম গাড়ি পাবো। না পেয়ে হেটেই চলছি বাড়িতে। আল্লাহ তায়ালা কবে নাগাদ এই আযাব থেকে তার বান্দাদের মুক্তি দেন। যদি বেছে থাকি তাহলে আবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আসবো।
 
এদিকে কেরানীগঞ্জের জিনজিরা ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান হাজি সাকুর হোসেন সাকু, তার ইউনিয়নকে করোনামুক্ত রাখার জন্য প্রতিটি এলাকার রাস্তাঘাট-বাজার, খোলা জায়গাসহ জীবাণু চলাচল সকল জায়গা করোনামুক্ত ঔষধ দিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি চলাফেরা ও কাঁচাবাজার এলাকাগুলোতে তিনি ফ্রি মাক্স বিতরণ করছেন। 

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা অমিত দেবনাথ বলেন, কেরানীগঞ্জবাসীর নিরাপত্তায় সারা দেশের ন্যায় সকল দোকান পাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সকলকে ঘরের ভেতরে নিরাপদে থাকার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। সব কিছু মনিটরিং করার জন্য মোবাইল টিম ও থানা পুলিশ এবং সেনা বাহিনী মাঠে রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা