kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

ওরস বন্ধ করতে বলায় দুই পুলিশকে পিটিয়ে জখম

আটক ২০ মাজার অনুসারী

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া    

২৬ মার্চ, ২০২০ ০৪:৩১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ওরস বন্ধ করতে বলায় দুই পুলিশকে পিটিয়ে জখম

বগুড়ায় একটি মাজারের ওরস মাহফিল বন্ধ করতে বলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছেন ওই মাজারের অনুসারীরা।

বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের গোয়ালগাড়ী এলাকায় শাহ্ ছেরাজুল হক চিশতীর মাজার প্রাঙ্গনে এই ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করেন এবং ২০ জন মাজার অনুসারীকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, প্রতি বছরের মতো এবারো ২৫ মার্চ ওই মাজারের ওরস আয়োজনের খবর শুনে তারা কয়েকদিন ধরেই মাজার কমিটিকে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করার অনুরোধ জানান।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য বুধবার দুপুরেও পুলিশ সদস্যরা মাজারে গিয়ে ওরস আয়োজন বন্ধ করার নির্দেশনা দেন। কিন্তু গণজমায়েতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সন্ধ্যার পর থেকে প্রায় আড়াই শ মানুষ ওই ওরসে সমবেত হন।

রাতে মাজারে গিয়ে উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নান্নু খান ও সহকারী উপ-পরিদর্শক জাহিদুর রহমান আবারও ওরস বন্ধের অনুরোধ করলে মাজার অনুসারীরা তাদের ওপর চড়াও হন। তারা লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারপিট করেন ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে।

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম বদিউজ্জামান জানান, রাত ১০টার দিকে সদর থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে আহত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে মাজার থেকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। মাজার অনুসারীদের মারপিটে তাদের দুজনই হাতে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।

পরে মাজারের বিভিন্ন কক্ষ থেকে আটক করা হয় অন্তত ১৫/২০ জন পুরুষ মাজার অনুসারীকে। এদের মধ্যে ওই ওয়ার্ডের সাবেক দুই কমিশনার নুরুল আমীন ও শফিকুল ইসলাম নয়নও রয়েছেন। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

ওসি আরো জানান, শাহ্ ছেরাজুল হক চিশতী বগুড়ার ভাষাসৈনিক গাজীউল হকের বাবা। ২০০৯ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত গাজীউল হক এই মাজারের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করেছেন। পরবর্তীতে তার ছেলে রাহুল গাজী এই মাজারের দেখভাল করতে শুরু করেন। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা