kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

উপজেলা পর্যায়ে দেশের প্রথম ডায়াবেটিস হাসপাতাল

নির্মানকাজ শেষ হলে সুবিধা পাবে ১৫ লাখ মানুষ

পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি   

১৪ মার্চ, ২০২০ ০৯:৩০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উপজেলা পর্যায়ে দেশের প্রথম ডায়াবেটিস হাসপাতাল

উপজেলা পর্যায়ে দেশে প্রথম ডায়াবেটিস হাসপাতাল নির্মাণ করা হচ্ছে ঠাকুরগাওয়ের পীরগঞ্জে। সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং পীরগঞ্জ ডায়াবেটিস সমিতির যৌথ অর্থায়নে চার তলা বিশিষ্ট ২০ শয্যার এ হাসপাতালের নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে গনপূর্ত বিভাগ। এরই মধ্যে চারতলা ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

আগামী জুলাই মাস নাগাদ হাসপাতালটি চালু হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে পীরগঞ্জসহ আশপাশের উপজেলার ১৫ লাখ মানুষ ডায়াবেটিস সহ অন্যান্য রোগের চিকিৎসা সেবা পাবেন।

পীরগঞ্জ ডায়াবেটিস হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক অধ্যাপক ফয়জুল ইসলাম জানান, এলাকার সমাজ সেবক, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, সাংবাদিক সহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ২০০৩ সালে পীরগঞ্জ ডায়াবেটিস সমিতি গঠন করা হয়। তখন থেকেই এ সমিতির মাধ্যামে পীরগঞ্জ প্রেসক্লাব ভবনে ডায়াবেটিস হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা হয়। সেখানে প্রায় চার বছর ধরে চলে হাসপাতালের কার্যক্রম। শুরুতে দিনাজপুর ডায়াবেটিস হাসপাতাল থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া নিজস্ব টেকনেশিয়ান দ্বারা এলাকার ডায়াবেটিস রোগীদের বিনামুল্যে প্রাথমিক পরীক্ষা নীরিক্ষার করা সহ সপ্তাহে একদিন দিনাজপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালের একজন চিকিৎসক এনে মাত্র ২০ টাকা রেজিষ্ট্রেশন ফি নিয়েই রোগীদের চিকিৎসা সেবা সহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানের করা হতো। উপজেলা পর্যায়ে ডায়াবেটিস হাসপাতাল না থাকায় সে সময় প্রতিদিন গড়ে ৫০/৬০ ডায়াবেটিস রোগী প্রেসক্লাবে এসে সেবা গ্রহন করতো। এরই মধ্যে পীরগঞ্জ-রানীশংকৈল পাকা সড়কের পাশ্বে পৌর শহরের বথপালিগাওয়ে হাসপাতালের নামে ৫০ শতাংশ জমি কেনা হয়। ২০০৭ সালে নিজস্ব জমিতে একটি আধাপাকা টিন সেডে হাসপাতালে কার্যক্রম শুরু করা হয়। এর পর থেকে দিনাজপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালের একজন ডাক্তার প্রতিদিন এসে রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা শুরু করেন। মাত্র ৫০ টাকার বিনিময়ে রোগীরা চিকিৎসা সেবা পাওয়া শুরু করে। তখন এখান থেকে প্রতিদিন গড়ে ১’শ থেকে ১২০ জন রোগী রোদে পুড়ে, বৃষ্ঠিতে ভিজে পরীক্ষা নিরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা গ্রহন করতো। ক্রমেই রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং তা চলমান রয়েছে।

বিষয়টি ডায়াবেটিস সমিতির দিনাজপুর শাখা সহ উর্দ্ধতন কর্তপক্ষের নজরে আনা হয়। অনেক পত্র চালা চালির পর ২০১৭ সালে সমাজ কল্যান মন্ত্রনালয় এবং পীরগঞ্জ ডায়াবেটিস সমিতি যৌথভাবে প্রায় সোয়া ১০ কোটি টাকায় ২০ শয্যা বিশিষ্ট একটি ডায়াবেটিস হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প গ্রহন করেন যা উপজেলা পর্যায়ে প্রথম ডায়াবেটিস হাসপাতাল নির্মান প্রকল্প। প্রকল্পের সোয়া ১০ কোটি টাকার মধ্যে মন্ত্রণালয় দেবে ৮ কোটি ১৬ লাখ আর অবশিষ্ট প্রদান করবে স্থানীয় ডায়াবেটিস সমিতি। সে লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের প্রায় ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা অর্থায়নে ২০১৮ সালে আগস্ট মাসে হাসপাতালের ৪ তলা বববনের নির্মান কাজ শুরু করেন রফিক কন্সট্রাকশন কোম্পানি নামে ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। জুন ২০১৯ এর মধ্যে কাজ শেষ হবার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দু’বার সময় বৃদ্ধির আবেদন করে জুন/২০ এর মধ্যে কাজ সমাপ্ত করার সময় নিয়েছেন।

ভবন নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আশা করা হচ্ছে এ সময়ের মধ্যেই নির্মান কাজ শেষ হবে। আগামী জুলাই মাসে নতুন ভবনে কার্যক্রম শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছে হাসপাতালের কোষাধ্যক সলেমান আলী।

তিনি আরো জানান, এরই মধ্যে ডায়াবেটিসের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৩ জন এমবিবিএস ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আরো কমপক্ষে ১৫ জন চিকিৎসক নিয়োগ করা হবে। এ হাসপাতালে ২০ শয্যা ছাড়াও ৬টি কেবিন এবং ৩টি অপারেশন থিয়েটারের সুবিধা পাবে রোগীরা। প্রকল্পের টাকায় কেনা হবে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিও। বিষয়গুলি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এতে পীরগঞ্জ, রানীশংকৈল ও চরিপুর উপজেলার ১৫ লাখ মানুষ স্বল্প খরচে ডায়াবেটিস সহ অন্যান্য রোগের চিকিৎসা সেবা পাবেন। এর মধ্যে ৩০ ভাগ গবীর ও অসহায় রোগী চিকিৎসা সেবা পাবেন বিনামুল্যে।

তবে কিছুটা হতাশা প্রকাশ করে সলেমান আলী বলেন, প্রকল্পের মোট অর্থের মধ্যে সমিতিকে দিতে হবে ২ কোটি ৯ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। বিভিন্ন দানশীল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এ পর্যন্ত পাওয়া গেছে প্রায় ১৫ লাখ টাকা। বাকি টাকার কী হবে? হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচাল ফয়জুল ইসলাম বলেন, উপজেলা পর্যায়ে দেশের প্রথম ডায়াবেটিস হাসপাতাল এটি। কঠিন দুর্দশার মধ্য দিয়েও যেহেতু শুরু হয়েছে, অবশ্যই শেষ হবে। এর জন্য সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা