kalerkantho

বুধবার । ১৩ মাঘ ১৪২৭। ২৭ জানুয়ারি ২০২১। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

লোহাগড়ায় তিন সন্তানের জননীকে নির্যাতনের অভিযোগ

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি   

৮ মার্চ, ২০২০ ২২:২৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লোহাগড়ায় তিন সন্তানের জননীকে নির্যাতনের অভিযোগ

নড়াইলের লোহাগড়ায় তিন সন্তানের জননীকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে ফরিদপুরের আলফাডাংগা থানার কৃষ্ণপুর গ্রামের তজিবর মোল্যার মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিনের সাথে লোহাগড়ার ইতনা ইউনিয়নের চরপাচাইল গ্রামের বেলায়েত হোসেন গাজীর ছেলে মনির হোসেন গাজীর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিনটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে ভালই চলছিল তাদের সংসার। ২০১২ সালে মনির হোসেন গাজী চাকরি করতে ওমান এ চলে যান। তিনটি কন্যাকে নিয়ে সাবিনা ইয়াসমিন ভালোই ছিলেন। 

অভিযোগে জানা গেছে, গত প্রায় ছয় মাস আগে মনির হোসেন দেশে আসেন। দেশে আসার পর স্ত্রী সাবিনাকে তাড়িয়ে দেন। সাবিনা আশ্রয় নেন বাপের বাড়িতে। মেয়েদের মায়ার টানে গত শনিবার সকালে সাবিনা তার শ্বশুর বাড়িতে যান মেয়েদের সাথে দেখা করতে। কিন্তু সাবিনার স্বামী, ননদ কামনা, চাচাতো ননদ রেশমা মিলে সাবিনাকে  লাঠি দিয়ে মারপিট করে জখম করে বলে অভিযোগ। স্থানীয় লোকজন সাবিনাকে উদ্ধার করে লোহাগড়া হাসপাতালে ভর্তি করে।

সাবিনা বলেন,আমার স্বামী এখন অনেক টাকার মালিক। তাই নতুন বিয়ে করতে চান। আমাকে তালাক দিতে বলেছেন। আমি তালাক দিতে রাজি না হওয়ায় আমাকে মারপিট করেছে। আমার স্বামী মেয়ে দেখেছেন। তিনি বিয়ে করবেন। আমাকে ননদ কামনা গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে। আমাকে হুমকি দিয়েছে স্বামীকে তালাক না দিলে মেরে ফেলবে।

তিনি আরো বলেন,আমার মেয়ে সানজিদা অষ্টম, খাদিজা সপ্তম ও লিজা তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। সংসারে কোনো অশান্তি ছিল না। কিন্তু স্বামীর নতুন বিয়ে করবার চিন্তাই অশান্তির কারণ। আমি আদালতে মামলা দায়ের করি। সে মামলা চলছে।

অভিযুক্ত মনির হোসেন গাজীকে পাওয়া না গেলেও তার বোন অভিযুক্ত কামনা বলেন, আমরা সাবিনাকে মারপিট করিনি। আমার ভাইতো সাবিনাকে তালাক দিয়েছে। 

মনির হোসেন গাজীর চাচা মো. হুমায়ুন কবীর জানান, দেশে আসার পর মনির তার স্ত্রী সাবিনাকে তালাক দিয়েছে। জনপ্রতিনিধিসহ গণ্যমান্য ব্যাক্তিরা শালিস করেছে। সাবিনা আদালতে মামলা করেছে। 

ইতনা ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. ফায়েক আলী খান জানান, সাবিনাকে মারপিট করেছে কিনা বলতে পারবো না। মনির হোসেন তার স্ত্রী সাবিনাকে তালাক দিয়েছেন শুনেছি। সাবিনা আদালতে মনিরের নামে মামলা করেছেন এতটুকু জানি।

হাগড়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান,সাবিনা ইয়াসমিন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। চিকিৎসা চলছে। 

লোহাগড়া থানার ওসি মো. আলমগীর হোসেন বলেন,অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা